ঢাকা ১০:৩৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬

যেগুলো উচিত মনে করছি, সেগুলো ফের তদন্তের নির্দেশ দিচ্ছি: চিফ প্রসিকিউটর

যেগুলোর তদন্ত মনে হচ্ছে আবারও হওয়া উচিত, সেগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট তদন্ত কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।

বুধবার (৪ মার্চ) ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে রামপুরায় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় নির্ধারিত রায় ঘোষণা পেছানোর কারণ জানাতে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়েছিলেন চিফ প্রসিকিউটর।

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, মামলার যেকোনও পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ বাদ পড়ে গেলে তা অ্যাডিশনাল এভিডেন্স হিসেবে উপস্থাপনের সুযোগ রয়েছে প্রসিকিউশনের। ট্রাইব্যুনাল আইনই এ সুযোগ দিয়েছে।

তিনি বলেন, এই ট্রাইব্যুনালে যোগদানের পর আমি প্রত্যেকটি মামলা আলাদাভাবে পর্যবেক্ষণ করছি। যেসব মামলার তদন্ত সঠিকভাবে হয়েছে বলে মনে হচ্ছে, সেগুলো স্ব স্ব প্রসিকিউটরকে সেভাবে চালানোর নির্দেশ দিচ্ছি। যেগুলোর তদন্ত মনে হচ্ছে আবারও হওয়া উচিত, সেগুলো সংশ্লিষ্ট তদন্ত কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দিচ্ছি।

তিনি বলেন, রামপুরার মামলাটি আমার যোগদানের আগেই রায়ের জন্য দিন নির্ধারিত হয়েছিল। কিন্তু মামলাটি পর্যালোচনা করতে গিয়ে দেখি, আসামি চঞ্চল চন্দ্র সরকারের একটি ভিডিও রেকর্ডিং রয়েছে, যেখানে তিনি কীভাবে গুলি করেছেন, কার নির্দেশে করেছেন— সেসব বিষয়ে সরাসরি স্বীকার করছেন। অত্যন্ত শক্তিশালী এই প্রমাণটি এভিডেন্সে আনা হয়নি। এজন্য এটি আমাদের দেওয়া প্রয়োজন। বিষয়টি সম্প্রতি নজরে এসেছে। তাই ন্যায়বিচারের স্বার্থে ট্রাইব্যুনালের কাছে আবেদন করা হয়েছে, যেন ভিডিওটি মামলায় সংযুক্ত করে উপস্থাপন করা যায়। এজন্য চার সপ্তাহ সময় চাওয়া হয়েছে। ট্রাইব্যুনাল আগামী ৯ এপ্রিল পর্যন্ত সময় দিয়েছেন।

আমিনুল ইসলাম বলেন, নতুন করে সাক্ষ্যগ্রহণ প্রয়োজন হবে না। এটা আমরা যদি টেন্ডার করি, তাহলে সরাসরি এভিডেন্সে দিতে পারবো। ডিফেন্সকে (আসামিপক্ষকে) শুধু আমাদের নোটিশ দিলেই হবে।

গাফিলতি ছিল কিনা জানতে চাইলে আমিনুল ইসলাম বলেন, এটা গাফিলতি নয়। ত্রুটি-বিচ্যুতি হতে পারে। এভিডেন্সটা হয়তো তখন ছিল না। যেহেতু বিষয়টি আমার কাছে আসছে, এজন্য তাৎক্ষণিকভাবে মনে হলো এভিডেন্সটা উপস্থাপন করা প্রয়োজন।

এ মামলায় মোট আসামি পাঁচজন। এর মধ্যে গ্রেফতার রয়েছেন রামপুরা পুলিশ ফাঁড়ির তৎকালীন এএসআই চঞ্চল চন্দ্র সরকার। আজ সকালে কারাগার থেকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছিল।

পলাতক আসামিরা হলেন— ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, খিলগাঁও জোনের সাবেক এডিসি মো. রাশেদুল ইসলাম, রামপুরা থানার সাবেক ওসি মো. মশিউর রহমান ও রামপুরা থানার সাবেক এসআই তারিকুল ইসলাম ভূঁইয়া।

প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই আন্দোলন চলাকালীন প্রাণ বাঁচাতে রামপুরার বনশ্রী-মেরাদিয়া সড়কের পাশে থাকা একটি নির্মাণাধীন ভবনে ওঠেন আমির হোসেন নামের এক তরুণ। ওই সময় পুলিশ সদস্যরাও তার পিছু পিছু যান। একপর্যায়ে ছাদের কার্নিশের রড ধরে ঝুলে থাকলেও তার ওপর ছয় রাউন্ড গুলি ছোড়েন এক পুলিশ সদস্য। এতে গুরুতর আহত হন তিনি। এছাড়া একই দিন বনশ্রী এলাকায় পুলিশের গুলিতে মারা যান নাদিম ও মায়া ইসলাম। এর পরিপ্রেক্ষিতে পাঁচজনের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা হয়।

এরই ধারাবাহিকতায় গত বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর হাবিবসহ পাঁচ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-১। একই বছরের ৭ আগস্ট ফরমাল চার্জ দাখিল করে প্রসিকিউশন। পরে উভয়পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে মামলাটি আজ রায়ের জন‍্য দিন নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে নতুন করে এভিডেন্স দাখিলের আবেদন করায় রায় দেননি ট্রাইব্যুনাল।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

অন্তর্বর্তী সরকারের ১৩৩ অধ্যাদেশের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে সংসদে

