ঢাকা ০২:১৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ০১ মার্চ ২০২৬

শঙ্কা ছাপিয়ে বইমেলায় বাড়ছে পাঠক ও ক্রেতার পদচারণা

পবিত্র রমজান মাসে অমর একুশে বইমেলা আয়োজন নিয়ে প্রকাশকদের মনে যে ধরনের শঙ্কা ছিল, বাস্তব চিত্র তার চেয়ে অনেকটাই ইতিবাচক। মেলা প্রাঙ্গণে ক্রেতাশূন্য থাকার ভয় কাটিয়ে প্রতিদিন বাড়ছে বইপ্রেমীদের ভিড়। বিশেষ করে ছুটির দিনে দর্শনার্থীদের সরব উপস্থিতি মেলায় নতুন প্রাণের সঞ্চার করেছে।

শনিবার রাজধানীর বাংলা একাডেমি ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যান প্রাঙ্গণ ঘুরে দেখা যায়, সকালের দিকে দর্শনার্থীর সংখ্যা কিছুটা কম থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে ভিড়। বিকেলের মিঠে রোদ আর ইফতারের আগের সময়টুকুতে পাঠকরা বিভিন্ন স্টল ঘুরে পছন্দের বই সংগ্রহ করছেন। কেনাকাটার এই ধারা অব্যাহত থাকছে ইফতারের পরবর্তী সময়েও।

মেলার সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে বাংলা একাডেমির বিক্রয়কেন্দ্রে দায়িত্বরতরা জানান, অন্য বছরের তুলনায় এবার লোকসমাগম কিছুটা কম হলেও পরিস্থিতি আশাব্যঞ্জক। শুরুতে তারা যেমনটি ভেবেছিলেন, তার চেয়ে অনেক বেশি পাঠক মেলায় আসছেন এবং বই কিনছেন। প্রতিদিনের বিক্রিতেও তারা সন্তোষ প্রকাশ করেন।

বিভিন্ন প্রকাশনা সংস্থার বিক্রয়কর্মীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, রোজার কারণে মেলায় দর্শনার্থীর চাপ কিছুটা কম হলেও যারা আসছেন, তাদের বড় অংশই প্রকৃত পাঠক। ঈদকে সামনে রেখে সামনের দিনগুলোতে বিক্রি আরও বাড়বে বলে তারা আশা করছেন। ব্রাদার্স পাবলিকেশনের এক বিক্রয়কর্মী জানান, রমজান ও ঈদের প্রস্তুতির কারণে এখন ভিড় কিছুটা কম মনে হলেও ইফতারের আগে-পরে পাঠকদের ভালো সাড়া পাওয়া যাচ্ছে।

নোলক প্রকাশনের বিক্রয়কর্মী তাপস রায় বিষয়টিকে দেখছেন ভিন্নভাবে। তার মতে, মেলায় সাধারণ দর্শনার্থী কমলেও প্রকৃত পাঠকের অভাব নেই। তিনি বলেন, “যারা বই ভালোবাসেন, তাদের কাছে রমজান কোনো বাধা নয়। তারা ঠিকই সময় করে মেলায় আসছেন।” তবে অনেক স্টল এখনো পুরোপুরি প্রস্তুত না হওয়া এবং প্রচারণার ঘাটতিকে কিছুটা নেতিবাচক হিসেবে দেখছেন কোনো কোনো প্রকাশক।

মহাকাল প্রকাশনের প্রকাশক মৃধা মো. মনিরুজ্জামান জানান, ছুটির দিনের তুলনায় ভিড় আগের বছরগুলোর মতো না হলেও পাঠকদের আগ্রহ তাদের আশাবাদী করছে। সময়ের সাথে মানিয়ে নিয়ে পাঠকরা বিকেলের দিকেই বেশি আসছেন। প্রচার-প্রচারণা আরও বাড়ানো গেলে মেলায় লোকসমাগম আরও বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। সামগ্রিকভাবে, রমজানের ক্লান্তি ছাপিয়ে বইপ্রেমীদের উপস্থিতিতে অমর একুশে বইমেলা তার চিরাচরিত রূপ ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

