ঢাকা ০১:৪২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬

জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫: স্থগিতাদেশ চেয়ে করা রিটের আদেশ আজ

‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’-এর কার্যক্রম স্থগিত চেয়ে দায়ের করা রিট আবেদনের ওপর আজ মঙ্গলবার আদেশ দেবেন হাইকোর্ট। গতকাল সোমবার শুনানি শেষে বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধুরী ও বিচারপতি মো. জিয়াউল হকের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ আদেশের জন্য এই দিন ধার্য করেন।

এর আগে গত ১৮ ফেব্রুয়ারি সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইউনুছ আলী আকন্দ এই রিট আবেদনটি দায়ের করেন। গত ২৫ ফেব্রুয়ারি রিটটির প্রাথমিক শুনানির পর আদালত ১ মার্চ পরবর্তী দিন নির্ধারণ করেছিলেন। তবে ওই দিন রাষ্ট্রপক্ষ সময়ের আবেদন জানালে আদালত গতকাল সোমবার শুনানির নতুন তারিখ নির্ধারণ করেছিলেন। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. দোলোয়ার হোসেন খান।

রিট আবেদনে ‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’-এর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে এটি কেন সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ঘোষণা করা হবে না—তা জানতে চেয়ে রুল জারির আর্জি জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত এই সনদের সব ধরনের কার্যক্রম স্থগিত রাখার আবেদন করা হয়েছে।

আবেদনকারীর দাবি, জুলাই জাতীয় সনদের মাধ্যমে গণভোট আয়োজনের যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তা সংবিধানের ৬৫, ১২৩ (৩), ১২৩ (৪) ও ৩১ অনুচ্ছেদের পরিপন্থি। এছাড়া এটি গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের (আরপিও) ১১ অনুচ্ছেদের সঙ্গেও সাংঘর্ষিক। রিটে এই গণভোট আয়োজনের প্রক্রিয়াকে অসাংবিধানিক ও অবৈধ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের জুলাই মাসে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে ৫ আগস্ট তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে দেশ ত্যাগ করেন। এরপর দায়িত্ব গ্রহণ করা অন্তর্বর্তী সরকার রাষ্ট্র সংস্কারের লক্ষ্যে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করে। এরই অংশ হিসেবে গত বছরের ১৭ অক্টোবর দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে ঐকমত্যের ভিত্তিতে ‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’ স্বাক্ষরিত হয়। এই সনদটি মূলত রাষ্ট্র সংস্কারের প্রস্তাবনা বাস্তবায়নের একটি রাজনৈতিক দলিল হিসেবে বিবেচিত। তবে এই সনদের আইনি ও সাংবিধানিক বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে এখন আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন রিটকারী আইনজীবী।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সৌদি আরবে সব কনস্যুলার সেবা বাতিল করল যুক্তরাষ্ট্র

জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫: স্থগিতাদেশ চেয়ে করা রিটের আদেশ আজ

আপডেট সময় : ১১:৫৮:৫৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ মার্চ ২০২৬

‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’-এর কার্যক্রম স্থগিত চেয়ে দায়ের করা রিট আবেদনের ওপর আজ মঙ্গলবার আদেশ দেবেন হাইকোর্ট। গতকাল সোমবার শুনানি শেষে বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধুরী ও বিচারপতি মো. জিয়াউল হকের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ আদেশের জন্য এই দিন ধার্য করেন।

এর আগে গত ১৮ ফেব্রুয়ারি সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইউনুছ আলী আকন্দ এই রিট আবেদনটি দায়ের করেন। গত ২৫ ফেব্রুয়ারি রিটটির প্রাথমিক শুনানির পর আদালত ১ মার্চ পরবর্তী দিন নির্ধারণ করেছিলেন। তবে ওই দিন রাষ্ট্রপক্ষ সময়ের আবেদন জানালে আদালত গতকাল সোমবার শুনানির নতুন তারিখ নির্ধারণ করেছিলেন। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. দোলোয়ার হোসেন খান।

রিট আবেদনে ‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’-এর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে এটি কেন সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ঘোষণা করা হবে না—তা জানতে চেয়ে রুল জারির আর্জি জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত এই সনদের সব ধরনের কার্যক্রম স্থগিত রাখার আবেদন করা হয়েছে।

আবেদনকারীর দাবি, জুলাই জাতীয় সনদের মাধ্যমে গণভোট আয়োজনের যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তা সংবিধানের ৬৫, ১২৩ (৩), ১২৩ (৪) ও ৩১ অনুচ্ছেদের পরিপন্থি। এছাড়া এটি গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের (আরপিও) ১১ অনুচ্ছেদের সঙ্গেও সাংঘর্ষিক। রিটে এই গণভোট আয়োজনের প্রক্রিয়াকে অসাংবিধানিক ও অবৈধ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের জুলাই মাসে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে ৫ আগস্ট তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে দেশ ত্যাগ করেন। এরপর দায়িত্ব গ্রহণ করা অন্তর্বর্তী সরকার রাষ্ট্র সংস্কারের লক্ষ্যে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করে। এরই অংশ হিসেবে গত বছরের ১৭ অক্টোবর দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে ঐকমত্যের ভিত্তিতে ‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’ স্বাক্ষরিত হয়। এই সনদটি মূলত রাষ্ট্র সংস্কারের প্রস্তাবনা বাস্তবায়নের একটি রাজনৈতিক দলিল হিসেবে বিবেচিত। তবে এই সনদের আইনি ও সাংবিধানিক বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে এখন আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন রিটকারী আইনজীবী।