ঢাকা ১১:৩৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ মার্চ ২০২৬

জনসেবা স্থবির বরিশালে: নির্বাচিত প্রতিনিধি শূন্যতায় চরম দুর্ভোগে নগরবাসী

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১০:১২:০০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ও অধিকাংশ কাউন্সিলরের আত্মগোপনে চলে যাওয়ায় নাগরিক সেবা ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। গত ১৯ আগস্ট বিভাগীয় কমিশনারকে সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসকের দায়িত্ব দেওয়া হলেও, নির্বাচিত প্রতিনিধিদের অনুপস্থিতি এবং আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় জন্মনিবন্ধন, মৃত্যুসনদ, নাগরিকত্ব সনদসহ অন্যান্য মৌলিক সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বরিশালবাসী। প্রতিদিনের দাপ্তরিক কাজের পাশাপাশি নগরবাসীর সেবা দিতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন নিয়োগপ্রাপ্ত প্রশাসকরা, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে সাধারণ নাগরিকদের ওপর।

সিটিজেন চার্টার অনুযায়ী, ওয়ার্ড কাউন্সিলর কার্যালয় থেকে বিভিন্ন সনদ ও প্রত্যয়নপত্র সরবরাহ করা হয়। এছাড়া মশক নিধন, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম তদারকি এবং টিসিবি পণ্য বিতরণের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজও কাউন্সিলরদের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। কিন্তু রাজনৈতিক অস্থিরতা ও মামলার কারণে সিটি কর্পোরেশনের ১৪টি ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আত্মগোপনে, একজন কাউন্সিলর আগুনে পুড়ে মারা গেছেন এবং আরও অনেকে মামলার আসামি হওয়ায় ওয়ার্ড কার্যালয়গুলো কার্যত বন্ধ। ফলে এসব গুরুত্বপূর্ণ সেবা পেতে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন নগরবাসী।

প্রশাসকদের ব্যর্থতা ও নাগরিক অসন্তোষ
বর্তমান পরিস্থিতিতে একজন মেয়র, ৩০ জন সাধারণ এবং ১০ জন সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলরের পরিবর্তে প্রথম শ্রেণির ২০ জন সরকারি কর্মকর্তাকে প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তাদের মূল দাপ্তরিক কাজের চাপ সামলে নগরবাসীকে সেবা দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। একজন জনপ্রতিনিধি যে সেবা দ্রুত সময়ে দিতে পারতেন, তা পেতে এখন দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে। অনেক নাগরিক অভিযোগ করছেন, প্রশাসকদের কার্যালয়ে প্রবেশ করাও তাদের জন্য দুঃসাধ্য। এতে নাগরিক সেবা কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে জরুরি সনদপত্র পেতে মানুষ দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন। অনেক ক্ষেত্রে তারা বাধ্য হয়ে সাবেক কাউন্সিলরদের দ্বারস্থ হচ্ছেন। নাগরিকদের দাবি, দ্রুত নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত অন্তত আগের নির্বাচিত কাউন্সিলরদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হোক, যাতে ভোগান্তি কিছুটা কমে।

সিটি কর্পোরেশন সূত্র জানায়, ২০২২ সালের ১ জানুয়ারি থেকে নাগরিকদের সুবিধার জন্য ওয়ার্ড কাউন্সিলর কার্যালয় থেকে জন্মনিবন্ধন, মৃত্যুসনদ ও নাগরিকত্ব সনদসহ বিভিন্ন সেবা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছিল। এজন্য সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের কাউন্সিলরদের সার্ভারের আইডি ও পাসওয়ার্ডও দেওয়া হয়। কিন্তু গত ৫ আগস্টের পর থেকে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের জেরে কাউন্সিলরদের আত্মগোপন ও কার্যালয় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এই ব্যবস্থা মুখ থুবড়ে পড়েছে। বিক্ষুব্ধ লোকজনের হাতে কয়েকজন কাউন্সিলরের কার্যালয় পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।

