ঢাকা ০৯:২৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬

নিউইয়র্ক স্টেট সিনেটে ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত প্রার্থীর ঐতিহাসিক জয়, ইসরাইলকে অর্থায়ন বন্ধের প্রতিশ্রুতি

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে এক ঐতিহাসিক বিজয়ের মধ্য দিয়ে ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত অ্যাবার কাওয়াস নিউইয়র্ক স্টেট সিনেট নির্বাচনের কুইন্স এলাকার ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারিতে জয়লাভ করেছেন। তার নির্বাচনী প্রচারণার মূল প্রতিশ্রুতি ছিল গাজায় ‘ইসরাইলের গণহত্যায় অর্থায়ন বন্ধ’ এবং গণতান্ত্রিক সমাজতন্ত্রের প্রসার। এই বিজয়ের ফলে তিনি নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যে নির্বাচিত প্রথম ফিলিস্তিনি মুসলিম নারী হিসেবে ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন। তিনি নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানির সমর্থনও লাভ করেন, যা তার নির্বাচনী প্রচারণায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

নিউইয়র্কে জন্মগ্রহণ ও বেড়ে ওঠা অ্যাবার কাওয়াস তার নির্বাচনী প্রচারাভিযানে অভিবাসন ব্যবস্থার সংস্কার এবং নিউইয়র্কের ক্রমবর্ধমান জীবনযাত্রার ব্যয় সংকট মোকাবিলার ওপর বিশেষ জোর দেন। তার এই জয় নিউইয়র্ক সিটি মেয়র জোহরান মামদানির ধারাবাহিক তিনটি গুরুত্বপূর্ণ প্রাইমারি জয়ের পর আসে, যা ডেমোক্র্যাটিক পার্টিকে একটি গণতান্ত্রিক সমাজতান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তরের মামদানির প্রচেষ্টার অংশ।

কাওয়াসের ওয়েবসাইটে উল্লেখ করা হয়েছে যে, তিনি মামদানির সঙ্গে মিলে ‘Not On Our Dime!’ নামে একটি প্রচারণা গড়ে তুলেছেন। এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য হলো নিউইয়র্কে নিবন্ধিত বিভিন্ন সংস্থার মাধ্যমে ইসরাইলকে অর্থ প্রদান বন্ধ করা। প্রচারণার ওয়েবসাইটে দাবি করা হয়েছে যে, নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্য ‘ইসরাইলের অবৈধ বসতি সম্প্রসারণ এবং ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় সহিংসতায়’ ভর্তুকি দিচ্ছে। তাদের স্লোগান হলো— ‘ইসরাইলি যুদ্ধাপরাধে নিউইয়র্কের অর্থায়ন বন্ধ করো’।

ওয়েবসাইটটিতে পশ্চিম তীর ও গাজায় ‘গণহত্যার কৌশল’ প্রয়োগের অভিযোগ তুলে ইসরাইলের বিরুদ্ধে ‘জঘন্য নৃশংসতার’ কথা বলা হয়েছে। যদিও ২০২৩ সালের অক্টোবরের পর নিহত ফিলিস্তিনিদের প্রসঙ্গ উল্লেখ করা হয়েছে, তবে ৭ অক্টোবরের হামলার বিষয়টি সেখানে উল্লেখ করা হয়নি। এই উদ্যোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি বিল নিউইয়র্কের অলাভজনক প্রতিষ্ঠান-সংক্রান্ত আইন সংশোধনের প্রস্তাব দেয়, যেখানে বলা হয়েছে যে অলাভজনক সংস্থাগুলোকে ‘ইসরাইলি বসতি কার্যক্রমে অননুমোদিত সহায়তা প্রদান’ থেকে বিরত থাকতে হবে। মামদানি জানিয়েছেন, এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে নিউইয়র্কভিত্তিক বিভিন্ন দাতব্য সংস্থা থেকে প্রতি বছর ইসরাইলি বসতিগুলোতে যাওয়া প্রায় ৬ কোটি ডলারের অর্থপ্রবাহ বন্ধ হবে, যা আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী অবৈধ হিসেবে বিবেচিত বসতিগুলোর জন্য একটি বড় ধাক্কা হবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

দিলারা জামান, আবুল হায়াত ও ডলি জহুর একসঙ্গে ‘দাদী ভয়ংকর’ নাটকে

নিউইয়র্ক স্টেট সিনেটে ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত প্রার্থীর ঐতিহাসিক জয়, ইসরাইলকে অর্থায়ন বন্ধের প্রতিশ্রুতি

আপডেট সময় : ০৭:৪৭:২৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে এক ঐতিহাসিক বিজয়ের মধ্য দিয়ে ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত অ্যাবার কাওয়াস নিউইয়র্ক স্টেট সিনেট নির্বাচনের কুইন্স এলাকার ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারিতে জয়লাভ করেছেন। তার নির্বাচনী প্রচারণার মূল প্রতিশ্রুতি ছিল গাজায় ‘ইসরাইলের গণহত্যায় অর্থায়ন বন্ধ’ এবং গণতান্ত্রিক সমাজতন্ত্রের প্রসার। এই বিজয়ের ফলে তিনি নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যে নির্বাচিত প্রথম ফিলিস্তিনি মুসলিম নারী হিসেবে ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন। তিনি নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানির সমর্থনও লাভ করেন, যা তার নির্বাচনী প্রচারণায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

নিউইয়র্কে জন্মগ্রহণ ও বেড়ে ওঠা অ্যাবার কাওয়াস তার নির্বাচনী প্রচারাভিযানে অভিবাসন ব্যবস্থার সংস্কার এবং নিউইয়র্কের ক্রমবর্ধমান জীবনযাত্রার ব্যয় সংকট মোকাবিলার ওপর বিশেষ জোর দেন। তার এই জয় নিউইয়র্ক সিটি মেয়র জোহরান মামদানির ধারাবাহিক তিনটি গুরুত্বপূর্ণ প্রাইমারি জয়ের পর আসে, যা ডেমোক্র্যাটিক পার্টিকে একটি গণতান্ত্রিক সমাজতান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তরের মামদানির প্রচেষ্টার অংশ।

কাওয়াসের ওয়েবসাইটে উল্লেখ করা হয়েছে যে, তিনি মামদানির সঙ্গে মিলে ‘Not On Our Dime!’ নামে একটি প্রচারণা গড়ে তুলেছেন। এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য হলো নিউইয়র্কে নিবন্ধিত বিভিন্ন সংস্থার মাধ্যমে ইসরাইলকে অর্থ প্রদান বন্ধ করা। প্রচারণার ওয়েবসাইটে দাবি করা হয়েছে যে, নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্য ‘ইসরাইলের অবৈধ বসতি সম্প্রসারণ এবং ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় সহিংসতায়’ ভর্তুকি দিচ্ছে। তাদের স্লোগান হলো— ‘ইসরাইলি যুদ্ধাপরাধে নিউইয়র্কের অর্থায়ন বন্ধ করো’।

ওয়েবসাইটটিতে পশ্চিম তীর ও গাজায় ‘গণহত্যার কৌশল’ প্রয়োগের অভিযোগ তুলে ইসরাইলের বিরুদ্ধে ‘জঘন্য নৃশংসতার’ কথা বলা হয়েছে। যদিও ২০২৩ সালের অক্টোবরের পর নিহত ফিলিস্তিনিদের প্রসঙ্গ উল্লেখ করা হয়েছে, তবে ৭ অক্টোবরের হামলার বিষয়টি সেখানে উল্লেখ করা হয়নি। এই উদ্যোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি বিল নিউইয়র্কের অলাভজনক প্রতিষ্ঠান-সংক্রান্ত আইন সংশোধনের প্রস্তাব দেয়, যেখানে বলা হয়েছে যে অলাভজনক সংস্থাগুলোকে ‘ইসরাইলি বসতি কার্যক্রমে অননুমোদিত সহায়তা প্রদান’ থেকে বিরত থাকতে হবে। মামদানি জানিয়েছেন, এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে নিউইয়র্কভিত্তিক বিভিন্ন দাতব্য সংস্থা থেকে প্রতি বছর ইসরাইলি বসতিগুলোতে যাওয়া প্রায় ৬ কোটি ডলারের অর্থপ্রবাহ বন্ধ হবে, যা আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী অবৈধ হিসেবে বিবেচিত বসতিগুলোর জন্য একটি বড় ধাক্কা হবে।