ঢাকা ০৬:১৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ঐতিহাসিক পতাকা উত্তোলন দিবস: জাতীয় পরিচয় ও ঐক্যের প্রতীক হিসেবে উত্তোলন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে সোমবার (২ মার্চ) পালিত হয়েছে ঐতিহাসিক পতাকা উত্তোলন দিবস। বিশ্ববিদ্যালয়ের কলাভবন সংলগ্ন বটতলা প্রাঙ্গণে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে জাতীয় পতাকার তাৎপর্য তুলে ধরে উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান মন্তব্য করেন, “জাতীয় পতাকা কোনো সাধারণ কাপড় নয়; এটি একটি জাতির পরিচয়, ঐক্য ও জাগরণের প্রতীক।”

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, ইতিহাসের প্রতিটি মাইলফলক একটি জাতির আত্মপরিচয় নির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ১৯৭১ সালের ২ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলাভবন প্রাঙ্গণে পতাকা উত্তোলন ছিল স্বাধীনতার আন্দোলনের এক ঐতিহাসিক বাঁকবদল। এই দিনটি জাতির চেতনা, সাহস ও আত্মত্যাগের প্রতীক হিসেবে চিরস্মরণীয় হয়ে আছে। তিনি শহীদ ও সংগ্রামী মানুষের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, জাতীয় ঐক্যের কোনো বিকল্প নেই এবং জাতীয় পতাকা আমাদের ঐক্যবদ্ধ রাখবে বলে তিনি প্রত্যাশা করেন। উপাচার্য আরও বলেন, জাতির প্রতিষ্ঠান হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সবসময় দেশ ও জনগণের পাশে ছিল এবং ভবিষ্যতেও থাকবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. সায়মা হক বিদিশা অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। তিনি বলেন, জাতীয় পতাকা উত্তোলনের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামের সূচনাপর্বকে স্মরণ করিয়ে দেয়। সবুজ রং বাংলাদেশের প্রকৃতি, তারুণ্য ও সম্ভাবনার প্রতীক; আর লাল বর্ণ শহীদদের রক্ত ও আত্মত্যাগের প্রতিফলন। জাতীয় পতাকা অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর সাহস জোগায় এবং জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে।

প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ বলেন, ১৯৭১ সালের ১ মার্চ ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ গঠন এবং ২ মার্চ কলাভবন প্রাঙ্গণে ঐতিহাসিক পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে স্বাধীনতার আন্দোলন সুসংগঠিত রূপ পায়। তিনি বলেন, জাতীয় পতাকা কেবল সার্বভৌমত্বের প্রতীক নয়; এটি তারুণ্যের দেশপ্রেম, সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার বহন করে।

কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. এম. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, ১৯৭১ সালে সাহসিকতার সঙ্গে পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে স্বাধীনতার যে প্রত্যয় ঘোষিত হয়েছিল, তার চূড়ান্ত পরিণতি আসে ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয়ের মাধ্যমে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, পতাকা দিবস কেবল আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ থাকার বিষয় নয়; বরং সার্বভৌম, সমৃদ্ধ, গণতান্ত্রিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত সংগ্রাম অব্যাহত রাখতে হবে।

কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান খান অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন। তিনি উল্লেখ করেন, ভাষা আন্দোলন থেকে মুক্তিযুদ্ধ এবং সাম্প্রতিক গণতান্ত্রিক আন্দোলন পর্যন্ত প্রতিটি জাতীয় সংগ্রামে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অগ্রণী ভূমিকা রেখেছে। জাতীয় পতাকা দিবস তাই কেবল আনুষ্ঠানিকতা নয়; বরং ন্যায়ভিত্তিক, মানবিক ও জ্ঞানসমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করার দিন।

অনুষ্ঠানে প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ এবং কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. এম. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন। ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার মুনসী শামস উদ্দিন আহম্মদ অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন। অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, হলের প্রভোস্ট, বিভাগীয় চেয়ারম্যান, ইনস্টিটিউটের পরিচালক, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন। সম্মানীয় অতিথি হিসেবে আ স ম আব্দুর রব আমন্ত্রিত থাকলেও শারীরিক অসুস্থতার কারণে উপস্থিত থাকতে পারেননি।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত বিভাগ ও নৃত্যকলা বিভাগের শিক্ষার্থীরা জাতীয় সংগীত, দেশাত্মবোধক গান ও নৃত্য পরিবেশন করেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জুলাই বিপ্লব মামলা: মেনন-কামরুলের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের আবেদন প্রসিকিউশনের

