ঢাকা ০৬:৩১ অপরাহ্ন, রবিবার, ০১ মার্চ ২০২৬

আয়াতুল্লাহ খামেনির প্রয়াণ: শেষ ভাষণেও দিয়ে গেছেন প্রতিরোধের ডাক

ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সামরিক হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হয়েছেন। আজ রোববার (১ মার্চ) তেহরানের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশ্বরাজনীতির এই প্রভাবশালী নেতার চিরবিদায়ের খবরে মধ্যপ্রাচ্যসহ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।

মৃত্যুর ঠিক ১১ দিন আগে শেষবারের মতো জনসম্মুখে ভাষণ দিয়েছিলেন আয়াতুল্লাহ খামেনি। সেই ভাষণে তিনি ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা এবং শত্রুর মোকাবিলায় প্রতিরোধমূলক সমরাস্ত্রের প্রয়োজনীয়তার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছিলেন।

জেনেভায় ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা শুরু হওয়ার প্রেক্ষাপটে দেওয়া ওই ভাষণে খামেনি অত্যন্ত কঠোর ভাষায় নিজের অবস্থান ব্যক্ত করেন। তিনি বলেছিলেন, “একটি স্বাধীন জাতির জন্য প্রতিরোধক্ষম অস্ত্র থাকা অপরিহার্য। যে দেশের আত্মরক্ষার শক্তি নেই, শত্রুরা তাকে পায়ের নিচে পিষে ফেলবে।”

ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে পশ্চিমা বিশ্বের উদ্বেগকে সরাসরি নাকচ করে দিয়ে তিনি সেদিন বলেছিলেন, “আমাদের ক্ষেপণাস্ত্রের ধরন বা পাল্লা কেমন হবে, তা নির্ধারণ করার অধিকার অন্য কোনো দেশের নেই। আমেরিকানরা অযথাই এ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করার চেষ্টা করছে। এটি সম্পূর্ণভাবে ইরানি জাতির নিজস্ব সিদ্ধান্ত এবং প্রয়োজনীয়তার বিষয়।”

যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শ্রেষ্ঠত্বের দাবিকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে খামেনি তাঁর শেষ বক্তব্যে বলেছিলেন, “মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারবার দাবি করেন যে তাদের সেনাবাহিনী বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী। কিন্তু ইতিহাস সাক্ষী, তথাকথিত শক্তিশালী বাহিনীও কখনো এমন চরম আঘাতের সম্মুখীন হতে পারে যে, তারা আর সোজা হয়ে দাঁড়ানোর ক্ষমতা পায় না।”

আয়াতুল্লাহ খামেনির এই শেষ ভাষণটি এখন তাঁর রাজনৈতিক ও সামরিক দর্শনের চূড়ান্ত বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে, যেখানে তিনি আমৃত্যু নিজ দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় আপসহীন অবস্থানের কথা জানিয়ে গেছেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

খামেনির মৃত্যু: মধ্যপ্রাচ্যে অনিশ্চয়তা, উত্তেজনা নিরসনে ইইউ’র কূটনৈতিক তৎপরতা

আয়াতুল্লাহ খামেনির প্রয়াণ: শেষ ভাষণেও দিয়ে গেছেন প্রতিরোধের ডাক

আপডেট সময় : ০৪:২৫:৩২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ মার্চ ২০২৬

ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সামরিক হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হয়েছেন। আজ রোববার (১ মার্চ) তেহরানের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশ্বরাজনীতির এই প্রভাবশালী নেতার চিরবিদায়ের খবরে মধ্যপ্রাচ্যসহ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।

মৃত্যুর ঠিক ১১ দিন আগে শেষবারের মতো জনসম্মুখে ভাষণ দিয়েছিলেন আয়াতুল্লাহ খামেনি। সেই ভাষণে তিনি ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা এবং শত্রুর মোকাবিলায় প্রতিরোধমূলক সমরাস্ত্রের প্রয়োজনীয়তার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছিলেন।

জেনেভায় ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা শুরু হওয়ার প্রেক্ষাপটে দেওয়া ওই ভাষণে খামেনি অত্যন্ত কঠোর ভাষায় নিজের অবস্থান ব্যক্ত করেন। তিনি বলেছিলেন, “একটি স্বাধীন জাতির জন্য প্রতিরোধক্ষম অস্ত্র থাকা অপরিহার্য। যে দেশের আত্মরক্ষার শক্তি নেই, শত্রুরা তাকে পায়ের নিচে পিষে ফেলবে।”

ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে পশ্চিমা বিশ্বের উদ্বেগকে সরাসরি নাকচ করে দিয়ে তিনি সেদিন বলেছিলেন, “আমাদের ক্ষেপণাস্ত্রের ধরন বা পাল্লা কেমন হবে, তা নির্ধারণ করার অধিকার অন্য কোনো দেশের নেই। আমেরিকানরা অযথাই এ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করার চেষ্টা করছে। এটি সম্পূর্ণভাবে ইরানি জাতির নিজস্ব সিদ্ধান্ত এবং প্রয়োজনীয়তার বিষয়।”

যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শ্রেষ্ঠত্বের দাবিকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে খামেনি তাঁর শেষ বক্তব্যে বলেছিলেন, “মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারবার দাবি করেন যে তাদের সেনাবাহিনী বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী। কিন্তু ইতিহাস সাক্ষী, তথাকথিত শক্তিশালী বাহিনীও কখনো এমন চরম আঘাতের সম্মুখীন হতে পারে যে, তারা আর সোজা হয়ে দাঁড়ানোর ক্ষমতা পায় না।”

আয়াতুল্লাহ খামেনির এই শেষ ভাষণটি এখন তাঁর রাজনৈতিক ও সামরিক দর্শনের চূড়ান্ত বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে, যেখানে তিনি আমৃত্যু নিজ দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় আপসহীন অবস্থানের কথা জানিয়ে গেছেন।