কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে নিখোঁজ হওয়ার ২৮ দিন পর চার মাস বয়সী এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) সকালে উপজেলার ছয়সূতী ইউনিয়নের দাড়িয়াকান্দি (কাঁঠালতলা) এলাকার একটি বাড়ির পেছনের টয়লেটের ট্যাংক থেকে শিশুটির লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এই মর্মান্তিক ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।
উদ্ধার হওয়া শিশুটির নাম আশরাফুল। সে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি)-এর গাড়িচালক শাহীন মিয়ার সন্তান। শিশুটির মা জানান, বাড়ির পেছনের টয়লেটের ট্যাংকি পরিষ্কার করতে গিয়ে শিশুটির দাদা প্রথম লাশটি দেখতে পান। খবর পেয়ে কুলিয়ারচর থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে।
জানা যায়, গত ৫ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ১০টার দিকে শিশুটির মা বুকের দুধ খাইয়ে তাকে ঘরের ভেতরে দোলনায় ঘুম পাড়িয়ে রেখে বাড়ির পাশেই পাতা ঝাড়ু দিতে যান। কিছুক্ষণ পর ঘরে ফিরে এসে তিনি দোলনায় আশরাফুলকে দেখতে পাননি। এরপর ঘরে ও আশেপাশে খোঁজাখুঁজি করেও শিশুটির কোনো সন্ধান মেলেনি।
নিখোঁজের পর পরই এক প্রতিবেশী দাবি করেছিলেন, শিশুটি নিখোঁজ হওয়ার সময় বাড়ির দিক থেকে বোরকা পরা ও মুখ ঢাকা তিনজন নারীকে দ্রুত হেঁটে যেতে দেখেছেন। তাদের একজনের কোলে একটি ছোট শিশুও ছিল। এই বক্তব্যের পর এলাকায় শিশু চুরির আশঙ্কা জোরালো হয় এবং বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়।
এদিকে শিশুটির দাদি অভিযোগ করে বলেন, তার ছোট ছেলের স্ত্রী দীর্ঘদিন ধরে পরিবারের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করতেন এবং বিভিন্ন সময় হুমকি দিতেন। তার দাবি, পারিবারিক বিরোধের জের ধরেই এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে থাকতে পারে।
কুলিয়ারচর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কাজী আরিফ উদ্দীন জানান, শিশুটি নিখোঁজ হওয়ার পর থেকেই পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত করছিল। মরদেহ উদ্ধারের পর বিষয়টি আরও গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর শিশুটির মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং ঘটনার পেছনের রহস্য উন্মোচন করা সম্ভব হবে বলে তিনি জানান।
রিপোর্টারের নাম 




















