ঢাকা ০১:৪২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬

ইরানের সর্বোচ্চ নেতার হত্যাকাণ্ড: ভারতের নীরবতা ‘নিরপেক্ষতা নয়, অবস্থান ত্যাগ’ – সোনিয়া গান্ধী

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির কথিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের নীরবতা নিয়ে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন প্রবীণ কংগ্রেস নেত্রী সোনিয়া গান্ধী। দিল্লির এই নীরবতাকে তিনি “নিরপেক্ষতা নয়, বরং অবস্থান ত্যাগ” বলে আখ্যায়িত করেছেন। তার মতে, বিশ্ব রাজনীতির এমন এক সংকটময় মুহূর্তে ভারতের মতো বৃহৎ গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের চুপ থাকা আন্তর্জাতিক রীতিনীতির গুরুতর লঙ্ঘন।

সোনিয়া গান্ধী তার এক নিবন্ধে (নিজস্ব কলামে) লিখেছেন, তেহরানের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক কেবল সভ্যতাগত নয়, কৌশলগতও বটে। খামেনির মৃত্যুতে কেন্দ্র কোনো বিবৃতি না দেওয়ায় এবং মধ্যপ্রাচ্যে সংযম ও উত্তেজনা কমানোর আহ্বান জানানোর মধ্যেই এই নীরবতা বিশেষভাবে লক্ষণীয়।

গত ১ মার্চ ইরান নিশ্চিত করে যে, তাদের সর্বোচ্চ নেতা খামেনিকে এর আগের দিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে হত্যা করেছে। সোনিয়া গান্ধীর ভাষ্যমতে, একজন ক্ষমতাসীন রাষ্ট্রপ্রধানের হত্যাকাণ্ড আন্তর্জাতিক সম্পর্কে গুরুতর ফাটল ধরায় এবং এ বিষয়ে ভারতের নীরবতা সমানভাবে উদ্বেগজনক। তিনি আরও উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি প্রাথমিকভাবে মার্কিন-ইসরায়েলের এই বিশাল আক্রমণকে উপেক্ষা করে কেবল সংযুক্ত আরব আমিরাতের ওপর ইরানের প্রতিশোধমূলক হামলার নিন্দা জানানোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিলেন। পূর্ববর্তী ঘটনার ধারাবাহিকতা নিয়ে কোনো মন্তব্য করা হয়নি।

গান্ধী বলেন, যুদ্ধের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ছাড়া এবং কূটনৈতিক প্রক্রিয়া চলাকালীন সময়ে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্র হিসেবে ভারত যদি নীতিগত আপত্তি না জানায়, তাহলে আন্তর্জাতিক রীতিনীতির লঙ্ঘন স্বাভাবিক হয়ে দাঁড়ায়। খামেনি হত্যাকাণ্ডের মাত্র ৪৮ ঘণ্টা আগে প্রধানমন্ত্রী মোদি ইসরায়েল সফর থেকে ফিরে এসে নেতানিয়াহু সরকারের প্রতি দ্ব্যর্থহীন সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছিলেন।

সোনিয়া গান্ধী তেহরানের সঙ্গে ভারতের কৌশলগত সম্পর্কের কথাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ইরান পাকিস্তানের সীমান্ত সংলগ্ন জাহেদানে ভারতের কূটনৈতিক উপস্থিতি নিশ্চিত করেছে, যা গোয়াদর বন্দর এবং চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোরের ভারসাম্য রক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপায়। শনিবার ইরান জানায়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথ হামলায় খামেনি ও কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তাকে হত্যা করেছে। এর জবাবে ইরান মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন স্থাপনা ও তেল আবিবে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রধানমন্ত্রীর বগুড়া সফর স্থগিত

ইরানের সর্বোচ্চ নেতার হত্যাকাণ্ড: ভারতের নীরবতা ‘নিরপেক্ষতা নয়, অবস্থান ত্যাগ’ – সোনিয়া গান্ধী

আপডেট সময় : ১১:৫৫:১০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ মার্চ ২০২৬

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির কথিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের নীরবতা নিয়ে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন প্রবীণ কংগ্রেস নেত্রী সোনিয়া গান্ধী। দিল্লির এই নীরবতাকে তিনি “নিরপেক্ষতা নয়, বরং অবস্থান ত্যাগ” বলে আখ্যায়িত করেছেন। তার মতে, বিশ্ব রাজনীতির এমন এক সংকটময় মুহূর্তে ভারতের মতো বৃহৎ গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের চুপ থাকা আন্তর্জাতিক রীতিনীতির গুরুতর লঙ্ঘন।

সোনিয়া গান্ধী তার এক নিবন্ধে (নিজস্ব কলামে) লিখেছেন, তেহরানের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক কেবল সভ্যতাগত নয়, কৌশলগতও বটে। খামেনির মৃত্যুতে কেন্দ্র কোনো বিবৃতি না দেওয়ায় এবং মধ্যপ্রাচ্যে সংযম ও উত্তেজনা কমানোর আহ্বান জানানোর মধ্যেই এই নীরবতা বিশেষভাবে লক্ষণীয়।

গত ১ মার্চ ইরান নিশ্চিত করে যে, তাদের সর্বোচ্চ নেতা খামেনিকে এর আগের দিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে হত্যা করেছে। সোনিয়া গান্ধীর ভাষ্যমতে, একজন ক্ষমতাসীন রাষ্ট্রপ্রধানের হত্যাকাণ্ড আন্তর্জাতিক সম্পর্কে গুরুতর ফাটল ধরায় এবং এ বিষয়ে ভারতের নীরবতা সমানভাবে উদ্বেগজনক। তিনি আরও উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি প্রাথমিকভাবে মার্কিন-ইসরায়েলের এই বিশাল আক্রমণকে উপেক্ষা করে কেবল সংযুক্ত আরব আমিরাতের ওপর ইরানের প্রতিশোধমূলক হামলার নিন্দা জানানোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিলেন। পূর্ববর্তী ঘটনার ধারাবাহিকতা নিয়ে কোনো মন্তব্য করা হয়নি।

গান্ধী বলেন, যুদ্ধের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ছাড়া এবং কূটনৈতিক প্রক্রিয়া চলাকালীন সময়ে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্র হিসেবে ভারত যদি নীতিগত আপত্তি না জানায়, তাহলে আন্তর্জাতিক রীতিনীতির লঙ্ঘন স্বাভাবিক হয়ে দাঁড়ায়। খামেনি হত্যাকাণ্ডের মাত্র ৪৮ ঘণ্টা আগে প্রধানমন্ত্রী মোদি ইসরায়েল সফর থেকে ফিরে এসে নেতানিয়াহু সরকারের প্রতি দ্ব্যর্থহীন সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছিলেন।

সোনিয়া গান্ধী তেহরানের সঙ্গে ভারতের কৌশলগত সম্পর্কের কথাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ইরান পাকিস্তানের সীমান্ত সংলগ্ন জাহেদানে ভারতের কূটনৈতিক উপস্থিতি নিশ্চিত করেছে, যা গোয়াদর বন্দর এবং চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোরের ভারসাম্য রক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপায়। শনিবার ইরান জানায়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথ হামলায় খামেনি ও কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তাকে হত্যা করেছে। এর জবাবে ইরান মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন স্থাপনা ও তেল আবিবে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়।