ঢাকা ০৯:৫৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ মার্চ ২০২৬

জবি সাংবাদিক সমিতিতে হামলার আগে রহস্যজনকভাবে বন্ধ সিসিটিভি

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:২৭:১৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ ২০২৬
  • ৩ বার পড়া হয়েছে

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যম্পাসের সব সিসিটিভি বন্ধ করে সাংবাদিক সমিতিতে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ হামলার ঘটনায় সমিতিতে অবস্থানরত বিভিন্ন গণমাধ্যমের ১০ সাংবাদিক গুরুতর আহত হন। 

সমিতিতে হামলার ঠিক পূর্ব মুহুর্তে শুধুমাত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কার্যালয়ের তিনটি সিসিটিভি ব্যতিত ক্যম্পাসের সকল সিসিটিভি বন্ধ করে দেওয়া হয়।

এ বিষয়ে সাংবাদিক সমিতির প্রধান উপদেষ্টা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. রেজাউল করিম বলেন, “বিষয়টি আমার নজরে এসেছে। আমি তাৎক্ষণিক আইটি পরিচালককে বলেছি। তিনি আমাকে জানিয়েছেন এটি টেকনিক্যাল সমস্যা হয়েছে।”  

এ বিষয়ে আইটি পরিচালক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ নাসির উদ্দিনের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে আইটির টেকনিশিয়ান সৈকত বলেন, “আমি শুনেছি ফাইবার তার কেটে যাওয়ায় সকল সিসিটিভির সংযোগ লাইন কেটে যায়।”  

আরেক টেকনিশিয়ান শামিম বলেন, “হঠাৎ করে দুপুর একটার কিছুক্ষণ পরে ক্যম্পাসের সব সিসিটিভি বন্ধ হয়ে যায়। পরে আমি খোঁজ নিয়ে জানতে পারি বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্ডারগ্রাউন্ডে সিসিটিভি মূল ফাইভার কেটে দেওয়া হয়েছে৷ এখন তা ঠিক করার চেষ্টা করছি।”  

এর আগে দুপুরে হামলা শুরুর আগ মুহুর্তে শুধুমাত্র উপাচার্য দফতরের সিসিটিভির ফুটেজ ব্যতীত ক্যম্পাসের সব সিসিটিভি বন্ধ করে দেওয়া হয়। 

এ বিষয়ে সাংবাদিক সমিতি সাধারন সম্পাদক মাহতাব লিমন বলেন, “সমিতিতে হামলার পর আমি উপাচার্যের কার্যালয়ে গেলে সেখানে স্ক্রিনে দেখতে পাই ক্যাম্পাসের সকল সিসিটিভির ফুটেজ বন্ধ দেখতে পাই। তখনই আমি উপাচার্যকে জিজ্ঞেস করি সিসিটিভির ফুটেজ কেন বন্ধ। তখন উপাচার্য কোন সদুত্তর দিতে পারেননি। পরে খোঁজ নিয়ে জানতে পারলাম সমিতিতে হামলার কিছুক্ষণ পূর্বেই ক্যম্পাসের সব সিসিটিভি বন্ধ। তার মানে আমরা কি ধরে নিতে পারি, সমিতিতে এ হামলার ঘটনায় প্রশাসনেরও কেউ কেউ জড়িত ছিলো?” 

এদিকে হামলার জন্য দায়ী হিসেবে অভিযোগ উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের বিরুদ্ধে। তবে হামলার বিষয় জানতে চাইলে শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল অস্বীকার করে বলেন, “আমরা কেউ হামলার সঙ্গে জড়িত না।” তিন আরও বলেন, “আমরা কেউ সমিতির অফিসে যাইনি। জুনিয়র কেউ কেউ যেতে পারে।”  

উল্লেখ্য, সাংবাদিক সমিতির নির্বাচন-২০২৬ উপলক্ষে গত ২৬ নভেম্বর থেকে ৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত সদস্য আহ্বান করা হয়। পরবর্তীতে ৩ ফেব্রুয়ারী নির্বাচন সম্পন্ন করার লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দফতরের পরিচালক অধ্যাপক ড. আনওয়ারুস সালাম, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. আশরাফুল আলম এবং ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির দপ্তর সম্পাদক ও দৈনিক মানবজমিন পত্রিকার সিনিয়র রিপোর্টার মো. রাশিম মোল্লাকে নিয়ে তিন সদস্যের নির্বাচন কমিশন গঠন করা হয়।

পরবর্তীতে সমিতির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী গত ২ মার্চ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে কমিশন। এরই অংশ হিসেবে আজ মনোনয়নপত্র উত্তোলন ও জমা দেওয়ার তারিখ নির্ধারিত ছিল। 

