ঢাকা ০৫:৩৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬

বাহুবলে যোগদানের একদিন পরই ওসি প্রত্যাহার: বিতর্কের জেরে সিদ্ধান্ত

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:৫৫:০৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬
  • ১ বার পড়া হয়েছে

হবিগঞ্জের বাহুবল মডেল থানায় যোগদানের মাত্র একদিনের মাথায় ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এম আলী আশরাফকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। তাকে জেলা পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করে তার স্থলে মোহাম্মদ রুহুল আমিন তালুকদারকে নতুন ওসি হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।

পুলিশ সুপার মো. তারেক মাহমুদের স্বাক্ষরিত এক আদেশে বুধবার রাতে এম আলী আশরাফকে হবিগঞ্জ পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করার বিষয়টি জানানো হয়। ২১ জুলাই রাতে এম আলী আশরাফ বাহুবল মডেল থানায় যোগদান করেছিলেন।

তার যোগদানের খবর ছড়িয়ে পড়ার পরপরই বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। তারা এম আলী আশরাফের বিতর্কিত অতীত কর্মকাণ্ড নিয়ে বিভিন্ন পোস্ট দিতে শুরু করেন। এসব পোস্টে ২০২২ সালের ২৯ মে চুনারুঘাট উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব মারুফ মিয়ার ওপর গুলিবর্ষণ এবং বিএনপি-ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের ওপর পুলিশ ও ছাত্রলীগের হামলার ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের নিন্দা ও প্রতিবাদ বিবৃতির কপিও এসব পোস্টে প্রকাশ করা হয়, যেখানে মারুফ মিয়া, মাহমুদুর রহমান বাপ্পি, রতন মাহফুজ ফয়সল, আব্দুস সালাম ও রিপনসহ আহত নেতাকর্মীদের নাম উল্লেখ ছিল।

পুলিশের গুলিতে আহত ছাত্রদল নেতা মারুফ মিয়া এ বিষয়ে বলেন, যে কর্মকর্তা অতীতে স্বৈরাচারের বিশ্বস্ত পেটোয়া বাহিনী হিসেবে কাজ করে একটি পুরো অঞ্চলের গণতান্ত্রিক পরিবেশ ও শত শত পরিবারের জীবন ধ্বংস করেছেন, সেই বিতর্কিত কর্মকর্তা আজ পার্শ্ববর্তী বাহুবল থানার ওসি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন, যাদের হাতে তৃণমূল নেতাকর্মীদের রক্ত রঞ্জিত, যারা বছরের পর বছর তাদের ঘরছাড়া করল, ব্যবসার পথ বন্ধ করল, তারা কীভাবে আজও একই এলাকায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে? এটি কি ভুক্তভোগীদের সঙ্গে এক ধরনের অবিচার নয়?

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এম আলী আশরাফ ২০২০ সালের ৯ অক্টোবর চুনারুঘাট থানায় যোগদানের পর বিএনপি, জামায়াতসহ তৎকালীন বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার ও দমন-পীড়ন শুরু করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ২০২২ সালের ডিসেম্বরে তিনি অন্যত্র বদলি হন। পুলিশের একটি সূত্র জানায়, বর্তমান সরকারের ক্ষমতা গ্রহণের পর এম আলী আশরাফ সাব-ইন্সপেক্টর পদে বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীতে যোগ দেন এবং পরবর্তীতে পদোন্নতি পান।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বিশ্বকাপ ফাইনালে মেসির স্বপ্নভঙ্গ, রদ্রির জাদুতে স্পেনের বিশ্বজয়

বাহুবলে যোগদানের একদিন পরই ওসি প্রত্যাহার: বিতর্কের জেরে সিদ্ধান্ত

আপডেট সময় : ০৩:৫৫:০৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬

হবিগঞ্জের বাহুবল মডেল থানায় যোগদানের মাত্র একদিনের মাথায় ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এম আলী আশরাফকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। তাকে জেলা পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করে তার স্থলে মোহাম্মদ রুহুল আমিন তালুকদারকে নতুন ওসি হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।

পুলিশ সুপার মো. তারেক মাহমুদের স্বাক্ষরিত এক আদেশে বুধবার রাতে এম আলী আশরাফকে হবিগঞ্জ পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করার বিষয়টি জানানো হয়। ২১ জুলাই রাতে এম আলী আশরাফ বাহুবল মডেল থানায় যোগদান করেছিলেন।

তার যোগদানের খবর ছড়িয়ে পড়ার পরপরই বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। তারা এম আলী আশরাফের বিতর্কিত অতীত কর্মকাণ্ড নিয়ে বিভিন্ন পোস্ট দিতে শুরু করেন। এসব পোস্টে ২০২২ সালের ২৯ মে চুনারুঘাট উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব মারুফ মিয়ার ওপর গুলিবর্ষণ এবং বিএনপি-ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের ওপর পুলিশ ও ছাত্রলীগের হামলার ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের নিন্দা ও প্রতিবাদ বিবৃতির কপিও এসব পোস্টে প্রকাশ করা হয়, যেখানে মারুফ মিয়া, মাহমুদুর রহমান বাপ্পি, রতন মাহফুজ ফয়সল, আব্দুস সালাম ও রিপনসহ আহত নেতাকর্মীদের নাম উল্লেখ ছিল।

পুলিশের গুলিতে আহত ছাত্রদল নেতা মারুফ মিয়া এ বিষয়ে বলেন, যে কর্মকর্তা অতীতে স্বৈরাচারের বিশ্বস্ত পেটোয়া বাহিনী হিসেবে কাজ করে একটি পুরো অঞ্চলের গণতান্ত্রিক পরিবেশ ও শত শত পরিবারের জীবন ধ্বংস করেছেন, সেই বিতর্কিত কর্মকর্তা আজ পার্শ্ববর্তী বাহুবল থানার ওসি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন, যাদের হাতে তৃণমূল নেতাকর্মীদের রক্ত রঞ্জিত, যারা বছরের পর বছর তাদের ঘরছাড়া করল, ব্যবসার পথ বন্ধ করল, তারা কীভাবে আজও একই এলাকায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে? এটি কি ভুক্তভোগীদের সঙ্গে এক ধরনের অবিচার নয়?

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এম আলী আশরাফ ২০২০ সালের ৯ অক্টোবর চুনারুঘাট থানায় যোগদানের পর বিএনপি, জামায়াতসহ তৎকালীন বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার ও দমন-পীড়ন শুরু করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ২০২২ সালের ডিসেম্বরে তিনি অন্যত্র বদলি হন। পুলিশের একটি সূত্র জানায়, বর্তমান সরকারের ক্ষমতা গ্রহণের পর এম আলী আশরাফ সাব-ইন্সপেক্টর পদে বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীতে যোগ দেন এবং পরবর্তীতে পদোন্নতি পান।