জনপ্রতিনিধি বনাম প্রশাসক: নাগরিকের অভিজ্ঞতা
নগরীর কালু খাঁ বাড়ির বাসিন্দা মিরাজুল ইসলাম জানান, তার ছেলের স্কুলে ভর্তির জন্য জন্মনিবন্ধন সনদের প্রয়োজন ছিল। তার ওয়ার্ডের দায়িত্বে থাকা প্রশাসক এক সপ্তাহ ঘোরার পর দেখা দিলেও সনদ আনতে লেগে যায় এক মাস। তিনি বলেন, “জনপ্রতিনিধিদের কাছে সরাসরি সমস্যার কথা বলা যায়, তারা দ্রুত সমাধান দেন। কিন্তু প্রশাসকরা সরকারি কর্মকর্তা হওয়ায় তাদের কাছে যাওয়া কঠিন, কথা বলা আরও কঠিন।” একই ধরনের ভোগান্তির কথা জানিয়েছেন ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা পুষ্প চক্রবর্তী। নাগরিক সনদের জন্য এক মাস ঘুরেও প্রশাসকের কক্ষে প্রবেশ করতে না পারায় শেষ পর্যন্ত তিনি সাবেক কাউন্সিলরের মাধ্যমে সনদ সংগ্রহ করেন।

সাবেক কাউন্সিলর সৈয়দ হুমায়ুন কবির লিংকু, ফিরোজ আহমেদ ও হুমায়ুন কবির জানান, প্রশাসকদের মূল কাজের পাশাপাশি নাগরিক সেবা দিতে হয়, যা তাদের পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। তাদের প্রটোকল ও দাপ্তরিক ব্যস্ততার কারণে সাধারণ মানুষ তাদের কাছে পৌঁছাতে পারছে না। বিভিন্ন জরুরি সেবা, নগরীর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও বাতি জ্বালানোর মতো মৌলিক কাজগুলোও স্থবির হয়ে আছে।

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক রফিকুল আলম এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য দ্রুত নির্বাচন অথবা আগের কাউন্সিলরদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।

সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রেজাউল বারী স্বীকার করেছেন, বর্তমান প্রশাসকদের পক্ষে নাগরিকদের শতভাগ সেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না, তবে তারা চেষ্টা করছেন।

মশার উপদ্রব ও নগর কর্তৃপক্ষের তৎপরতা
নাগরিক সেবার এই সংকটকালে বরিশাল নগরীতে মশার উপদ্রবও বেড়েছে অস্বাভাবিক হারে। শুষ্ক মৌসুমে মশার এই বিস্তারে ডেঙ্গুর ঝুঁকিও বাড়ছে। যদিও সিটি কর্পোরেশন মশা নিয়ন্ত্রণে ‘ক্র্যাশ প্রোগ্রাম’ শুরু করেছে, নগরবাসী বলছেন এর সুফল এখনো মিলছে না। নদী, খাল ও বিলের পানিপ্রবাহ কমে যাওয়ায় মশার বংশবিস্তারের অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছে নগর কর্তৃপক্ষ। ১২টি জরুরি দল গঠন করে নতুন ভ্যারাইটির ওষুধ প্রয়োগ করা হলেও, সমস্যার স্থায়ী সমাধানে হিমশিম খাচ্ছে সিটি কর্পোরেশন। পরিচ্ছন্নতা বিভাগের কর্মকর্তা স্বপন কুমার দাস জানান, প্রতিদিন ২০০ লিটার অ্যাডাল্টিসাইড ও ২০ লিটার লার্ভিসাইড ব্যবহার করা হচ্ছে, কিন্তু অনুকূল পরিবেশের কারণে স্থায়ী সমাধান কঠিন।

সব মিলিয়ে, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের অনুপস্থিতি এবং প্রশাসনিক দুর্বলতা বরিশাল নগরবাসীর জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলেছে। দ্রুত একটি কার্যকর সমাধান না হলে এই জনদুর্ভোগ আরও বাড়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

