ঢাকা ১২:৪২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ মার্চ ২০২৬

উত্তর কোরিয়ার কাছে ৫ গোলে হার বাংলাদেশের

এএফসি নারী এশিয়ান কাপের দ্বিতীয় ম্যাচে শক্তিশালী উত্তর কোরিয়ার কাছে ৫-০ গোলে বিধ্বস্ত হয়েছে বাংলাদেশ। 

সিডনির কমব্যাংক স্টেডিয়ামে শুক্রবার অনুষ্ঠিত ম্যাচে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত আধিপত্য দেখিয়েছে উত্তর কোরিয়া। প্রথম ম্যাচে ৯ বারের চ্যাম্পিয়ন চীনের বিপক্ষে লড়াই করলেও এদিন সেই লড়াকু চিত্র দেখা যায়নি বাংলাদেশের খেলায়। উল্টো ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ে নবম স্থানে থাকা উত্তর কোরিয়া প্রেসিং ও দ্রুত ওয়ান-টাচ ফুটবলে পুরো ম্যাচে বাংলাদেশকে চাপে রাখে।

এদিন বাংলাদেশ একাদশে দুটি পরিবর্তন নিয়ে মাঠে নামে। ডিফেন্সে অভিজ্ঞ শিউলি আজিম ও মিডফিল্ডার উমেহলা মারমা দলে ছিলেন না। তাদের জায়গায় সুযোগ পান তহুরা খাতুন ও আইরিন খাতুন।

ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে উত্তর কোরিয়া। একের পর এক আক্রমণে ব্যস্ত সময় কাটাতে হয় বাংলাদেশের রক্ষণভাগকে। ষষ্ঠ মিনিটে বক্সে ঢুকে ফাঁকা জায়গা থেকে জিন হংয়ের শট ডান দিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে কোনওমতে ঠেকান গোলরক্ষক মিলি আক্তার।

১৪ ও ২৭ মিনিটে উত্তর কোরিয়া বল জালে জড়ালেও ভিএআর দেখে দুটি গোলই বাতিল করা হয়। ৩৮ মিনিটে কিয়ং ইয়ংয়ের হেড ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে। এর কিছুক্ষণ পর হাং জিন হংয়ের শট অল্পের জন্য সাইডবার ঘেঁষে বাইরে যায়।

প্রথমার্ধের শেষ দিকে বাংলাদেশ দলে তিনটি পরিবর্তন আনা হয়। স্বপ্না, উমেহলা মারমা ও আনিকা রানিয়া সিদ্দিকী মাঠে নামেন। তবে তাতেও খেলার চিত্র বদলায়নি।

ম্যাচের একটি দৃশ্য। ম্যাচের একটি দৃশ্য। বিরতির ঠিক আগে পেনাল্টি পায় উত্তর কোরিয়া। অধিনায়ক আফঈদা খন্দকার বক্সে প্রতিপক্ষের একজনকে ফেলে দিলে লেবাননের রেফারি স্পটকিকের নির্দেশ দেন। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে মিয়ং ইয়ো জং সহজেই গোল করে দলকে এগিয়ে দেন। এর কিছুক্ষণ পর কিম ইয়ং ডান পায়ের শটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন। ২–০ গোলে পিছিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় বাংলাদেশ।

বিরতির পরও একই ধারায় খেলতে থাকে উত্তর কোরিয়া। ৬২ মিনিটে চে উন ইয়ং ফাঁকা জায়গা থেকে গোল করে ব্যবধান ৩–০ করেন। পরের মিনিটে কিম ইয়ং কিয়ংয়ের জোরালো শটে চতুর্থ গোল হজম করে বাংলাদেশ। ডান দিকে ঝাঁপিয়েও বল ঠেকাতে পারেননি গোলরক্ষক মিলি।

৬৯ মিনিটে হং সং ওকের শট মিলির গায়ে লেগে প্রতিহত হয়। তবে ম্যাচের শেষদিকে আরেকটি গোল হজম করতে হয় বাংলাদেশকে। ৯০ মিনিটে মিয়ং গুমের ক্রস থেকে হেড করে স্কোরলাইন ৫–০ করেন উত্তর কোরিয়ার এক ফরোয়ার্ড।

টানা দুই ম্যাচে হারলেও কোয়ার্টার ফাইনালের আশা এখনও পুরোপুরি শেষ হয়নি বাংলাদেশের। আগামী ৯ মার্চ পার্থে শেষ গ্রুপ ম্যাচে উজবেকিস্তানের মুখোমুখি হবে তারা। সেই ম্যাচে জয় পেলে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার সুযোগ তৈরি হতে পারে। ড্র হলে তখন হিসাব গড়াবে গোল ব্যবধানে। 

 

