ঢাকা ১১:০০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

অবৈধ পথে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ, ২৯ বাংলাদেশি দেশে ফিরলেন

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:১৮:০৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

যুক্তরাষ্ট্রের অবৈধ অভিবাসনবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে আরও ২৯ বাংলাদেশি নাগরিককে দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিশেষ ফ্লাইটে তারা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন। এই ঘটনাটি আন্তর্জাতিক অভিবাসন প্রক্রিয়ার জটিলতা ও ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রার বিষয়টি আবারও সামনে এনেছে।

সর্বশেষ এই প্রত্যাবাসনের পর, ২০২৫ সালের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফেরত পাঠানো বাংলাদেশির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩২২ জনে। এর আগে গত ২০ জানুয়ারি ৩৬ জন বাংলাদেশি নাগরিককে একই প্রক্রিয়ায় ফিরতে হয়েছিল। শনিবার দেশে ফেরা ২৯ জনের মধ্যে নোয়াখালীর ১৪ জন, ঢাকার ৭ জন, কুমিল্লার ২ জন এবং মুন্সিগঞ্জের ৩ জন রয়েছেন। এছাড়া ফেনী, মৌলভীবাজার, সিলেট ও মাদারীপুরের বাসিন্দারাও এই দলে অন্তর্ভুক্ত। বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর প্রবাসী কল্যাণ ডেস্ক এবং এভিয়েশন সিকিউরিটির (এভসেক) সহায়তায় তাদের জরুরি সহায়তা ও বাড়ি পৌঁছানোর জন্য পরিবহনের ব্যবস্থা করে ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম।

ফেরত আসা এসব বাংলাদেশির অধিকাংশই প্রথমে বৈধ পথে ব্রাজিলে গমন করেছিলেন। সেখান থেকে মেক্সিকো হয়ে অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের চেষ্টা করেন তারা। এই দীর্ঘ ও ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রায় জনপ্রতি প্রায় ৪৫ থেকে ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত খরচ হয়েছে, যা কোনো কোনো ক্ষেত্রে ৬০ থেকে ৭০ লাখ টাকাও ছাড়িয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছানোর পর তারা রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন করেছিলেন। তবে দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাদের আবেদন প্রত্যাখ্যান হলে মার্কিন প্রশাসন প্রত্যাবাসনের সিদ্ধান্ত নেয়।

ফিরে আসা নোয়াখালীর সাইফুল ইসলাম জানান, তিনি ২০২৪ সালে জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর ছাড়পত্র নিয়ে প্রথমে ব্রাজিলে যান। এরপর দালালের মাধ্যমে বিভিন্ন দেশ পাড়ি দিয়ে মেক্সিকো হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সময় গ্রেপ্তার হন। দিয়াদ চৌধুরী একই ধরনের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেছেন। তিনি প্রায় ২২ লাখ টাকা খরচ করে ছাড়পত্র নিয়ে ২০২৪ সালের শেষদিকে ব্রাজিলে যান এবং পরে মেক্সিকো হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেন। দীর্ঘ এক বছর কারাবাসের পর তিনি দেশে ফিরেছেন।

অন্যদিকে, মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার আব্দুল সবুর ২০২৩ সালের ২৮ অক্টোবর ৬৪ লাখ টাকা ব্যয়ে ভিজিট ভিসায় ব্রাজিলে গিয়েছিলেন। সেখান থেকে একাধিক দেশ পেরিয়ে ২০২৪ সালের ১১ ডিসেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছান তিনি। আশ্রয় আবেদন প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পর অন্যদের সঙ্গে শনিবার তাকেও দেশে ফেরত পাঠানো হয়।

প্রাপ্ত তথ্যমতে, জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর ছাড়পত্র নিয়ে ২০২৫ সালের শুরু থেকে এ পর্যন্ত মোট ১ হাজার ৪১০ জন বাংলাদেশি ব্রাজিলে গেছেন। এর মধ্যে শুধু নোয়াখালীরই ৯৯০ জন। ধারণা করা হচ্ছে, এদের একটি বড় অংশ মেক্সিকো হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের চেষ্টা করেছেন।

দ্বিতীয় মেয়াদে ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের একাধিক দফায় ফেরত পাঠানো হচ্ছে। এর আগে গত বছরের ৮ ডিসেম্বর ৩১ জন, ২৮ নভেম্বর ৩৯ জন এবং ৮ জুন ৪২ জন বাংলাদেশিকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছিল। এছাড়াও চলতি বছরের ৬ মার্চ থেকে ২১ এপ্রিল পর্যন্ত অন্তত ৩৪ জন বাংলাদেশিকে বিভিন্ন ফ্লাইটে ফেরত পাঠানো হয়েছে।

মার্কিন আইন অনুযায়ী, বৈধ কাগজপত্র ছাড়া বসবাসকারী অভিবাসীদের আদালতের রায় বা প্রশাসনিক আদেশে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো যায়। আশ্রয়ের আবেদন প্রত্যাখ্যাত হলে মার্কিন অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থা (আইসিই) প্রত্যাবাসনের ব্যবস্থা করে। সাম্প্রতিক সময়ে এই প্রক্রিয়া দ্রুততর হওয়ায় চার্টার্ড ও সামরিক ফ্লাইটের ব্যবহার বৃদ্ধি পেয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার মধ্যে প্রবাসীদের জন্য বিশেষ সতর্কতা: দূতাবাস চালু করেছে হটলাইন