শাহজালালে আরও ৩৪ ফ্লাইট বাতিল, ছয় দিনে ২১০

জনসেবা স্থবির বরিশালে: নির্বাচিত প্রতিনিধি শূন্যতায় চরম দুর্ভোগে নগরবাসী

আপডেট সময় : ১০:১২:০০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ ২০২৬

রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ও অধিকাংশ কাউন্সিলরের আত্মগোপনে চলে যাওয়ায় নাগরিক সেবা ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। গত ১৯ আগস্ট বিভাগীয় কমিশনারকে সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসকের দায়িত্ব দেওয়া হলেও, নির্বাচিত প্রতিনিধিদের অনুপস্থিতি এবং আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় জন্মনিবন্ধন, মৃত্যুসনদ, নাগরিকত্ব সনদসহ অন্যান্য মৌলিক সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বরিশালবাসী। প্রতিদিনের দাপ্তরিক কাজের পাশাপাশি নগরবাসীর সেবা দিতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন নিয়োগপ্রাপ্ত প্রশাসকরা, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে সাধারণ নাগরিকদের ওপর।

সিটিজেন চার্টার অনুযায়ী, ওয়ার্ড কাউন্সিলর কার্যালয় থেকে বিভিন্ন সনদ ও প্রত্যয়নপত্র সরবরাহ করা হয়। এছাড়া মশক নিধন, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম তদারকি এবং টিসিবি পণ্য বিতরণের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজও কাউন্সিলরদের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। কিন্তু রাজনৈতিক অস্থিরতা ও মামলার কারণে সিটি কর্পোরেশনের ১৪টি ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আত্মগোপনে, একজন কাউন্সিলর আগুনে পুড়ে মারা গেছেন এবং আরও অনেকে মামলার আসামি হওয়ায় ওয়ার্ড কার্যালয়গুলো কার্যত বন্ধ। ফলে এসব গুরুত্বপূর্ণ সেবা পেতে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন নগরবাসী।

প্রশাসকদের ব্যর্থতা ও নাগরিক অসন্তোষ
বর্তমান পরিস্থিতিতে একজন মেয়র, ৩০ জন সাধারণ এবং ১০ জন সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলরের পরিবর্তে প্রথম শ্রেণির ২০ জন সরকারি কর্মকর্তাকে প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তাদের মূল দাপ্তরিক কাজের চাপ সামলে নগরবাসীকে সেবা দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। একজন জনপ্রতিনিধি যে সেবা দ্রুত সময়ে দিতে পারতেন, তা পেতে এখন দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে। অনেক নাগরিক অভিযোগ করছেন, প্রশাসকদের কার্যালয়ে প্রবেশ করাও তাদের জন্য দুঃসাধ্য। এতে নাগরিক সেবা কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে জরুরি সনদপত্র পেতে মানুষ দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন। অনেক ক্ষেত্রে তারা বাধ্য হয়ে সাবেক কাউন্সিলরদের দ্বারস্থ হচ্ছেন। নাগরিকদের দাবি, দ্রুত নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত অন্তত আগের নির্বাচিত কাউন্সিলরদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হোক, যাতে ভোগান্তি কিছুটা কমে।

সিটি কর্পোরেশন সূত্র জানায়, ২০২২ সালের ১ জানুয়ারি থেকে নাগরিকদের সুবিধার জন্য ওয়ার্ড কাউন্সিলর কার্যালয় থেকে জন্মনিবন্ধন, মৃত্যুসনদ ও নাগরিকত্ব সনদসহ বিভিন্ন সেবা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছিল। এজন্য সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের কাউন্সিলরদের সার্ভারের আইডি ও পাসওয়ার্ডও দেওয়া হয়। কিন্তু গত ৫ আগস্টের পর থেকে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের জেরে কাউন্সিলরদের আত্মগোপন ও কার্যালয় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এই ব্যবস্থা মুখ থুবড়ে পড়েছে। বিক্ষুব্ধ লোকজনের হাতে কয়েকজন কাউন্সিলরের কার্যালয় পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।