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জবি সাংবাদিক সমিতিতে হামলার আগে রহস্যজনকভাবে বন্ধ সিসিটিভি

আপডেট সময় : ০৮:২৭:১৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ ২০২৬

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যম্পাসের সব সিসিটিভি বন্ধ করে সাংবাদিক সমিতিতে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ হামলার ঘটনায় সমিতিতে অবস্থানরত বিভিন্ন গণমাধ্যমের ১০ সাংবাদিক গুরুতর আহত হন। 

সমিতিতে হামলার ঠিক পূর্ব মুহুর্তে শুধুমাত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কার্যালয়ের তিনটি সিসিটিভি ব্যতিত ক্যম্পাসের সকল সিসিটিভি বন্ধ করে দেওয়া হয়।

এ বিষয়ে সাংবাদিক সমিতির প্রধান উপদেষ্টা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. রেজাউল করিম বলেন, “বিষয়টি আমার নজরে এসেছে। আমি তাৎক্ষণিক আইটি পরিচালককে বলেছি। তিনি আমাকে জানিয়েছেন এটি টেকনিক্যাল সমস্যা হয়েছে।”  

এ বিষয়ে আইটি পরিচালক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ নাসির উদ্দিনের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে আইটির টেকনিশিয়ান সৈকত বলেন, “আমি শুনেছি ফাইবার তার কেটে যাওয়ায় সকল সিসিটিভির সংযোগ লাইন কেটে যায়।”  

আরেক টেকনিশিয়ান শামিম বলেন, “হঠাৎ করে দুপুর একটার কিছুক্ষণ পরে ক্যম্পাসের সব সিসিটিভি বন্ধ হয়ে যায়। পরে আমি খোঁজ নিয়ে জানতে পারি বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্ডারগ্রাউন্ডে সিসিটিভি মূল ফাইভার কেটে দেওয়া হয়েছে৷ এখন তা ঠিক করার চেষ্টা করছি।”  

এর আগে দুপুরে হামলা শুরুর আগ মুহুর্তে শুধুমাত্র উপাচার্য দফতরের সিসিটিভির ফুটেজ ব্যতীত ক্যম্পাসের সব সিসিটিভি বন্ধ করে দেওয়া হয়। 

এ বিষয়ে সাংবাদিক সমিতি সাধারন সম্পাদক মাহতাব লিমন বলেন, “সমিতিতে হামলার পর আমি উপাচার্যের কার্যালয়ে গেলে সেখানে স্ক্রিনে দেখতে পাই ক্যাম্পাসের সকল সিসিটিভির ফুটেজ বন্ধ দেখতে পাই। তখনই আমি উপাচার্যকে জিজ্ঞেস করি সিসিটিভির ফুটেজ কেন বন্ধ। তখন উপাচার্য কোন সদুত্তর দিতে পারেননি। পরে খোঁজ নিয়ে জানতে পারলাম সমিতিতে হামলার কিছুক্ষণ পূর্বেই ক্যম্পাসের সব সিসিটিভি বন্ধ। তার মানে আমরা কি ধরে নিতে পারি, সমিতিতে এ হামলার ঘটনায় প্রশাসনেরও কেউ কেউ জড়িত ছিলো?” 

এদিকে হামলার জন্য দায়ী হিসেবে অভিযোগ উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের বিরুদ্ধে। তবে হামলার বিষয় জানতে চাইলে শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল অস্বীকার করে বলেন, “আমরা কেউ হামলার সঙ্গে জড়িত না।” তিন আরও বলেন, “আমরা কেউ সমিতির অফিসে যাইনি। জুনিয়র কেউ কেউ যেতে পারে।”  

উল্লেখ্য, সাংবাদিক সমিতির নির্বাচন-২০২৬ উপলক্ষে গত ২৬ নভেম্বর থেকে ৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত সদস্য আহ্বান করা হয়। পরবর্তীতে ৩ ফেব্রুয়ারী নির্বাচন সম্পন্ন করার লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দফতরের পরিচালক অধ্যাপক ড. আনওয়ারুস সালাম, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. আশরাফুল আলম এবং ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির দপ্তর সম্পাদক ও দৈনিক মানবজমিন পত্রিকার সিনিয়র রিপোর্টার মো. রাশিম মোল্লাকে নিয়ে তিন সদস্যের নির্বাচন কমিশন গঠন করা হয়।

পরবর্তীতে সমিতির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী গত ২ মার্চ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে কমিশন। এরই অংশ হিসেবে আজ মনোনয়নপত্র উত্তোলন ও জমা দেওয়ার তারিখ নির্ধারিত ছিল।