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ঐতিহাসিক পতাকা উত্তোলন দিবস: জাতীয় পরিচয় ও ঐক্যের প্রতীক হিসেবে উত্তোলন

আপডেট সময় : ০৪:৪৬:৪১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ মার্চ ২০২৬

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে সোমবার (২ মার্চ) পালিত হয়েছে ঐতিহাসিক পতাকা উত্তোলন দিবস। বিশ্ববিদ্যালয়ের কলাভবন সংলগ্ন বটতলা প্রাঙ্গণে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে জাতীয় পতাকার তাৎপর্য তুলে ধরে উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান মন্তব্য করেন, “জাতীয় পতাকা কোনো সাধারণ কাপড় নয়; এটি একটি জাতির পরিচয়, ঐক্য ও জাগরণের প্রতীক।”

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, ইতিহাসের প্রতিটি মাইলফলক একটি জাতির আত্মপরিচয় নির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ১৯৭১ সালের ২ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলাভবন প্রাঙ্গণে পতাকা উত্তোলন ছিল স্বাধীনতার আন্দোলনের এক ঐতিহাসিক বাঁকবদল। এই দিনটি জাতির চেতনা, সাহস ও আত্মত্যাগের প্রতীক হিসেবে চিরস্মরণীয় হয়ে আছে। তিনি শহীদ ও সংগ্রামী মানুষের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, জাতীয় ঐক্যের কোনো বিকল্প নেই এবং জাতীয় পতাকা আমাদের ঐক্যবদ্ধ রাখবে বলে তিনি প্রত্যাশা করেন। উপাচার্য আরও বলেন, জাতির প্রতিষ্ঠান হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সবসময় দেশ ও জনগণের পাশে ছিল এবং ভবিষ্যতেও থাকবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. সায়মা হক বিদিশা অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। তিনি বলেন, জাতীয় পতাকা উত্তোলনের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামের সূচনাপর্বকে স্মরণ করিয়ে দেয়। সবুজ রং বাংলাদেশের প্রকৃতি, তারুণ্য ও সম্ভাবনার প্রতীক; আর লাল বর্ণ শহীদদের রক্ত ও আত্মত্যাগের প্রতিফলন। জাতীয় পতাকা অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর সাহস জোগায় এবং জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে।

প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ বলেন, ১৯৭১ সালের ১ মার্চ ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ গঠন এবং ২ মার্চ কলাভবন প্রাঙ্গণে ঐতিহাসিক পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে স্বাধীনতার আন্দোলন সুসংগঠিত রূপ পায়। তিনি বলেন, জাতীয় পতাকা কেবল সার্বভৌমত্বের প্রতীক নয়; এটি তারুণ্যের দেশপ্রেম, সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার বহন করে।

কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. এম. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, ১৯৭১ সালে সাহসিকতার সঙ্গে পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে স্বাধীনতার যে প্রত্যয় ঘোষিত হয়েছিল, তার চূড়ান্ত পরিণতি আসে ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয়ের মাধ্যমে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, পতাকা দিবস কেবল আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ থাকার বিষয় নয়; বরং সার্বভৌম, সমৃদ্ধ, গণতান্ত্রিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত সংগ্রাম অব্যাহত রাখতে হবে।

কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান খান অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন। তিনি উল্লেখ করেন, ভাষা আন্দোলন থেকে মুক্তিযুদ্ধ এবং সাম্প্রতিক গণতান্ত্রিক আন্দোলন পর্যন্ত প্রতিটি জাতীয় সংগ্রামে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অগ্রণী ভূমিকা রেখেছে। জাতীয় পতাকা দিবস তাই কেবল আনুষ্ঠানিকতা নয়; বরং ন্যায়ভিত্তিক, মানবিক ও জ্ঞানসমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করার দিন।

অনুষ্ঠানে প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ এবং কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. এম. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন। ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার মুনসী শামস উদ্দিন আহম্মদ অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন। অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, হলের প্রভোস্ট, বিভাগীয় চেয়ারম্যান, ইনস্টিটিউটের পরিচালক, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন। সম্মানীয় অতিথি হিসেবে আ স ম আব্দুর রব আমন্ত্রিত থাকলেও শারীরিক অসুস্থতার কারণে উপস্থিত থাকতে পারেননি।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত বিভাগ ও নৃত্যকলা বিভাগের শিক্ষার্থীরা জাতীয় সংগীত, দেশাত্মবোধক গান ও নৃত্য পরিবেশন করেন।