ঢাকা ০৬:৩১ অপরাহ্ন, রবিবার, ০১ মার্চ ২০২৬

খামেনির অবর্তমানেও নতি স্বীকার করবে না ইরান, শঙ্কা সর্বাত্মক যুদ্ধের: সাবেক মার্কিন কর্মকর্তা

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হলেও ওয়াশিংটনের শর্তের কাছে তেহরান নতি স্বীকার করবে না বলে মনে করছেন মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগের সাবেক উপ-সহকারী সচিব মাইকেল মুলরয়। তার মতে, ইরানের শাসনব্যবস্থা ও সামরিক কাঠামো এমনভাবে বিন্যস্ত যে, শীর্ষ নেতৃত্বের অনুপস্থিতিতেও দেশটি তাদের নীতি থেকে সরে আসবে না।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মুলরয় বলেন, ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে অপসারণের চেষ্টার পর খামেনিকে লক্ষ্যবস্তু করা দ্বিতীয় কোনো রাষ্ট্রপ্রধানকে সরিয়ে দেওয়ার মার্কিন প্রচেষ্টার শামিল। তবে ভেনেজুয়েলার তুলনায় ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ও সামরিক সমীকরণ সম্পূর্ণ ভিন্ন। তিনি উল্লেখ করেন, ভেনেজুয়েলায় মাদুরোর সহযোগীরা দুর্বল হলেও ইরানে ক্ষমতার একাধিক শক্তিশালী কেন্দ্র রয়েছে। সেখানে সর্বোচ্চ নেতার পাশাপাশি ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি), সেনাবাহিনী এবং শক্তিশালী গোয়েন্দা সংস্থাগুলো অত্যন্ত সুসংগঠিত।

ইরানের সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে সতর্ক করে এই সাবেক মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, সর্বোচ্চ নেতার মৃত্যুতে ইরান ভেঙে পড়বে—এমন ধারণা ভুল। বরং তেহরানের সাম্প্রতিক অবস্থান এবং কঠোর হুঙ্কার ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। এটি মধ্যপ্রাচ্যকে একটি সর্বাত্মক যুদ্ধের দিকে ঠেলে দেওয়ার আশঙ্কা তৈরি করেছে, যার নেতিবাচক প্রভাব কেবল ইরান বা যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নয়, বরং গোটা উপসাগরীয় অঞ্চলের ওপর পড়বে।

ইরানের সামরিক সক্ষমতা, বিশেষ করে ড্রোন প্রযুক্তির বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে মুলরয় জানান, তেহরান ব্যাপক হারে ড্রোন উৎপাদন করছে এবং দীর্ঘ সময় ধরে তা রুশ বাহিনীকে সরবরাহ করে আসছে। তিনি বলেন, এর আগে দুবাই ও বাহরাইনের বিভিন্ন স্থাপনায় এসব ড্রোনের কার্যকারিতা প্রমাণিত হয়েছে। যদিও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে এগুলো ভূপাতিত করা সম্ভব, তবে একসঙ্গে বিপুল সংখ্যক ড্রোনের আক্রমণ মোকাবিলা করা যেকোনো দেশের নিরাপত্তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

খামেনির মৃত্যু: মধ্যপ্রাচ্যে অনিশ্চয়তা, উত্তেজনা নিরসনে ইইউ’র কূটনৈতিক তৎপরতা

খামেনির অবর্তমানেও নতি স্বীকার করবে না ইরান, শঙ্কা সর্বাত্মক যুদ্ধের: সাবেক মার্কিন কর্মকর্তা

আপডেট সময় : ০৪:২২:২৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ মার্চ ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হলেও ওয়াশিংটনের শর্তের কাছে তেহরান নতি স্বীকার করবে না বলে মনে করছেন মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগের সাবেক উপ-সহকারী সচিব মাইকেল মুলরয়। তার মতে, ইরানের শাসনব্যবস্থা ও সামরিক কাঠামো এমনভাবে বিন্যস্ত যে, শীর্ষ নেতৃত্বের অনুপস্থিতিতেও দেশটি তাদের নীতি থেকে সরে আসবে না।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মুলরয় বলেন, ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে অপসারণের চেষ্টার পর খামেনিকে লক্ষ্যবস্তু করা দ্বিতীয় কোনো রাষ্ট্রপ্রধানকে সরিয়ে দেওয়ার মার্কিন প্রচেষ্টার শামিল। তবে ভেনেজুয়েলার তুলনায় ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ও সামরিক সমীকরণ সম্পূর্ণ ভিন্ন। তিনি উল্লেখ করেন, ভেনেজুয়েলায় মাদুরোর সহযোগীরা দুর্বল হলেও ইরানে ক্ষমতার একাধিক শক্তিশালী কেন্দ্র রয়েছে। সেখানে সর্বোচ্চ নেতার পাশাপাশি ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি), সেনাবাহিনী এবং শক্তিশালী গোয়েন্দা সংস্থাগুলো অত্যন্ত সুসংগঠিত।

ইরানের সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে সতর্ক করে এই সাবেক মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, সর্বোচ্চ নেতার মৃত্যুতে ইরান ভেঙে পড়বে—এমন ধারণা ভুল। বরং তেহরানের সাম্প্রতিক অবস্থান এবং কঠোর হুঙ্কার ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। এটি মধ্যপ্রাচ্যকে একটি সর্বাত্মক যুদ্ধের দিকে ঠেলে দেওয়ার আশঙ্কা তৈরি করেছে, যার নেতিবাচক প্রভাব কেবল ইরান বা যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নয়, বরং গোটা উপসাগরীয় অঞ্চলের ওপর পড়বে।

ইরানের সামরিক সক্ষমতা, বিশেষ করে ড্রোন প্রযুক্তির বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে মুলরয় জানান, তেহরান ব্যাপক হারে ড্রোন উৎপাদন করছে এবং দীর্ঘ সময় ধরে তা রুশ বাহিনীকে সরবরাহ করে আসছে। তিনি বলেন, এর আগে দুবাই ও বাহরাইনের বিভিন্ন স্থাপনায় এসব ড্রোনের কার্যকারিতা প্রমাণিত হয়েছে। যদিও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে এগুলো ভূপাতিত করা সম্ভব, তবে একসঙ্গে বিপুল সংখ্যক ড্রোনের আক্রমণ মোকাবিলা করা যেকোনো দেশের নিরাপত্তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।