ঢাকা ০৪:৪৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬

চরভদ্রাসনে দুই সন্তানের জননীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার: স্বামীর দাবি অভিমান থেকে আত্মহত্যা

ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলায় দুই সন্তানের জননী এক গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। সোমবার দিবাগত ভোররাতে উপজেলার সদর ইউনিয়নের খালাসীডাঙ্গী গ্রামে স্বামীর বাড়ি থেকে রুনা আক্তার (২৮) নামের ওই নারীর লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়। স্বামীর সঙ্গে অভিমান করে তিনি আত্মহত্যা করেছেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

নিহত রুনা আক্তার সদর ইউনিয়নের জাকেরের ডাঙ্গী গ্রামের নুরু মৃধা ও শান্তি বেগমের মেয়ে। তার স্বামী রুবেল শেখের (৩০) সঙ্গে খালাসীডাঙ্গী গ্রামে বসবাস করতেন। আট বছর বয়সী রাহিম শেখ ও তিন বছর বয়সী রাইসা আক্তার নামে তাদের দুটি শিশুসন্তান রয়েছে।

নিহতের স্বামী রুবেল শেখ জানান, সোমবার দিবাগত ভোররাতে সেহরি খাওয়ার জন্য তারা ঘুম থেকে ওঠেন। সেহরি খাওয়া শেষে রুবেল প্রাকৃতিক ডাকে ঘরের বাইরে যান। কিছুক্ষণ পর ঘরে ফিরে এসে তিনি দেখেন, রুনা আক্তার ঘরের আড়ার সঙ্গে গলায় রশি পেঁচিয়ে ঝুলছেন এবং ছটফট করছেন। তাৎক্ষণিকভাবে তিনি স্ত্রীকে ঝুলন্ত অবস্থা থেকে নামিয়ে চরভদ্রাসন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. গোফরানুল হক সিজান পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে রুনা আক্তারকে মৃত ঘোষণা করেন। এ বিষয়ে চরভদ্রাসন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার হোসেন জানান, হাসপাতাল থেকে খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে যায় এবং প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করে। তিনি বলেন, “গলায় রশি নেওয়ার কারণে গৃহবধূকে হাসপাতালে আনা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় প্রাথমিকভাবে একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করা হবে।”

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

দুদকে গণপদত্যাগ: ‘নতুন সরকারের প্রত্যাশাকে পথ দিতেই’ — বললেন চেয়ারম্যান

চরভদ্রাসনে দুই সন্তানের জননীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার: স্বামীর দাবি অভিমান থেকে আত্মহত্যা

আপডেট সময় : ০৩:১৮:৩২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ মার্চ ২০২৬

ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলায় দুই সন্তানের জননী এক গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। সোমবার দিবাগত ভোররাতে উপজেলার সদর ইউনিয়নের খালাসীডাঙ্গী গ্রামে স্বামীর বাড়ি থেকে রুনা আক্তার (২৮) নামের ওই নারীর লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়। স্বামীর সঙ্গে অভিমান করে তিনি আত্মহত্যা করেছেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

নিহত রুনা আক্তার সদর ইউনিয়নের জাকেরের ডাঙ্গী গ্রামের নুরু মৃধা ও শান্তি বেগমের মেয়ে। তার স্বামী রুবেল শেখের (৩০) সঙ্গে খালাসীডাঙ্গী গ্রামে বসবাস করতেন। আট বছর বয়সী রাহিম শেখ ও তিন বছর বয়সী রাইসা আক্তার নামে তাদের দুটি শিশুসন্তান রয়েছে।

নিহতের স্বামী রুবেল শেখ জানান, সোমবার দিবাগত ভোররাতে সেহরি খাওয়ার জন্য তারা ঘুম থেকে ওঠেন। সেহরি খাওয়া শেষে রুবেল প্রাকৃতিক ডাকে ঘরের বাইরে যান। কিছুক্ষণ পর ঘরে ফিরে এসে তিনি দেখেন, রুনা আক্তার ঘরের আড়ার সঙ্গে গলায় রশি পেঁচিয়ে ঝুলছেন এবং ছটফট করছেন। তাৎক্ষণিকভাবে তিনি স্ত্রীকে ঝুলন্ত অবস্থা থেকে নামিয়ে চরভদ্রাসন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. গোফরানুল হক সিজান পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে রুনা আক্তারকে মৃত ঘোষণা করেন। এ বিষয়ে চরভদ্রাসন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার হোসেন জানান, হাসপাতাল থেকে খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে যায় এবং প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করে। তিনি বলেন, “গলায় রশি নেওয়ার কারণে গৃহবধূকে হাসপাতালে আনা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় প্রাথমিকভাবে একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করা হবে।”