জনপ্রতিনিধি বনাম প্রশাসক: নাগরিকের অভিজ্ঞতা
নগরীর কালু খাঁ বাড়ির বাসিন্দা মিরাজুল ইসলাম জানান, তার ছেলের স্কুলে ভর্তির জন্য জন্মনিবন্ধন সনদের প্রয়োজন ছিল। তার ওয়ার্ডের দায়িত্বে থাকা প্রশাসক এক সপ্তাহ ঘোরার পর দেখা দিলেও সনদ আনতে লেগে যায় এক মাস। তিনি বলেন, “জনপ্রতিনিধিদের কাছে সরাসরি সমস্যার কথা বলা যায়, তারা দ্রুত সমাধান দেন। কিন্তু প্রশাসকরা সরকারি কর্মকর্তা হওয়ায় তাদের কাছে যাওয়া কঠিন, কথা বলা আরও কঠিন।” একই ধরনের ভোগান্তির কথা জানিয়েছেন ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা পুষ্প চক্রবর্তী। নাগরিক সনদের জন্য এক মাস ঘুরেও প্রশাসকের কক্ষে প্রবেশ করতে না পারায় শেষ পর্যন্ত তিনি সাবেক কাউন্সিলরের মাধ্যমে সনদ সংগ্রহ করেন।

সাবেক কাউন্সিলর সৈয়দ হুমায়ুন কবির লিংকু, ফিরোজ আহমেদ ও হুমায়ুন কবির জানান, প্রশাসকদের মূল কাজের পাশাপাশি নাগরিক সেবা দিতে হয়, যা তাদের পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। তাদের প্রটোকল ও দাপ্তরিক ব্যস্ততার কারণে সাধারণ মানুষ তাদের কাছে পৌঁছাতে পারছে না। বিভিন্ন জরুরি সেবা, নগরীর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও বাতি জ্বালানোর মতো মৌলিক কাজগুলোও স্থবির হয়ে আছে।

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক রফিকুল আলম এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য দ্রুত নির্বাচন অথবা আগের কাউন্সিলরদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।

সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রেজাউল বারী স্বীকার করেছেন, বর্তমান প্রশাসকদের পক্ষে নাগরিকদের শতভাগ সেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না, তবে তারা চেষ্টা করছেন।

মশার উপদ্রব ও নগর কর্তৃপক্ষের তৎপরতা
নাগরিক সেবার এই সংকটকালে বরিশাল নগরীতে মশার উপদ্রবও বেড়েছে অস্বাভাবিক হারে। শুষ্ক মৌসুমে মশার এই বিস্তারে ডেঙ্গুর ঝুঁকিও বাড়ছে। যদিও সিটি কর্পোরেশন মশা নিয়ন্ত্রণে ‘ক্র্যাশ প্রোগ্রাম’ শুরু করেছে, নগরবাসী বলছেন এর সুফল এখনো মিলছে না। নদী, খাল ও বিলের পানিপ্রবাহ কমে যাওয়ায় মশার বংশবিস্তারের অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছে নগর কর্তৃপক্ষ। ১২টি জরুরি দল গঠন করে নতুন ভ্যারাইটির ওষুধ প্রয়োগ করা হলেও, সমস্যার স্থায়ী সমাধানে হিমশিম খাচ্ছে সিটি কর্পোরেশন। পরিচ্ছন্নতা বিভাগের কর্মকর্তা স্বপন কুমার দাস জানান, প্রতিদিন ২০০ লিটার অ্যাডাল্টিসাইড ও ২০ লিটার লার্ভিসাইড ব্যবহার করা হচ্ছে, কিন্তু অনুকূল পরিবেশের কারণে স্থায়ী সমাধান কঠিন।

সব মিলিয়ে, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের অনুপস্থিতি এবং প্রশাসনিক দুর্বলতা বরিশাল নগরবাসীর জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলেছে। দ্রুত একটি কার্যকর সমাধান না হলে এই জনদুর্ভোগ আরও বাড়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।