ঢাকা ০৫:৩২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬

চাঁপাইনবাবগঞ্জে ভুয়া ক্যাপ্টেন সেজে জমি দখল: পুলিশের যোগসাজশের অভিযোগ, ভুক্তভোগীদের মানববন্ধন

চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুরে সেনাবাহিনীর ভুয়া ক্যাপ্টেন পরিচয়ে শাহ আলম ওরফে কাজল নামের এক ভূমিদস্যুর বিরুদ্ধে জোরপূর্বক জমি দখল, হামলা ও মিথ্যা মামলা দায়েরের অভিযোগ উঠেছে। এসবের প্রতিবাদে এবং অভিযুক্ত কাজলের বিচারের দাবিতে মঙ্গলবার দুপুরে জেলার চৌডালা মাদরাসা মোড়ে মানববন্ধন করেছেন ভুক্তভোগী জমির মালিক ও এলাকাবাসী। মানববন্ধনে পুলিশের এক সহকারী উপপরিদর্শকের (এএসআই) বিরুদ্ধেও অভিযুক্তের সঙ্গে যোগসাজশের অভিযোগ আনা হয়।

মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, এলাকার চিহ্নিত ভূমিদস্যু শাহ আলম ওরফে কাজল নিজেকে সেনাবাহিনীর ক্যাপ্টেন পরিচয় দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে প্রভাব খাটিয়ে নিরীহ মানুষের জমি জোরপূর্বক দখল করে আসছেন। কেউ বাধা দিতে গেলে তার সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে হামলা ও মারধর করা হয়। এমনকি জমির প্রকৃত মালিকদের বিরুদ্ধেই চাঁদাবাজির মতো মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, কাজল এ পর্যন্ত তিনটি মিথ্যা মামলা দিয়ে তাদের হয়রানি করেছেন।

বক্তারা আরও জানান, শাহ আলম ওরফে কাজল এ পর্যন্ত চৌডালা ইউনিয়নের মাদরাসা মোড় এলাকার শরিফুল ইসলামের ৭ কাঠা, রোকনের সাড়ে ১৩ কাঠা, জোসনা বেগমের ২ কাঠা, আব্দুর রাজ্জাকের ৯ কাঠা এবং বাঘমারা এলাকার তুহিনের সাড়ে ৩ কাঠা জমি জোরপূর্বক দখল করেছেন।

মানববন্ধনে অভিযোগ করা হয়, গোমস্তাপুর থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) সাইদুর রহমান অভিযুক্ত শাহ আলম ওরফে কাজলের সঙ্গে যোগসাজশ করে এসব অপকর্ম করছেন। এএসআই সাইদুর নিজেই জমির প্রকৃত মালিকদের হুমকি ও ভয়ভীতি দেখিয়ে হয়রানি করেন।

এ বিষয়ে জানতে ক্যাপ্টেন পরিচয়দানকারী শাহ আলম ওরফে কাজলের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে তার জমি দেখাশোনার দায়িত্বে থাকা আপন মামা তাজেমুল হক বলেন, “আমার ভাগনে নিজে ক্যাপ্টেন পরিচয় দেন না, এলাকার মানুষই তাকে ক্যাপ্টেন বলে ডাকে। সব জমি কাগজপত্র মূলেই দখলে নেওয়া হয়েছে, কোনো জোরপূর্বক দখলের ঘটনা ঘটেনি।”

গোমস্তাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল বারিক এ বিষয়ে বলেন, “জমি সংক্রান্ত মামলা চলমান রয়েছে। আদালত এ বিষয়ে যে সিদ্ধান্ত দেবেন, আমরা তা বাস্তবায়ন করব।” এএসআই সাইদুরের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “যদি তার পক্ষপাতমূলক আচরণের প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে তদন্তসাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

ঘণ্টাব্যাপী চলা মানববন্ধনে বদিউর রহমান, আব্দুল মতিন, তুহিন, জোসনা খাতুন, সাইদুর রহমানসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা বক্তব্য রাখেন। বক্তারা অবিলম্বে ভূমিদস্যু শাহ আলম ওরফে কাজলের বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং এএসআই সাইদুরের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ খতিয়ে দেখার জোর দাবি জানান।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

অভয়নগরে জামায়াত কর্মীকে কুপিয়ে জখম, প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ

