বর্তমান সরকার ক্ষমতায় এসেই প্রশাসনের প্রতিটি স্তরে নগ্ন দলীয়করণ শুরু করেছে বলে অভিযোগ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও সিলেট মহানগর আমীর মুহাম্মদ ফখরুল ইসলাম। তিনি বলেন, সরকারের এই ধরনের কর্মকাণ্ড ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মূল চেতনার পরিপন্থি এবং এটি জুলাই বিপ্লবের শহীদদের রক্তের সাথে এক প্রকার প্রতারণা।
সোমবার সিলেটে মহানগর জামায়াতের মজলিসে শূরার এক বৈঠকে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। নগরীর বন্দরবাজারস্থ কুদরত উল্লাহ মসজিদ মার্কেটে জামায়াতের মহানগর কার্যালয়ে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
মুহাম্মদ ফখরুল ইসলাম বলেন, সরকার গঠনের দুই সপ্তাহ পার হতে না হতেই বাংলাদেশ ব্যাংক, সচিবালয় এবং বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ ও নীতি-নির্ধারণী পদগুলোতে অযোগ্য ও দলীয় ব্যক্তিদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এমনকি সিটি কর্পোরেশনগুলোতে নির্বাচন আয়োজনের উদ্যোগ না নিয়ে সেখানে দলীয় অনুসারীদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়।
দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, পুলিশসহ প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে সরকারের অনাকাঙ্ক্ষিত হস্তক্ষেপের কারণে পরিস্থিতির ক্রমশ অবনতি ঘটছে। সিলেটের স্থানীয় প্রেক্ষাপট উল্লেখ করে তিনি বলেন, নগরীতে ছিনতাইকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) ক্লোজড করা হয়েছে, যা ফ্যাসিবাদেরই একটি প্রতিচ্ছবি। চুরি, ছিনতাই ও চাঁদাবাজি রোধে পুলিশ প্রশাসনে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বন্ধ করা জরুরি।
জামায়াত নেতা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, এ দেশের মানুষ আর কোনো নতুন ফ্যাসিবাদী শাসনব্যবস্থা মেনে নেবে না। জুলাই বিপ্লবের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে সরকারকে দলীয় সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে উঠে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
মহানগর সেক্রেটারি মোহাম্মদ শাহজাহান আলীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে মহানগর নায়েবে আমীর ড. নূরুল ইসলাম বাবুল, সহকারী সেক্রেটারি এডভোকেট মোহাম্মদ আবদুর রব, জাহেদুর রহমান চৌধুরী ও ইসলাম উদ্দিনসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। সভায় বক্তারা দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও সাংগঠনিক কার্যক্রম নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
রিপোর্টারের নাম 



