অবৈধ পথে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ, ২৯ বাংলাদেশি দেশে ফিরলেন

আপডেট সময় : ০৯:১৮:০৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের অবৈধ অভিবাসনবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে আরও ২৯ বাংলাদেশি নাগরিককে দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিশেষ ফ্লাইটে তারা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন। এই ঘটনাটি আন্তর্জাতিক অভিবাসন প্রক্রিয়ার জটিলতা ও ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রার বিষয়টি আবারও সামনে এনেছে।

সর্বশেষ এই প্রত্যাবাসনের পর, ২০২৫ সালের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফেরত পাঠানো বাংলাদেশির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩২২ জনে। এর আগে গত ২০ জানুয়ারি ৩৬ জন বাংলাদেশি নাগরিককে একই প্রক্রিয়ায় ফিরতে হয়েছিল। শনিবার দেশে ফেরা ২৯ জনের মধ্যে নোয়াখালীর ১৪ জন, ঢাকার ৭ জন, কুমিল্লার ২ জন এবং মুন্সিগঞ্জের ৩ জন রয়েছেন। এছাড়া ফেনী, মৌলভীবাজার, সিলেট ও মাদারীপুরের বাসিন্দারাও এই দলে অন্তর্ভুক্ত। বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর প্রবাসী কল্যাণ ডেস্ক এবং এভিয়েশন সিকিউরিটির (এভসেক) সহায়তায় তাদের জরুরি সহায়তা ও বাড়ি পৌঁছানোর জন্য পরিবহনের ব্যবস্থা করে ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম।

ফেরত আসা এসব বাংলাদেশির অধিকাংশই প্রথমে বৈধ পথে ব্রাজিলে গমন করেছিলেন। সেখান থেকে মেক্সিকো হয়ে অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের চেষ্টা করেন তারা। এই দীর্ঘ ও ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রায় জনপ্রতি প্রায় ৪৫ থেকে ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত খরচ হয়েছে, যা কোনো কোনো ক্ষেত্রে ৬০ থেকে ৭০ লাখ টাকাও ছাড়িয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছানোর পর তারা রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন করেছিলেন। তবে দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাদের আবেদন প্রত্যাখ্যান হলে মার্কিন প্রশাসন প্রত্যাবাসনের সিদ্ধান্ত নেয়।

ফিরে আসা নোয়াখালীর সাইফুল ইসলাম জানান, তিনি ২০২৪ সালে জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর ছাড়পত্র নিয়ে প্রথমে ব্রাজিলে যান। এরপর দালালের মাধ্যমে বিভিন্ন দেশ পাড়ি দিয়ে মেক্সিকো হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সময় গ্রেপ্তার হন। দিয়াদ চৌধুরী একই ধরনের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেছেন। তিনি প্রায় ২২ লাখ টাকা খরচ করে ছাড়পত্র নিয়ে ২০২৪ সালের শেষদিকে ব্রাজিলে যান এবং পরে মেক্সিকো হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেন। দীর্ঘ এক বছর কারাবাসের পর তিনি দেশে ফিরেছেন।

অন্যদিকে, মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার আব্দুল সবুর ২০২৩ সালের ২৮ অক্টোবর ৬৪ লাখ টাকা ব্যয়ে ভিজিট ভিসায় ব্রাজিলে গিয়েছিলেন। সেখান থেকে একাধিক দেশ পেরিয়ে ২০২৪ সালের ১১ ডিসেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছান তিনি। আশ্রয় আবেদন প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পর অন্যদের সঙ্গে শনিবার তাকেও দেশে ফেরত পাঠানো হয়।

প্রাপ্ত তথ্যমতে, জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর ছাড়পত্র নিয়ে ২০২৫ সালের শুরু থেকে এ পর্যন্ত মোট ১ হাজার ৪১০ জন বাংলাদেশি ব্রাজিলে গেছেন। এর মধ্যে শুধু নোয়াখালীরই ৯৯০ জন। ধারণা করা হচ্ছে, এদের একটি বড় অংশ মেক্সিকো হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের চেষ্টা করেছেন।

দ্বিতীয় মেয়াদে ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের একাধিক দফায় ফেরত পাঠানো হচ্ছে। এর আগে গত বছরের ৮ ডিসেম্বর ৩১ জন, ২৮ নভেম্বর ৩৯ জন এবং ৮ জুন ৪২ জন বাংলাদেশিকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছিল। এছাড়াও চলতি বছরের ৬ মার্চ থেকে ২১ এপ্রিল পর্যন্ত অন্তত ৩৪ জন বাংলাদেশিকে বিভিন্ন ফ্লাইটে ফেরত পাঠানো হয়েছে।

মার্কিন আইন অনুযায়ী, বৈধ কাগজপত্র ছাড়া বসবাসকারী অভিবাসীদের আদালতের রায় বা প্রশাসনিক আদেশে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো যায়। আশ্রয়ের আবেদন প্রত্যাখ্যাত হলে মার্কিন অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থা (আইসিই) প্রত্যাবাসনের ব্যবস্থা করে। সাম্প্রতিক সময়ে এই প্রক্রিয়া দ্রুততর হওয়ায় চার্টার্ড ও সামরিক ফ্লাইটের ব্যবহার বৃদ্ধি পেয়েছে।