চাঁপাইনবাবগঞ্জে ভুয়া ক্যাপ্টেন সেজে জমি দখল: পুলিশের যোগসাজশের অভিযোগ, ভুক্তভোগীদের মানববন্ধন

আপডেট সময় : ০৩:৪০:১৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ মার্চ ২০২৬

চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুরে সেনাবাহিনীর ভুয়া ক্যাপ্টেন পরিচয়ে শাহ আলম ওরফে কাজল নামের এক ভূমিদস্যুর বিরুদ্ধে জোরপূর্বক জমি দখল, হামলা ও মিথ্যা মামলা দায়েরের অভিযোগ উঠেছে। এসবের প্রতিবাদে এবং অভিযুক্ত কাজলের বিচারের দাবিতে মঙ্গলবার দুপুরে জেলার চৌডালা মাদরাসা মোড়ে মানববন্ধন করেছেন ভুক্তভোগী জমির মালিক ও এলাকাবাসী। মানববন্ধনে পুলিশের এক সহকারী উপপরিদর্শকের (এএসআই) বিরুদ্ধেও অভিযুক্তের সঙ্গে যোগসাজশের অভিযোগ আনা হয়।

মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, এলাকার চিহ্নিত ভূমিদস্যু শাহ আলম ওরফে কাজল নিজেকে সেনাবাহিনীর ক্যাপ্টেন পরিচয় দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে প্রভাব খাটিয়ে নিরীহ মানুষের জমি জোরপূর্বক দখল করে আসছেন। কেউ বাধা দিতে গেলে তার সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে হামলা ও মারধর করা হয়। এমনকি জমির প্রকৃত মালিকদের বিরুদ্ধেই চাঁদাবাজির মতো মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, কাজল এ পর্যন্ত তিনটি মিথ্যা মামলা দিয়ে তাদের হয়রানি করেছেন।

বক্তারা আরও জানান, শাহ আলম ওরফে কাজল এ পর্যন্ত চৌডালা ইউনিয়নের মাদরাসা মোড় এলাকার শরিফুল ইসলামের ৭ কাঠা, রোকনের সাড়ে ১৩ কাঠা, জোসনা বেগমের ২ কাঠা, আব্দুর রাজ্জাকের ৯ কাঠা এবং বাঘমারা এলাকার তুহিনের সাড়ে ৩ কাঠা জমি জোরপূর্বক দখল করেছেন।

মানববন্ধনে অভিযোগ করা হয়, গোমস্তাপুর থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) সাইদুর রহমান অভিযুক্ত শাহ আলম ওরফে কাজলের সঙ্গে যোগসাজশ করে এসব অপকর্ম করছেন। এএসআই সাইদুর নিজেই জমির প্রকৃত মালিকদের হুমকি ও ভয়ভীতি দেখিয়ে হয়রানি করেন।

এ বিষয়ে জানতে ক্যাপ্টেন পরিচয়দানকারী শাহ আলম ওরফে কাজলের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে তার জমি দেখাশোনার দায়িত্বে থাকা আপন মামা তাজেমুল হক বলেন, “আমার ভাগনে নিজে ক্যাপ্টেন পরিচয় দেন না, এলাকার মানুষই তাকে ক্যাপ্টেন বলে ডাকে। সব জমি কাগজপত্র মূলেই দখলে নেওয়া হয়েছে, কোনো জোরপূর্বক দখলের ঘটনা ঘটেনি।”

গোমস্তাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল বারিক এ বিষয়ে বলেন, “জমি সংক্রান্ত মামলা চলমান রয়েছে। আদালত এ বিষয়ে যে সিদ্ধান্ত দেবেন, আমরা তা বাস্তবায়ন করব।” এএসআই সাইদুরের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “যদি তার পক্ষপাতমূলক আচরণের প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে তদন্তসাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

ঘণ্টাব্যাপী চলা মানববন্ধনে বদিউর রহমান, আব্দুল মতিন, তুহিন, জোসনা খাতুন, সাইদুর রহমানসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা বক্তব্য রাখেন। বক্তারা অবিলম্বে ভূমিদস্যু শাহ আলম ওরফে কাজলের বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং এএসআই সাইদুরের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ খতিয়ে দেখার জোর দাবি জানান।