কুমিল্লার তিতাস উপজেলার ভিটিকান্দি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. ফরিদ সরকারকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে কাজ করার অভিযোগে তাকে প্রাথমিক সদস্যপদসহ সকল পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে সদ্য বহিষ্কৃত এই নেতা অভিযোগ করেছেন, কোনো ধরনের নোটিশ বা কারণ দর্শানোর সুযোগ না দিয়ে তাকে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে দল থেকে সরানো হয়েছে। এর পেছনে উপজেলা কমিটির শীর্ষ নেতাদের ১৭ লাখ টাকা নিয়ে পদ দেওয়ার বিষয় ফাঁস করে দেওয়ার ক্ষোভ কাজ করছে বলেও তিনি দাবি করেছেন। অন্যদিকে, উপজেলা বিএনপি এই অর্থ লেনদেনের অভিযোগ অস্বীকার করে ফরিদ সরকারের বিরুদ্ধে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ থাকার কথা জানিয়েছে।
মঙ্গলবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) স্থানীয় সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করে ফরিদ সরকার জানান, তিনি উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান সেলিম ভূঁইয়ার ফেসবুক আইডিতে প্রকাশিত একটি চিঠির মাধ্যমে তার বহিষ্কারের বিষয়টি জানতে পারেন। ওই চিঠিতে উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. ওসমান গনি ভূঁইয়া ও সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান সেলিম ভূঁইয়ার স্বাক্ষর রয়েছে। সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে কাজ করার কারণে তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
ফরিদ সরকার তার অভিযোগ আরও বিস্তারিত করে বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে রাজনৈতিক প্রতিকূলতা ও মামলার শিকার হয়েও তিনি দলের আদর্শ থেকে বিচ্যুত হননি। এমনকি পুলিশের ভয়ে বাড়িতে ঘুমাতে পারেননি বা ব্যবসা পরিচালনা করতে পারেননি। এত ত্যাগের পরও ২০২৫ সালে ইউনিয়ন কমিটি গঠনের সময় উপজেলা বিএনপির সভাপতি ওসমান গনি ভূঁইয়া ও সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান সেলিম ভূঁইয়া তার কাছ থেকে ১৭ লাখ টাকা নিয়ে তাকে পুনরায় ভিটিকান্দি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি নির্বাচিত করেছিলেন। এই অর্থ লেনদেনের বিষয়টি তিনি বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনকে অবহিত করেন। তার দাবি, এই ক্ষোভের জের ধরেই জাতীয় নির্বাচনের পর তাকে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তিনি এই বহিষ্কারাদেশের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে এটি প্রত্যাহারের জন্য বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন এবং কুমিল্লা-২ (হোমনা-তিতাস) আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মো. সেলিম ভূঁইয়ার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।
নিজের রাজনৈতিক পরিচয় তুলে ধরে ফরিদ সরকার জানান, তিনি ১৯৯১ সাল থেকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের হাত ধরে দলের রাজনীতিতে যুক্ত হন। একই বছর তিনি বৃহত্তর ভিটিকান্দি ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন এবং পরবর্তীতে যুবদলের সভাপতি, ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সর্বশেষ ২০২৫ সালেও তিনি সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. ওসমান গনি ভূঁইয়া বলেন, দলীয় পদে থেকেও ফরিদ সরকারসহ একটি চক্র দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে গোপনে স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে কাজ করেছে। তাদের কাছে এর সুনির্দিষ্ট প্রমাণ রয়েছে। একই অভিযোগে আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধেও সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি। তবে ফরিদ সরকারের ১৭ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগকে তিনি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট বলে দাবি করেন।
উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে কাজ করার অভিযোগে গত ফেব্রুয়ারির শুরু থেকে ২ মার্চ পর্যন্ত তিতাস উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডের প্রায় ৩০ জন নেতাকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 
