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

স্ত্রী-সন্তানকে হত্যার পর এক ব্যক্তির আত্মহত্যার অভিযোগ

উত্তর কোরিয়ার কাছে ৫ গোলে হার বাংলাদেশের

আপডেট সময় : ১০:৫৪:১৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৬ মার্চ ২০২৬

এএফসি নারী এশিয়ান কাপের দ্বিতীয় ম্যাচে শক্তিশালী উত্তর কোরিয়ার কাছে ৫-০ গোলে বিধ্বস্ত হয়েছে বাংলাদেশ। 

সিডনির কমব্যাংক স্টেডিয়ামে শুক্রবার অনুষ্ঠিত ম্যাচে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত আধিপত্য দেখিয়েছে উত্তর কোরিয়া। প্রথম ম্যাচে ৯ বারের চ্যাম্পিয়ন চীনের বিপক্ষে লড়াই করলেও এদিন সেই লড়াকু চিত্র দেখা যায়নি বাংলাদেশের খেলায়। উল্টো ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ে নবম স্থানে থাকা উত্তর কোরিয়া প্রেসিং ও দ্রুত ওয়ান-টাচ ফুটবলে পুরো ম্যাচে বাংলাদেশকে চাপে রাখে।

এদিন বাংলাদেশ একাদশে দুটি পরিবর্তন নিয়ে মাঠে নামে। ডিফেন্সে অভিজ্ঞ শিউলি আজিম ও মিডফিল্ডার উমেহলা মারমা দলে ছিলেন না। তাদের জায়গায় সুযোগ পান তহুরা খাতুন ও আইরিন খাতুন।

ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে উত্তর কোরিয়া। একের পর এক আক্রমণে ব্যস্ত সময় কাটাতে হয় বাংলাদেশের রক্ষণভাগকে। ষষ্ঠ মিনিটে বক্সে ঢুকে ফাঁকা জায়গা থেকে জিন হংয়ের শট ডান দিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে কোনওমতে ঠেকান গোলরক্ষক মিলি আক্তার।

১৪ ও ২৭ মিনিটে উত্তর কোরিয়া বল জালে জড়ালেও ভিএআর দেখে দুটি গোলই বাতিল করা হয়। ৩৮ মিনিটে কিয়ং ইয়ংয়ের হেড ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে। এর কিছুক্ষণ পর হাং জিন হংয়ের শট অল্পের জন্য সাইডবার ঘেঁষে বাইরে যায়।

প্রথমার্ধের শেষ দিকে বাংলাদেশ দলে তিনটি পরিবর্তন আনা হয়। স্বপ্না, উমেহলা মারমা ও আনিকা রানিয়া সিদ্দিকী মাঠে নামেন। তবে তাতেও খেলার চিত্র বদলায়নি।

ম্যাচের একটি দৃশ্য। ম্যাচের একটি দৃশ্য। বিরতির ঠিক আগে পেনাল্টি পায় উত্তর কোরিয়া। অধিনায়ক আফঈদা খন্দকার বক্সে প্রতিপক্ষের একজনকে ফেলে দিলে লেবাননের রেফারি স্পটকিকের নির্দেশ দেন। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে মিয়ং ইয়ো জং সহজেই গোল করে দলকে এগিয়ে দেন। এর কিছুক্ষণ পর কিম ইয়ং ডান পায়ের শটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন। ২–০ গোলে পিছিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় বাংলাদেশ।

বিরতির পরও একই ধারায় খেলতে থাকে উত্তর কোরিয়া। ৬২ মিনিটে চে উন ইয়ং ফাঁকা জায়গা থেকে গোল করে ব্যবধান ৩–০ করেন। পরের মিনিটে কিম ইয়ং কিয়ংয়ের জোরালো শটে চতুর্থ গোল হজম করে বাংলাদেশ। ডান দিকে ঝাঁপিয়েও বল ঠেকাতে পারেননি গোলরক্ষক মিলি।

৬৯ মিনিটে হং সং ওকের শট মিলির গায়ে লেগে প্রতিহত হয়। তবে ম্যাচের শেষদিকে আরেকটি গোল হজম করতে হয় বাংলাদেশকে। ৯০ মিনিটে মিয়ং গুমের ক্রস থেকে হেড করে স্কোরলাইন ৫–০ করেন উত্তর কোরিয়ার এক ফরোয়ার্ড।

টানা দুই ম্যাচে হারলেও কোয়ার্টার ফাইনালের আশা এখনও পুরোপুরি শেষ হয়নি বাংলাদেশের। আগামী ৯ মার্চ পার্থে শেষ গ্রুপ ম্যাচে উজবেকিস্তানের মুখোমুখি হবে তারা। সেই ম্যাচে জয় পেলে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার সুযোগ তৈরি হতে পারে। ড্র হলে তখন হিসাব গড়াবে গোল ব্যবধানে।