ঢাকা ০৪:৩৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ মার্চ ২০২৬

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ‘ইঞ্জিনিয়ারিং’ অভিযোগ: রিজওয়ানাকে জিজ্ঞাসাবাদের দাবি তাহেরের

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০২:৪৪:১৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ তুলে অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসানকে জিজ্ঞাসাবাদের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ও বিরোধী দলীয় উপনেতা সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের। বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) সফররত মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পল কাপুরের সঙ্গে বৈঠক শেষে মগবাজারে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে তিনি এ দাবি জানান।

এ সময় দলের সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার, রফিকুল ইসলাম খান এমপি, সাইফুল আলম খান মিলন এমপি ও অ্যাডভোকেট শিশির মোহাম্মদ মনিরসহ কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

ডা. তাহের বলেন, সম্প্রতি একটি গণমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রিজওয়ানা হাসান যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা ১৩তম সংসদ নির্বাচনে ‘ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের’ ইঙ্গিত দেয়। তিনি বলেছিলেন, ‘যারা নারীর মর্যাদা নিশ্চিত করতে পারেনি, তাদের মূলধারায় আসতে দেওয়া হয়নি এবং বিরোধী আসনে রাখা হয়েছে।’ তাহেরের ভাষ্যমতে, এর অর্থ হলো তাদের ক্ষমতায় আসতে দেওয়া হয়নি।

জামায়াতের এই নেতা দাবি করেন, নির্বাচনে এই ‘ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের’ সঙ্গে আর কারা জড়িত ছিলেন, তা জানতে রিজওয়ানা হাসানকে জিজ্ঞাসাবাদ করা জরুরি। এর মাধ্যমে পুরো সরকার নাকি সরকারের একটি শক্তিশালী অংশ জড়িত ছিল, তা দেশবাসীর সামনে স্পষ্ট হবে।

তিনি অভিযোগ করেন, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন বাহ্যিকভাবে মোটামুটি গ্রহণযোগ্য মনে হলেও সন্ধ্যার পর থেকেই বিভিন্ন অনিয়ম, কারচুপি ও জালভোটের অভিযোগ উঠতে থাকে। একটি বিশেষ দলকে ক্ষমতায় আনতে পরিকল্পিতভাবে ডিসি, এসপি, ইউএনও ও প্রিসাইডিং অফিসার নিয়োগ দেওয়া হয় এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা হয়। অনেক জায়গায় তাদের এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। ইতোমধ্যে ৫৩টি আসন নিয়ে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জমা দেওয়া হয়েছে এবং সেই ভিত্তিতে আইনি লড়াই চলমান।

ডা. তাহের আরও বলেন, গণভোটে জনগণ সংস্কারের পক্ষে রায় দিলেও সরকার সেই প্রক্রিয়া থেকে সরে এসে জনস্বার্থবিরোধী বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছে। ডেপুটি স্পিকার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সংবিধান অনুযায়ী সরকারের পক্ষ থেকে লিখিত প্রস্তাব পেলে জামায়াত বিষয়টি বিবেচনা করবে। তবে সে ক্ষেত্রে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিতে হবে।

বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান ‘লন্ডন ষড়যন্ত্রের’ মূলহোতা ছিলেন এবং অন্তর্বর্তী সরকারের ভেতর থেকেই নানা ষড়যন্ত্র করেছেন বলেও অভিযোগ করেন ডা. তাহের। সারাদেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে, যা সরকারের চরম ব্যর্থতা বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

আলোচিত ছাত্রনেতা রিয়াদ হত্যাচেষ্টা মামলায় রিমান্ডে, জামিন পেলেন ৩ সহ-অভিযুক্ত

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ‘ইঞ্জিনিয়ারিং’ অভিযোগ: রিজওয়ানাকে জিজ্ঞাসাবাদের দাবি তাহেরের

আপডেট সময় : ০২:৪৪:১৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ ২০২৬

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ তুলে অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসানকে জিজ্ঞাসাবাদের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ও বিরোধী দলীয় উপনেতা সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের। বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) সফররত মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পল কাপুরের সঙ্গে বৈঠক শেষে মগবাজারে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে তিনি এ দাবি জানান।

এ সময় দলের সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার, রফিকুল ইসলাম খান এমপি, সাইফুল আলম খান মিলন এমপি ও অ্যাডভোকেট শিশির মোহাম্মদ মনিরসহ কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

ডা. তাহের বলেন, সম্প্রতি একটি গণমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রিজওয়ানা হাসান যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা ১৩তম সংসদ নির্বাচনে ‘ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের’ ইঙ্গিত দেয়। তিনি বলেছিলেন, ‘যারা নারীর মর্যাদা নিশ্চিত করতে পারেনি, তাদের মূলধারায় আসতে দেওয়া হয়নি এবং বিরোধী আসনে রাখা হয়েছে।’ তাহেরের ভাষ্যমতে, এর অর্থ হলো তাদের ক্ষমতায় আসতে দেওয়া হয়নি।

জামায়াতের এই নেতা দাবি করেন, নির্বাচনে এই ‘ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের’ সঙ্গে আর কারা জড়িত ছিলেন, তা জানতে রিজওয়ানা হাসানকে জিজ্ঞাসাবাদ করা জরুরি। এর মাধ্যমে পুরো সরকার নাকি সরকারের একটি শক্তিশালী অংশ জড়িত ছিল, তা দেশবাসীর সামনে স্পষ্ট হবে।

তিনি অভিযোগ করেন, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন বাহ্যিকভাবে মোটামুটি গ্রহণযোগ্য মনে হলেও সন্ধ্যার পর থেকেই বিভিন্ন অনিয়ম, কারচুপি ও জালভোটের অভিযোগ উঠতে থাকে। একটি বিশেষ দলকে ক্ষমতায় আনতে পরিকল্পিতভাবে ডিসি, এসপি, ইউএনও ও প্রিসাইডিং অফিসার নিয়োগ দেওয়া হয় এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা হয়। অনেক জায়গায় তাদের এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। ইতোমধ্যে ৫৩টি আসন নিয়ে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জমা দেওয়া হয়েছে এবং সেই ভিত্তিতে আইনি লড়াই চলমান।

ডা. তাহের আরও বলেন, গণভোটে জনগণ সংস্কারের পক্ষে রায় দিলেও সরকার সেই প্রক্রিয়া থেকে সরে এসে জনস্বার্থবিরোধী বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছে। ডেপুটি স্পিকার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সংবিধান অনুযায়ী সরকারের পক্ষ থেকে লিখিত প্রস্তাব পেলে জামায়াত বিষয়টি বিবেচনা করবে। তবে সে ক্ষেত্রে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিতে হবে।

বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান ‘লন্ডন ষড়যন্ত্রের’ মূলহোতা ছিলেন এবং অন্তর্বর্তী সরকারের ভেতর থেকেই নানা ষড়যন্ত্র করেছেন বলেও অভিযোগ করেন ডা. তাহের। সারাদেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে, যা সরকারের চরম ব্যর্থতা বলেও তিনি উল্লেখ করেন।