ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির শাহাদাত এবং দেশটির ওপর মার্কিন-ইসরাইলি যৌথ সামরিক আগ্রাসনের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও তীব্র নিন্দা প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির। আজ রোববার এক যৌথ বিবৃতিতে সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ এই প্রতিবাদ জানান।
বিবৃতিতে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম ও সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ সিবগা বলেন, আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ছিলেন বিশ্বজুড়ে সাম্রাজ্যবাদ ও জায়নবাদী অপশক্তির বিরুদ্ধে এক আপসহীন ও অকুতোভয় কণ্ঠস্বর। তিনি আজীবন মজলুমের অধিকার আদায়ে সম্মুখ সারিতে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। ফিলিস্তিনসহ বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে নির্যাতিত মুসলিমদের জন্য তিনি ছিলেন এক নির্ভরতার প্রতীক। সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলো তাকে হত্যার মাধ্যমে মূলত ন্যায়বিচারের কণ্ঠস্বরকে স্তব্ধ করতে চেয়েছে। তবে নিজ মাতৃভূমি রক্ষায় তার এই আত্মত্যাগ প্রমাণ করে যে, সত্যের সৈনিকরা কখনোই অন্যায়ের কাছে মাথা নত করে না।
শিবির নেতৃবৃন্দ উল্লেখ করেন, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ক্রমাগত হুমকি এই পরিকল্পিত হামলার মাধ্যমে বাস্তবে রূপ নিয়েছে। হঠাৎ শুরু হওয়া এই নগ্ন বিমান হামলায় ইরানের ব্যাপক অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানি ঘটেছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, এই হামলায় ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী আজিজ নাসিরজাদেহ, আইআরজিসি কমান্ডার মোহাম্মদ পাকপোর ও নিরাপত্তা উপদেষ্টা আলি শামখানিসহ বেশ কয়েকজন শীর্ষস্থানীয় সামরিক কর্মকর্তা এবং খামেনির পরিবারের সদস্যরাও শাহাদাত বরণ করেছেন।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, দক্ষিণ ইরানের একটি বালিকা বিদ্যালয়ে ইসরাইলি বাহিনীর বর্বরোচিত হামলায় অন্তত ৮৫ জন নিরপরাধ শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে, যা অত্যন্ত পৈশাচিক ও অমানবিক। এই ধরনের হামলা আন্তর্জাতিক মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন এবং এটি প্রমাণ করে যে, সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলো বর্তমান বিশ্বসভ্যতা ও মানবতার জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
নেতৃবৃন্দ বলেন, আমেরিকা ও ইসরাইল বর্তমানে বিশ্বজুড়ে যে আধিপত্যবাদ চালাচ্ছে, তা বিশ্বশান্তিকে চরম সংকটের মুখে ঠেলে দিচ্ছে। ফিলিস্তিনে দীর্ঘস্থায়ী নির্যাতন ও ইরানে এই নগ্ন হামলা একই সূত্রে গাঁথা। আয়াতুল্লাহ খামেনিকে হত্যার মাধ্যমে মুসলিম উম্মাহর প্রতিরোধ দমানো যাবে না, বরং এই রক্ত থেকে আরও লক্ষ লক্ষ প্রতিবাদী কণ্ঠস্বরের জন্ম হবে।
পরিশেষে, ছাত্রশিবিরের পক্ষ থেকে বিশ্বশান্তি ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় অবিলম্বে এই যুদ্ধ বন্ধ করার আহ্বান জানানো হয়। নেতৃবৃন্দ মনে করেন, রক্তক্ষয়ী সংঘাতের বদলে কূটনৈতিক সংলাপই বর্তমান সংকটের একমাত্র সমাধান। একই সাথে তারা নিহতদের রূহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং বিশ্ববাসীকে এই আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান।
রিপোর্টারের নাম 

