যেগুলো উচিত মনে করছি, সেগুলো ফের তদন্তের নির্দেশ দিচ্ছি: চিফ প্রসিকিউটর

আপডেট সময় : ০৮:৪৯:১৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ মার্চ ২০২৬

যেগুলোর তদন্ত মনে হচ্ছে আবারও হওয়া উচিত, সেগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট তদন্ত কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।

বুধবার (৪ মার্চ) ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে রামপুরায় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় নির্ধারিত রায় ঘোষণা পেছানোর কারণ জানাতে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়েছিলেন চিফ প্রসিকিউটর।

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, মামলার যেকোনও পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ বাদ পড়ে গেলে তা অ্যাডিশনাল এভিডেন্স হিসেবে উপস্থাপনের সুযোগ রয়েছে প্রসিকিউশনের। ট্রাইব্যুনাল আইনই এ সুযোগ দিয়েছে।

তিনি বলেন, এই ট্রাইব্যুনালে যোগদানের পর আমি প্রত্যেকটি মামলা আলাদাভাবে পর্যবেক্ষণ করছি। যেসব মামলার তদন্ত সঠিকভাবে হয়েছে বলে মনে হচ্ছে, সেগুলো স্ব স্ব প্রসিকিউটরকে সেভাবে চালানোর নির্দেশ দিচ্ছি। যেগুলোর তদন্ত মনে হচ্ছে আবারও হওয়া উচিত, সেগুলো সংশ্লিষ্ট তদন্ত কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দিচ্ছি।

তিনি বলেন, রামপুরার মামলাটি আমার যোগদানের আগেই রায়ের জন্য দিন নির্ধারিত হয়েছিল। কিন্তু মামলাটি পর্যালোচনা করতে গিয়ে দেখি, আসামি চঞ্চল চন্দ্র সরকারের একটি ভিডিও রেকর্ডিং রয়েছে, যেখানে তিনি কীভাবে গুলি করেছেন, কার নির্দেশে করেছেন— সেসব বিষয়ে সরাসরি স্বীকার করছেন। অত্যন্ত শক্তিশালী এই প্রমাণটি এভিডেন্সে আনা হয়নি। এজন্য এটি আমাদের দেওয়া প্রয়োজন। বিষয়টি সম্প্রতি নজরে এসেছে। তাই ন্যায়বিচারের স্বার্থে ট্রাইব্যুনালের কাছে আবেদন করা হয়েছে, যেন ভিডিওটি মামলায় সংযুক্ত করে উপস্থাপন করা যায়। এজন্য চার সপ্তাহ সময় চাওয়া হয়েছে। ট্রাইব্যুনাল আগামী ৯ এপ্রিল পর্যন্ত সময় দিয়েছেন।

আমিনুল ইসলাম বলেন, নতুন করে সাক্ষ্যগ্রহণ প্রয়োজন হবে না। এটা আমরা যদি টেন্ডার করি, তাহলে সরাসরি এভিডেন্সে দিতে পারবো। ডিফেন্সকে (আসামিপক্ষকে) শুধু আমাদের নোটিশ দিলেই হবে।

গাফিলতি ছিল কিনা জানতে চাইলে আমিনুল ইসলাম বলেন, এটা গাফিলতি নয়। ত্রুটি-বিচ্যুতি হতে পারে। এভিডেন্সটা হয়তো তখন ছিল না। যেহেতু বিষয়টি আমার কাছে আসছে, এজন্য তাৎক্ষণিকভাবে মনে হলো এভিডেন্সটা উপস্থাপন করা প্রয়োজন।

এ মামলায় মোট আসামি পাঁচজন। এর মধ্যে গ্রেফতার রয়েছেন রামপুরা পুলিশ ফাঁড়ির তৎকালীন এএসআই চঞ্চল চন্দ্র সরকার। আজ সকালে কারাগার থেকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছিল।

পলাতক আসামিরা হলেন— ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, খিলগাঁও জোনের সাবেক এডিসি মো. রাশেদুল ইসলাম, রামপুরা থানার সাবেক ওসি মো. মশিউর রহমান ও রামপুরা থানার সাবেক এসআই তারিকুল ইসলাম ভূঁইয়া।

প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই আন্দোলন চলাকালীন প্রাণ বাঁচাতে রামপুরার বনশ্রী-মেরাদিয়া সড়কের পাশে থাকা একটি নির্মাণাধীন ভবনে ওঠেন আমির হোসেন নামের এক তরুণ। ওই সময় পুলিশ সদস্যরাও তার পিছু পিছু যান। একপর্যায়ে ছাদের কার্নিশের রড ধরে ঝুলে থাকলেও তার ওপর ছয় রাউন্ড গুলি ছোড়েন এক পুলিশ সদস্য। এতে গুরুতর আহত হন তিনি। এছাড়া একই দিন বনশ্রী এলাকায় পুলিশের গুলিতে মারা যান নাদিম ও মায়া ইসলাম। এর পরিপ্রেক্ষিতে পাঁচজনের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা হয়।

এরই ধারাবাহিকতায় গত বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর হাবিবসহ পাঁচ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-১। একই বছরের ৭ আগস্ট ফরমাল চার্জ দাখিল করে প্রসিকিউশন। পরে উভয়পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে মামলাটি আজ রায়ের জন‍্য দিন নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে নতুন করে এভিডেন্স দাখিলের আবেদন করায় রায় দেননি ট্রাইব্যুনাল।