ঢাকা ১১:৫১ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬

কৃষি ও পরিবেশ রক্ষায় দেশজুড়ে খাল খনন বিপ্লবের ঘোষণা পানি সম্পদ মন্ত্রীর

দেশের কৃষি খাতকে সুরক্ষিত করতে এবং টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সরকার দেশব্যাপী বড় পরিসরে খাল খনন কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। এই উদ্যোগকে একটি ‘বিপ্লব’ ও ‘আন্দোলন’ হিসেবে অভিহিত করেছেন পানি সম্পদ মন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। সোমবার (২ মার্চ) দুপুরে গাজীপুরের শ্রীপুর পৌরসভার ঐতিহ্যবাহী চৌক্কার খাল পরিদর্শন শেষে আয়োজিত এক সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা জানান।

মন্ত্রী বলেন, “দেশকে নতুনভাবে গড়তে হলে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত করা অপরিহার্য। খাল খনন কেবল সৌন্দর্যবর্ধনের কোনো প্রকল্প নয়; এটি কৃষি, মৎস্য সম্পদ, পরিবেশ রক্ষা এবং জনস্বাস্থ্যের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত একটি জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের দূরদর্শী চিন্তা থেকেই এই কর্মসূচির সূচনা হয়েছিল। এমনকি এই চৌক্কার খাল খননের সময় তিনি নিজে উপস্থিত থেকে স্বেচ্ছাশ্রমে অংশ নিয়েছিলেন, যা আজ ইতিহাসের অংশ।

খাল পুনঃখননের সুফল তুলে ধরে মন্ত্রী জানান, এই কর্মসূচির ফলে খালের দুই পাড়ে বৃক্ষরোপণ ও মাছ চাষের সুযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে সেচ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং জলাবদ্ধতা নিরসনের মাধ্যমে কৃষি উৎপাদন বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে। একসময় এই খালের পানি দিয়ে স্থানীয় কৃষকরা চাষাবাদ করতেন এবং প্রচুর মাছ পাওয়া যেত—সরকার সেই সোনালী অতীত ফিরিয়ে আনতে বদ্ধপরিকর।

বর্তমানে খালের বিভিন্ন অংশ অবৈধ দখল ও বর্জ্যের কারণে ভরাট হয়ে যাওয়ার বিষয়ে মন্ত্রী কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। তিনি বলেন, “প্রভাবশালীরা যারা খাল দখল করে রেখেছে, তাদের দ্রুত উচ্ছেদ করা হবে। জনগণের সম্পদ জনগণের কাছেই ফিরিয়ে দেওয়া হবে।” সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী আগামী পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে, যার অংশ হিসেবে প্রাথমিক পর্যায়ে এক হাজার কিলোমিটার খালের কাজ শুরু হয়েছে।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, শিল্পায়নের প্রয়োজনীয়তা থাকলেও পরিবেশকে হুমকির মুখে ফেলা যাবে না। শিল্পকারখানার বর্জ্য যাতে খাল বা নদীর পানি দূষিত করতে না পারে, সেজন্য কার্যকর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা হবে। বিশেষ করে চৌক্কার খালের পাশের কারখানাগুলোকে এই পরিকল্পনার আওতায় আনা হবে।

শ্রীপুর উপজেলা ও পৌর বিএনপির যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ এবং গাজীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক ডা. এস এম রফিকুল ইসলাম বাচ্চু।

শ্রীপুর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুল মোতালেবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, জেলা প্রশাসক এবং স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, সরকারের এই সময়োপযোগী পদক্ষেপের ফলে দখল ও দূষণে অস্তিত্ব সংকটে পড়া চৌক্কার খাল পুনরায় প্রাণ ফিরে পাবে এবং স্থানীয় কৃষি ও জনজীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরানে মার্কিন-ইসরাইলি আগ্রাসন: মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ, দায়ীদের বিচারের দাবি ভাসানী জনশক্তি পার্টির

কৃষি ও পরিবেশ রক্ষায় দেশজুড়ে খাল খনন বিপ্লবের ঘোষণা পানি সম্পদ মন্ত্রীর

আপডেট সময় : ১০:২১:৫১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ মার্চ ২০২৬

দেশের কৃষি খাতকে সুরক্ষিত করতে এবং টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সরকার দেশব্যাপী বড় পরিসরে খাল খনন কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। এই উদ্যোগকে একটি ‘বিপ্লব’ ও ‘আন্দোলন’ হিসেবে অভিহিত করেছেন পানি সম্পদ মন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। সোমবার (২ মার্চ) দুপুরে গাজীপুরের শ্রীপুর পৌরসভার ঐতিহ্যবাহী চৌক্কার খাল পরিদর্শন শেষে আয়োজিত এক সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা জানান।

মন্ত্রী বলেন, “দেশকে নতুনভাবে গড়তে হলে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত করা অপরিহার্য। খাল খনন কেবল সৌন্দর্যবর্ধনের কোনো প্রকল্প নয়; এটি কৃষি, মৎস্য সম্পদ, পরিবেশ রক্ষা এবং জনস্বাস্থ্যের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত একটি জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের দূরদর্শী চিন্তা থেকেই এই কর্মসূচির সূচনা হয়েছিল। এমনকি এই চৌক্কার খাল খননের সময় তিনি নিজে উপস্থিত থেকে স্বেচ্ছাশ্রমে অংশ নিয়েছিলেন, যা আজ ইতিহাসের অংশ।

খাল পুনঃখননের সুফল তুলে ধরে মন্ত্রী জানান, এই কর্মসূচির ফলে খালের দুই পাড়ে বৃক্ষরোপণ ও মাছ চাষের সুযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে সেচ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং জলাবদ্ধতা নিরসনের মাধ্যমে কৃষি উৎপাদন বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে। একসময় এই খালের পানি দিয়ে স্থানীয় কৃষকরা চাষাবাদ করতেন এবং প্রচুর মাছ পাওয়া যেত—সরকার সেই সোনালী অতীত ফিরিয়ে আনতে বদ্ধপরিকর।

বর্তমানে খালের বিভিন্ন অংশ অবৈধ দখল ও বর্জ্যের কারণে ভরাট হয়ে যাওয়ার বিষয়ে মন্ত্রী কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। তিনি বলেন, “প্রভাবশালীরা যারা খাল দখল করে রেখেছে, তাদের দ্রুত উচ্ছেদ করা হবে। জনগণের সম্পদ জনগণের কাছেই ফিরিয়ে দেওয়া হবে।” সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী আগামী পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে, যার অংশ হিসেবে প্রাথমিক পর্যায়ে এক হাজার কিলোমিটার খালের কাজ শুরু হয়েছে।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, শিল্পায়নের প্রয়োজনীয়তা থাকলেও পরিবেশকে হুমকির মুখে ফেলা যাবে না। শিল্পকারখানার বর্জ্য যাতে খাল বা নদীর পানি দূষিত করতে না পারে, সেজন্য কার্যকর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা হবে। বিশেষ করে চৌক্কার খালের পাশের কারখানাগুলোকে এই পরিকল্পনার আওতায় আনা হবে।

শ্রীপুর উপজেলা ও পৌর বিএনপির যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ এবং গাজীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক ডা. এস এম রফিকুল ইসলাম বাচ্চু।

শ্রীপুর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুল মোতালেবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, জেলা প্রশাসক এবং স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, সরকারের এই সময়োপযোগী পদক্ষেপের ফলে দখল ও দূষণে অস্তিত্ব সংকটে পড়া চৌক্কার খাল পুনরায় প্রাণ ফিরে পাবে এবং স্থানীয় কৃষি ও জনজীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।