স্বাদে ভিন্নতা ও মুখরোচক ইফতার: ঘরেই তৈরি করুন সহজ তিন পদ

শঙ্কা ছাপিয়ে বইমেলায় বাড়ছে পাঠক ও ক্রেতার পদচারণা

আপডেট সময় : ১২:১৪:৩৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ মার্চ ২০২৬

পবিত্র রমজান মাসে অমর একুশে বইমেলা আয়োজন নিয়ে প্রকাশকদের মনে যে ধরনের শঙ্কা ছিল, বাস্তব চিত্র তার চেয়ে অনেকটাই ইতিবাচক। মেলা প্রাঙ্গণে ক্রেতাশূন্য থাকার ভয় কাটিয়ে প্রতিদিন বাড়ছে বইপ্রেমীদের ভিড়। বিশেষ করে ছুটির দিনে দর্শনার্থীদের সরব উপস্থিতি মেলায় নতুন প্রাণের সঞ্চার করেছে।

শনিবার রাজধানীর বাংলা একাডেমি ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যান প্রাঙ্গণ ঘুরে দেখা যায়, সকালের দিকে দর্শনার্থীর সংখ্যা কিছুটা কম থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে ভিড়। বিকেলের মিঠে রোদ আর ইফতারের আগের সময়টুকুতে পাঠকরা বিভিন্ন স্টল ঘুরে পছন্দের বই সংগ্রহ করছেন। কেনাকাটার এই ধারা অব্যাহত থাকছে ইফতারের পরবর্তী সময়েও।

মেলার সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে বাংলা একাডেমির বিক্রয়কেন্দ্রে দায়িত্বরতরা জানান, অন্য বছরের তুলনায় এবার লোকসমাগম কিছুটা কম হলেও পরিস্থিতি আশাব্যঞ্জক। শুরুতে তারা যেমনটি ভেবেছিলেন, তার চেয়ে অনেক বেশি পাঠক মেলায় আসছেন এবং বই কিনছেন। প্রতিদিনের বিক্রিতেও তারা সন্তোষ প্রকাশ করেন।

বিভিন্ন প্রকাশনা সংস্থার বিক্রয়কর্মীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, রোজার কারণে মেলায় দর্শনার্থীর চাপ কিছুটা কম হলেও যারা আসছেন, তাদের বড় অংশই প্রকৃত পাঠক। ঈদকে সামনে রেখে সামনের দিনগুলোতে বিক্রি আরও বাড়বে বলে তারা আশা করছেন। ব্রাদার্স পাবলিকেশনের এক বিক্রয়কর্মী জানান, রমজান ও ঈদের প্রস্তুতির কারণে এখন ভিড় কিছুটা কম মনে হলেও ইফতারের আগে-পরে পাঠকদের ভালো সাড়া পাওয়া যাচ্ছে।

নোলক প্রকাশনের বিক্রয়কর্মী তাপস রায় বিষয়টিকে দেখছেন ভিন্নভাবে। তার মতে, মেলায় সাধারণ দর্শনার্থী কমলেও প্রকৃত পাঠকের অভাব নেই। তিনি বলেন, “যারা বই ভালোবাসেন, তাদের কাছে রমজান কোনো বাধা নয়। তারা ঠিকই সময় করে মেলায় আসছেন।” তবে অনেক স্টল এখনো পুরোপুরি প্রস্তুত না হওয়া এবং প্রচারণার ঘাটতিকে কিছুটা নেতিবাচক হিসেবে দেখছেন কোনো কোনো প্রকাশক।

মহাকাল প্রকাশনের প্রকাশক মৃধা মো. মনিরুজ্জামান জানান, ছুটির দিনের তুলনায় ভিড় আগের বছরগুলোর মতো না হলেও পাঠকদের আগ্রহ তাদের আশাবাদী করছে। সময়ের সাথে মানিয়ে নিয়ে পাঠকরা বিকেলের দিকেই বেশি আসছেন। প্রচার-প্রচারণা আরও বাড়ানো গেলে মেলায় লোকসমাগম আরও বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। সামগ্রিকভাবে, রমজানের ক্লান্তি ছাপিয়ে বইপ্রেমীদের উপস্থিতিতে অমর একুশে বইমেলা তার চিরাচরিত রূপ ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে।