ঢাকা ০৫:৪২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬

পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচনে বিজেপির জয়ে বিএনপি’র অভিনন্দন, তিস্তা চুক্তি নিয়ে আশাবাদ

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) বিশাল বিজয়ে বাংলাদেশের ক্ষমতাসীন দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) অভিনন্দন জানিয়েছে। একই সঙ্গে তিস্তা পানি বণ্টন চুক্তি নিয়ে দীর্ঘদিনের অচলাবস্থার জন্য বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কড়া সমালোচনা করেছে দলটি। বিএনপি মনে করে, পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতার এই পরিবর্তন বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের এই রাজ্যের সম্পর্ককে আরও সুসংহত করবে এবং তিস্তা চুক্তির পথ প্রশস্ত করবে।

ভারতীয় বার্তা সংস্থা এএনআই-এর সঙ্গে আলাপকালে বিএনপির তথ্যবিষয়ক সম্পাদক আজিজুল বারী হেলাল শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে বিজেপির এই অভাবনীয় সাফল্যের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, এই জয়ের ফলে দুই দেশের সম্পর্ক ইতিবাচক ধারায় এগিয়ে যাবে। আজিজুল বারী হেলাল পশ্চিমবঙ্গের এই নির্বাচনি ফলের সঙ্গে দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত তিস্তা পানি বণ্টন চুক্তির যোগসূত্র তুলে ধরেন। তিনি অভিযোগ করেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেস সরকার তিস্তা ব্যারেজ চুক্তির পথে প্রধান অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছিল। হেলাল আশা প্রকাশ করেন, শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে পশ্চিমবঙ্গে এখন বিজেপির সরকার প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় তারা ভারতের নরেন্দ্র মোদি সরকারের সঙ্গে একাত্ম হয়ে কাজ করতে পারবে। এর ফলে বাংলাদেশের দীর্ঘ প্রতীক্ষিত এই চুক্তিটি বাস্তবায়ন করা সহজ হবে।

হেলালের মতে, শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে বিজেপির এই বিজয় পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে। রাজ্যটির সঙ্গে বাংলাদেশের দীর্ঘতম সীমান্ত রয়েছে। ক্ষমতার এই পরিবর্তন ঢাকা ও কলকাতার মধ্যে বিদ্যমান সীমান্ত সমস্যা নিরসনে এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উন্নয়নে একটি ইতিবাচক মোড় হিসেবে দেখছেন তিনি। তিস্তা ইস্যু নিয়ে হেলাল আরও বলেন, পশ্চিমবঙ্গ সরকারই ছিল এই অগ্রগতির প্রধান বাধা। তার দাবি, তিস্তা ব্যারেজ চুক্তিটি বাংলাদেশ সরকার এবং ভারতের নরেন্দ্র মোদি সরকার উভয় পক্ষই জোরালোভাবে সমর্থন করেছিল। কিন্তু তৃণমূল কংগ্রেসের বিরোধিতার কারণে তা থমকে ছিল। এখন যেহেতু বিজেপি তৃণমূলের স্থলাভিষিক্ত হয়েছে, তাই শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্ব এই প্রকল্পকে এগিয়ে নিতে সহায়ক হবে। আজিজুল বারী হেলাল এএনআই-কে বলেন, প্রকৃতপক্ষে আমরা এর আগে দেখেছি যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই ছিলেন তিস্তা চুক্তির ক্ষেত্রে মূল প্রতিবন্ধক। এখন আমার মতে, যেহেতু শুভেন্দুর নেতৃত্বে বিজেপি নির্বাচনে জয়লাভ করেছে, তাই এই চুক্তি বাস্তবায়ন সহজ হবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

দীর্ঘ ৩৯ বছরের শিক্ষকতা শেষে মতলবে প্রধান শিক্ষককে আবেগঘন বিদায় সংবর্ধনা

পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচনে বিজেপির জয়ে বিএনপি’র অভিনন্দন, তিস্তা চুক্তি নিয়ে আশাবাদ

আপডেট সময় : ০৮:৩৫:২০ অপরাহ্ন, বুধবার, ৬ মে ২০২৬

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) বিশাল বিজয়ে বাংলাদেশের ক্ষমতাসীন দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) অভিনন্দন জানিয়েছে। একই সঙ্গে তিস্তা পানি বণ্টন চুক্তি নিয়ে দীর্ঘদিনের অচলাবস্থার জন্য বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কড়া সমালোচনা করেছে দলটি। বিএনপি মনে করে, পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতার এই পরিবর্তন বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের এই রাজ্যের সম্পর্ককে আরও সুসংহত করবে এবং তিস্তা চুক্তির পথ প্রশস্ত করবে।

ভারতীয় বার্তা সংস্থা এএনআই-এর সঙ্গে আলাপকালে বিএনপির তথ্যবিষয়ক সম্পাদক আজিজুল বারী হেলাল শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে বিজেপির এই অভাবনীয় সাফল্যের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, এই জয়ের ফলে দুই দেশের সম্পর্ক ইতিবাচক ধারায় এগিয়ে যাবে। আজিজুল বারী হেলাল পশ্চিমবঙ্গের এই নির্বাচনি ফলের সঙ্গে দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত তিস্তা পানি বণ্টন চুক্তির যোগসূত্র তুলে ধরেন। তিনি অভিযোগ করেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেস সরকার তিস্তা ব্যারেজ চুক্তির পথে প্রধান অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছিল। হেলাল আশা প্রকাশ করেন, শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে পশ্চিমবঙ্গে এখন বিজেপির সরকার প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় তারা ভারতের নরেন্দ্র মোদি সরকারের সঙ্গে একাত্ম হয়ে কাজ করতে পারবে। এর ফলে বাংলাদেশের দীর্ঘ প্রতীক্ষিত এই চুক্তিটি বাস্তবায়ন করা সহজ হবে।

হেলালের মতে, শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে বিজেপির এই বিজয় পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে। রাজ্যটির সঙ্গে বাংলাদেশের দীর্ঘতম সীমান্ত রয়েছে। ক্ষমতার এই পরিবর্তন ঢাকা ও কলকাতার মধ্যে বিদ্যমান সীমান্ত সমস্যা নিরসনে এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উন্নয়নে একটি ইতিবাচক মোড় হিসেবে দেখছেন তিনি। তিস্তা ইস্যু নিয়ে হেলাল আরও বলেন, পশ্চিমবঙ্গ সরকারই ছিল এই অগ্রগতির প্রধান বাধা। তার দাবি, তিস্তা ব্যারেজ চুক্তিটি বাংলাদেশ সরকার এবং ভারতের নরেন্দ্র মোদি সরকার উভয় পক্ষই জোরালোভাবে সমর্থন করেছিল। কিন্তু তৃণমূল কংগ্রেসের বিরোধিতার কারণে তা থমকে ছিল। এখন যেহেতু বিজেপি তৃণমূলের স্থলাভিষিক্ত হয়েছে, তাই শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্ব এই প্রকল্পকে এগিয়ে নিতে সহায়ক হবে। আজিজুল বারী হেলাল এএনআই-কে বলেন, প্রকৃতপক্ষে আমরা এর আগে দেখেছি যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই ছিলেন তিস্তা চুক্তির ক্ষেত্রে মূল প্রতিবন্ধক। এখন আমার মতে, যেহেতু শুভেন্দুর নেতৃত্বে বিজেপি নির্বাচনে জয়লাভ করেছে, তাই এই চুক্তি বাস্তবায়ন সহজ হবে।