ঢাকা ০৬:০৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬

শিক্ষাখাতে সর্বোচ্চ বাজেট বরাদ্দের পরও প্রত্যাশিত ফল মিলছে না: শিক্ষামন্ত্রী

শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, বর্তমান সরকার শিক্ষা খাতে অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে সর্বোচ্চ বাজেট বরাদ্দ করেছে, যা মোট বাজেটের দুই শতাংশ। তবে, শিক্ষার গুণগত মান বা ‘লার্নিং আউটকাম’ এখনও সন্তোষজনক পর্যায়ে পৌঁছায়নি। এই সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সমাধানের জন্য সরকার কাজ করছে বলে তিনি জানান।

রবিবার রাজধানীর বনানীতে ‘বাংলাদেশের শিক্ষা খাত বিশ্লেষণ’ শীর্ষক এক কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের আনন্দময় শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে। এই লক্ষ্যে শিক্ষায় ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক বিষয় যুক্ত করা হচ্ছে। প্রাথমিক স্তরে ঝরে পড়ার হার কমাতে স্কুল ইউনিফর্ম, মিড-ডে মিল এবং স্যানিটেশন ব্যবস্থার উন্নয়নের মতো বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, প্রাথমিক, মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক এবং উচ্চশিক্ষার মধ্যে সমন্বয় সাধনের জন্য কাজ চলছে। প্রাথমিক শিক্ষার ব্যয় কমানোর ব্যাপারে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। দেশের সকল স্কুলে প্রি-প্রাইমারি ক্লাস চালু করা হবে এবং প্রাথমিক শিক্ষার উন্নয়নে গৃহীত পদক্ষেপগুলি আগামী ১৮০ দিনের মধ্যে বাস্তবায়ন করা হবে। তিনি জানান, আগামী বছরের মধ্যে সরকারিভাবে প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের মিড-ডে মিল, ইউনিফর্ম, ব্যাগ ও জুতা প্রদান করা হবে। মানসম্মত শিক্ষার অভাবের কারণে অনেক অভিভাবক কিন্ডারগার্টেনের দিকে ঝুঁকছেন উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে এবং এখন থেকে শিক্ষা খাতে ব্যয়ের বিপরীতে প্রাপ্ত ফলাফলকেও গুরুত্ব দেওয়া হবে।

শিক্ষক বদলি প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, অতীতে শিক্ষকদের বদলি নিয়ে একটি সিন্ডিকেট তৈরি হয়েছিল। এখন থেকে প্রাথমিক স্তরের শিক্ষকদের বদলির বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসনের হাতে ন্যস্ত করা হবে। আগামী দুই বছরের মধ্যে প্রশিক্ষণ ছাড়া কোনো শিক্ষক ক্লাসরুমে পাঠদান করতে পারবেন না। তিনি আরও জানান, ২০২৭ সালের কারিকুলামে প্রাথমিক পর্যায়ে ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা হবে। এছাড়া, প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর জন্য একটি নির্দিষ্ট স্কুল ক্যালেন্ডার তৈরি করা হবে। সামগ্রিকভাবে, সরকার কারিকুলাম, শিক্ষক, অবকাঠামো এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাতে কাজ করছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

শ্যামনগরে অবৈধ বালু উত্তোলন: বাল্কহেড জব্দ, দুই কারাদণ্ড

শিক্ষাখাতে সর্বোচ্চ বাজেট বরাদ্দের পরও প্রত্যাশিত ফল মিলছে না: শিক্ষামন্ত্রী

আপডেট সময় : ০৪:১৯:৫৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬

শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, বর্তমান সরকার শিক্ষা খাতে অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে সর্বোচ্চ বাজেট বরাদ্দ করেছে, যা মোট বাজেটের দুই শতাংশ। তবে, শিক্ষার গুণগত মান বা ‘লার্নিং আউটকাম’ এখনও সন্তোষজনক পর্যায়ে পৌঁছায়নি। এই সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সমাধানের জন্য সরকার কাজ করছে বলে তিনি জানান।

রবিবার রাজধানীর বনানীতে ‘বাংলাদেশের শিক্ষা খাত বিশ্লেষণ’ শীর্ষক এক কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের আনন্দময় শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে। এই লক্ষ্যে শিক্ষায় ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক বিষয় যুক্ত করা হচ্ছে। প্রাথমিক স্তরে ঝরে পড়ার হার কমাতে স্কুল ইউনিফর্ম, মিড-ডে মিল এবং স্যানিটেশন ব্যবস্থার উন্নয়নের মতো বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, প্রাথমিক, মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক এবং উচ্চশিক্ষার মধ্যে সমন্বয় সাধনের জন্য কাজ চলছে। প্রাথমিক শিক্ষার ব্যয় কমানোর ব্যাপারে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। দেশের সকল স্কুলে প্রি-প্রাইমারি ক্লাস চালু করা হবে এবং প্রাথমিক শিক্ষার উন্নয়নে গৃহীত পদক্ষেপগুলি আগামী ১৮০ দিনের মধ্যে বাস্তবায়ন করা হবে। তিনি জানান, আগামী বছরের মধ্যে সরকারিভাবে প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের মিড-ডে মিল, ইউনিফর্ম, ব্যাগ ও জুতা প্রদান করা হবে। মানসম্মত শিক্ষার অভাবের কারণে অনেক অভিভাবক কিন্ডারগার্টেনের দিকে ঝুঁকছেন উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে এবং এখন থেকে শিক্ষা খাতে ব্যয়ের বিপরীতে প্রাপ্ত ফলাফলকেও গুরুত্ব দেওয়া হবে।

শিক্ষক বদলি প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, অতীতে শিক্ষকদের বদলি নিয়ে একটি সিন্ডিকেট তৈরি হয়েছিল। এখন থেকে প্রাথমিক স্তরের শিক্ষকদের বদলির বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসনের হাতে ন্যস্ত করা হবে। আগামী দুই বছরের মধ্যে প্রশিক্ষণ ছাড়া কোনো শিক্ষক ক্লাসরুমে পাঠদান করতে পারবেন না। তিনি আরও জানান, ২০২৭ সালের কারিকুলামে প্রাথমিক পর্যায়ে ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা হবে। এছাড়া, প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর জন্য একটি নির্দিষ্ট স্কুল ক্যালেন্ডার তৈরি করা হবে। সামগ্রিকভাবে, সরকার কারিকুলাম, শিক্ষক, অবকাঠামো এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাতে কাজ করছে।