প্রতারণা ও বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগে দায়ের করা একটি মামলায় টয়োটা বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ তিন শীর্ষ কর্মকর্তা আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন লাভ করেছেন। বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম-এর আদালতে আইনজীবীর মাধ্যমে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন তারা। শুনানি শেষে আদালত প্রত্যেককে এক হাজার টাকা মুচলেকায় জামিন মঞ্জুর করেন এবং মামলাটি বিচারের জন্য বদলির আদেশ দেন।
জামিনপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা হলেন—টয়োটা বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মালয়েশিয়ার নাগরিক প্রেমিত সিং, টয়োটা টুশো এশিয়া প্যাসিফিক-এর ভাইস প্রেসিডেন্ট জাপানি নাগরিক আকিও ওগাওয়া এবং টয়োটা টুশো কর্পোরেশনের জেনারেল ম্যানেজার আসিফ রহমান। সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী আশুতোষ ভৌমিক এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
আদালত সূত্র জানায়, নাভানা লিমিটেডের ব্যবসায়িক স্বার্থ ক্ষুণ্ন করার অভিযোগে ২০২৫ সালের ৯ জুলাই প্রতিষ্ঠানটির পক্ষে শফিউল ইসলাম বাদী হয়ে এই মামলা দায়ের করেন। সেদিন বাদীর জবানবন্দি রেকর্ড করে অভিযোগ তদন্তের নির্দেশ দেয় আদালত।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, বাংলাদেশে জাপানি গাড়ি নির্মাতা টয়োটা টুশো কর্পোরেশনের দীর্ঘদিনের ব্যবসায়িক অংশীদার ও একক ডিস্ট্রিবিউটর নাভানা লিমিটেডের বিরুদ্ধে অভিযুক্তরা পরিকল্পিতভাবে বাজার পরিস্থিতি ও কর্মদক্ষতা নিয়ে মিথ্যা ও পক্ষপাতদুষ্ট প্রতিবেদন উপস্থাপন করে তাদের ব্যবসায়িক সক্ষমতা ও সুনাম ক্ষুণ্ন করেছেন।
তদন্তে আরও উঠে আসে যে, অভিযুক্তরা গ্রাহকদের অর্ডার করা যানবাহনের উৎপাদন ইচ্ছাকৃতভাবে বিলম্বিত করেছেন। পাশাপাশি কাস্টমস ক্লিয়ারেন্সের জন্য প্রয়োজনীয় ‘ম্যানুফ্যাকচারার ইনভয়েস’ সরবরাহ না করে নাভানার স্বাভাবিক আমদানি ও সরবরাহ প্রক্রিয়ায় বাধা সৃষ্টি করেন। এর ফলে নাভানা লিমিটেড আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়, সুনাম ক্ষুণ্ন হয় এবং কাস্টমস-সংক্রান্ত জটিলতা ও জরিমানার ঝুঁকিতে পড়ে।
এর আগে গত ৮ ডিসেম্বর পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) এর তদন্ত কর্মকর্তা ইন্সপেক্টর সৈয়দ সাজেদুর রহমান অভিযোগের সত্যতা পেয়ে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। গত ৮ ফেব্রুয়ারি একই আদালত পিবিআইয়ের দাখিল করা তদন্ত প্রতিবেদন আমলে নিয়ে আসামিদের আদালতে হাজির হতে সমন জারি করেন।
রিপোর্টারের নাম 






















