ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে অবিলম্বে রাষ্ট্রীয় ক্ষমা প্রদর্শনের জন্য দেশটির প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগের প্রতি কঠোর দাবি জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ট্রাম্পের মতে, দুর্নীতির মামলা নয় বরং নেতানিয়াহুর এখনকার একমাত্র মনোযোগ হওয়া উচিত ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধ। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরায়েল এ খবর জানিয়েছে।
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল ১২-কে দেওয়া এক টেলিফোন সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, প্রেসিডেন্ট হারজগকে আজই নেতানিয়াহুকে ক্ষমা করে দিতে হবে। ট্রাম্পের ভাষায়, ইরান যুদ্ধ ছাড়া অন্য কোনও বিষয় নিয়ে নেতানিয়াহু এই মুহূর্তে ব্যতিব্যস্ত থাকুন, তা তিনি চান না।
সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প ইসরায়েলি প্রেসিডেন্টকে ‘লজ্জাজনক’ হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি দাবি করেন, গত এক বছর ধরে তিনি হারজগের কাছে এই বিষয়টি তুলেছেন এবং হারজগ পাঁচবার তাকে কথা দিয়েছিলেন যে তিনি নেতানিয়াহুকে ক্ষমা করবেন। এই ক্ষমা না দেওয়া পর্যন্ত হারজগের সঙ্গে কোনও ধরনের বৈঠকে বসতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তবে প্রেসিডেন্টের এই দাবির বিপরীতে হারজগের পক্ষ থেকে ট্রাম্পের সঙ্গে দেখা করার কোনও প্রচেষ্টার খবর পাওয়া যায়নি।
ট্রাম্প আরও অভিযোগ করেন, হারজগ গত এক বছর ধরে এই ক্ষমার বিষয়টি ঝুলিয়ে রেখে নেতানিয়াহুকে চাপে রেখেছেন। এক মাসের কম সময়ের মধ্যে এই নিয়ে দ্বিতীয়বার হারজগকে আক্রমণ করলেন ট্রাম্প। এর আগে গত ফেব্রুয়ারিতেও তিনি বলেছিলেন, জালিয়াতি, ঘুষ এবং বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগে বিচারাধীন নেতানিয়াহুকে ক্ষমা না করায় হারজগের ‘লজ্জা পাওয়া উচিত’। যদিও ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী সময়টি এক বছর বলা হলেও, তিনি মূলত ২০২৫ সালের জুন মাস থেকে নেতানিয়াহুর ক্ষমার পক্ষে সওয়াল করছেন, যা এক বছরের কিছু কম সময়।
ট্রাম্পের এমন কড়া সমালোচনার জবাবে গত মাসে হারজগের কার্যালয় থেকে একটি বিবৃতি দেওয়া হয়েছিল। সেখানে মার্কিন প্রেসিডেন্টের দাবি নাকচ করে বলা হয়, ইসরায়েলি প্রেসিডেন্ট এখনও নেতানিয়াহুকে ক্ষমা করার বিষয়ে কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি।
বিবৃতিতে জানানো হয়, বিষয়টি এখনও দেশটির বিচার মন্ত্রণালয়ে পর্যালোচনাধীন। প্রেসিডেন্টের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে মন্ত্রণালয় থেকে আইনি মতামত আসা বাধ্যতামূলক। হারজগের কার্যালয় স্পষ্ট করে বলেছে, ‘প্রক্রিয়াটি শেষ হওয়ার পরই কেবল প্রেসিডেন্ট হারজগ আইন এবং ইসরায়েল রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ স্বার্থ বিবেচনা করে নিজের বিবেক অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেবেন। এক্ষেত্রে অভ্যন্তরীণ বা আন্তর্জাতিক কোনও ধরনের চাপই তার ওপর প্রভাব ফেলবে না।’
বিবৃতিতে ট্রাম্পের অবদানের প্রশংসা করা হলেও অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে ইঙ্গিত দেওয়া হয় যে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ইসরায়েলের সার্বভৌমত্বে হস্তক্ষেপ করার চেষ্টা করছেন। হারজগের কার্যালয় জোর দিয়ে বলেছে, ‘ইসরায়েল একটি সার্বভৌম রাষ্ট্র যা আইনের শাসনে পরিচালিত হয়’ এবং প্রেসিডেন্ট হারজগ এই সার্বভৌমত্ব ক্ষুণ্ণ হতে দেবেন না।
রিপোর্টারের নাম 





















