মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
ঢাকা ১১:৫৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬

বেরোবিতে সম্প্রীতির নজির: জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসে এক মঞ্চে ছাত্রদল-শিবির

রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উদযাপন উপলক্ষে এক নজিরবিহীন সম্প্রীতির ঘটনা ঘটেছে। টানা দুই দিনের দফায় দফায় সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও পাল্টাপাল্টি কর্মসূচির পর বুধবার (২০২৬ সাল) বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা একই মঞ্চে উপস্থিত হয়েছেন। এ সময় দুই সংগঠনের শীর্ষ নেতারা অতীতের সহিংসতা ও মতবিরোধ পরিহার করে ক্যাম্পাসে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান বজায় রাখার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত আনন্দ শোভাযাত্রা, বৃক্ষরোপণ ও আলোচনা সভার মাধ্যমে দিবসটি উদযাপন করা হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরাও স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন।

কর্মসূচির শুরুতে বৃষ্টি উপেক্ষা করে ছাতা মাথায় এক আনন্দ শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক থেকে শুরু হয়ে শহীদ আবু সাঈদ চত্বর ও মর্ডান মোড় প্রদক্ষিণ করে প্রশাসনিক ভবনের দক্ষিণ গেটে গিয়ে শেষ হয়। পরে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের স্মরণে ক্যাম্পাসে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন করা হয়, যেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের সঙ্গে ছাত্রশিবির ও ছাত্রদলের সভাপতিরা অংশ নেন।

বেরোবি শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মো. আব্দুর রাকিব মুরাদ বলেন, ‘ছাত্রদল কোনো কর্মসূচি করেছে আর আমরা বাধা দিয়েছি—এমন কোনো ঘটনা নেই। আমরা আগেও বাধা দিইনি, এখনো দিচ্ছি না। আমরা চাই ক্যাম্পাসে সহাবস্থান ও স্থিতিশীল পরিবেশ বজায় থাকুক।’ তিনি আরও বলেন, ‘ক্যাম্পাসে কোনো ধরনের সংঘাত বা বিশৃঙ্খলা কাম্য নয়। পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহনশীলতার মাধ্যমে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।’ এ সময় তিনি আশা প্রকাশ করেন, ছাত্রদলের পক্ষ থেকে লেখা ‘শিবির মুক্ত ক্যাম্পাস’ লেখাটি দুপুরের মধ্যে মুছে ফেলা হবে।

অন্যদিকে, বেরোবি শাখা ছাত্রদলের সভাপতি রাফায়েল ইমতিয়াজ ইয়ামিন বলেন, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান নিয়ে শিবির ও ছাত্রদলের কোনো মতপার্থক্য নেই। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সব ধর্ম, বর্ণ ও শ্রেণির মানুষের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টায় আমরা বিগত সরকারের ত্রাসের রাজনীতি থেকে মুক্ত হয়ে একটি সুন্দর বাংলাদেশ পেয়েছি।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘জুলাই যেভাবে আমাদের ঐক্যবদ্ধ করেছিল, সেই ঐক্যবদ্ধ শক্তিতেই নতুন বাংলাদেশ গড়তে হবে। মতবিরোধ ও দ্বন্দ্ব রাখা যাবে না। অন্যথায় আবারও ফ্যাসিবাদী শক্তি ফিরে আসতে পারে। তাই বিশৃঙ্খলা, সহিংসতা ও বিভেদ পরিহার করে সুন্দর বাংলাদেশ বিনির্মাণে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।’

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সাজাপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রীর ভার্চুয়াল সভায় যোগদান: মাগুরায় সাকিবের বাড়িতে হামলা ও আগুন

বেরোবিতে সম্প্রীতির নজির: জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসে এক মঞ্চে ছাত্রদল-শিবির

আপডেট সময় : ১০:২৭:৫৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ৫ অগাস্ট ২০২৬

রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উদযাপন উপলক্ষে এক নজিরবিহীন সম্প্রীতির ঘটনা ঘটেছে। টানা দুই দিনের দফায় দফায় সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও পাল্টাপাল্টি কর্মসূচির পর বুধবার (২০২৬ সাল) বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা একই মঞ্চে উপস্থিত হয়েছেন। এ সময় দুই সংগঠনের শীর্ষ নেতারা অতীতের সহিংসতা ও মতবিরোধ পরিহার করে ক্যাম্পাসে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান বজায় রাখার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত আনন্দ শোভাযাত্রা, বৃক্ষরোপণ ও আলোচনা সভার মাধ্যমে দিবসটি উদযাপন করা হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরাও স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন।

কর্মসূচির শুরুতে বৃষ্টি উপেক্ষা করে ছাতা মাথায় এক আনন্দ শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক থেকে শুরু হয়ে শহীদ আবু সাঈদ চত্বর ও মর্ডান মোড় প্রদক্ষিণ করে প্রশাসনিক ভবনের দক্ষিণ গেটে গিয়ে শেষ হয়। পরে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের স্মরণে ক্যাম্পাসে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন করা হয়, যেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের সঙ্গে ছাত্রশিবির ও ছাত্রদলের সভাপতিরা অংশ নেন।

বেরোবি শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মো. আব্দুর রাকিব মুরাদ বলেন, ‘ছাত্রদল কোনো কর্মসূচি করেছে আর আমরা বাধা দিয়েছি—এমন কোনো ঘটনা নেই। আমরা আগেও বাধা দিইনি, এখনো দিচ্ছি না। আমরা চাই ক্যাম্পাসে সহাবস্থান ও স্থিতিশীল পরিবেশ বজায় থাকুক।’ তিনি আরও বলেন, ‘ক্যাম্পাসে কোনো ধরনের সংঘাত বা বিশৃঙ্খলা কাম্য নয়। পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহনশীলতার মাধ্যমে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।’ এ সময় তিনি আশা প্রকাশ করেন, ছাত্রদলের পক্ষ থেকে লেখা ‘শিবির মুক্ত ক্যাম্পাস’ লেখাটি দুপুরের মধ্যে মুছে ফেলা হবে।

অন্যদিকে, বেরোবি শাখা ছাত্রদলের সভাপতি রাফায়েল ইমতিয়াজ ইয়ামিন বলেন, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান নিয়ে শিবির ও ছাত্রদলের কোনো মতপার্থক্য নেই। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সব ধর্ম, বর্ণ ও শ্রেণির মানুষের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টায় আমরা বিগত সরকারের ত্রাসের রাজনীতি থেকে মুক্ত হয়ে একটি সুন্দর বাংলাদেশ পেয়েছি।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘জুলাই যেভাবে আমাদের ঐক্যবদ্ধ করেছিল, সেই ঐক্যবদ্ধ শক্তিতেই নতুন বাংলাদেশ গড়তে হবে। মতবিরোধ ও দ্বন্দ্ব রাখা যাবে না। অন্যথায় আবারও ফ্যাসিবাদী শক্তি ফিরে আসতে পারে। তাই বিশৃঙ্খলা, সহিংসতা ও বিভেদ পরিহার করে সুন্দর বাংলাদেশ বিনির্মাণে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।’