ঢাকা ০৬:৫৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬

খামেনির দাফন ৯ জুলাই, জুলাই জুড়ে রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠান ইরানে

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় নিহত ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির রাষ্ট্রীয় জানাজা ও দাফনের সময়সূচি ঘোষণা করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। কয়েক ধাপে আয়োজিত রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠান শেষে আগামী ৯ জুলাই তাকে মাশহাদ শহরে দাফন করা হবে।

শনিবার (১৩ জুন) ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা এ তথ্য জানিয়েছে।

প্রকাশিত সময়সূচি অনুযায়ী, খামেনির স্মরণে আগামী ৪ ও ৫ জুলাই রাজধানী তেহরানে রাষ্ট্রীয় বিদায় অনুষ্ঠান ও শোকসভা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর ৬ জুলাই তেহরানে এবং ৭ জুলাই ধর্মীয় নগরী কোমে পৃথক জানাজার আয়োজন করা হবে।

পরবর্তীতে ৯ জুলাই উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ঐতিহাসিক শহর মাশহাদে ইমাম রেজার মাজার প্রাঙ্গণে আরেকটি জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। ওই দিনই সেখানে তাকে দাফন করা হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

ইরানের রাজনৈতিক ও ধর্মীয় ইতিহাসে অন্যতম প্রভাবশালী নেতা হিসেবে পরিচিত আলী খামেনি গত ২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানে নিজের সরকারি বাসভবনে নিহত হন। ইরানের দাবি অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার প্রথম দিকেই এই ঘটনা ঘটে।

তার মৃত্যুর পর দেশজুড়ে শোকের ছায়া নেমে আসে এবং নেতৃত্বের প্রশ্নে নতুন আলোচনা শুরু হয়। পরে সর্বোচ্চ নেতার পদে দায়িত্ব গ্রহণ করেন তার ছেলে আয়াতুল্লাহ মোজতবা আলী খামেনি।

তবে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে মোজতবা আলী খামেনিকে জনসমক্ষে দেখা যায়নি। ইরানি বিভিন্ন সূত্রের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, হামলার সময় তিনিও আহত হয়ে থাকতে পারেন। যদিও এ বিষয়ে ইরান সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বক্তব্য দেয়নি।

বিশ্লেষকদের মতে, আলী খামেনির মৃত্যু ইরানের রাজনৈতিক কাঠামো, আঞ্চলিক কৌশল এবং মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে। তার দাফনকে ঘিরে দেশজুড়ে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি লাখো মানুষের অংশগ্রহণে শোকানুষ্ঠান আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, দেশের বিভিন্ন প্রদেশ থেকে শোকযাত্রীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে বিশেষ পরিবহন ও নিরাপত্তা পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাজনৈতিক ও ধর্মীয় নেতাদের অনুষ্ঠানগুলোতে অংশ নেওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।

রাষ্ট্রীয়ভাবে আয়োজিত এই দীর্ঘ শোকানুষ্ঠানের মাধ্যমে ইরান তার প্রয়াত নেতাকে শেষ শ্রদ্ধা জানাবে এবং নতুন নেতৃত্বের অধীনে ভবিষ্যৎ পথচলার বার্তা তুলে ধরবে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

বিরতি ভেঙে হৈমন্তীর কণ্ঠে দুই নতুন গান, মুগ্ধ দর্শক-শ্রোতা

খামেনির দাফন ৯ জুলাই, জুলাই জুড়ে রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠান ইরানে

আপডেট সময় : ০৫:২৩:০০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় নিহত ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির রাষ্ট্রীয় জানাজা ও দাফনের সময়সূচি ঘোষণা করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। কয়েক ধাপে আয়োজিত রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠান শেষে আগামী ৯ জুলাই তাকে মাশহাদ শহরে দাফন করা হবে।

শনিবার (১৩ জুন) ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা এ তথ্য জানিয়েছে।

প্রকাশিত সময়সূচি অনুযায়ী, খামেনির স্মরণে আগামী ৪ ও ৫ জুলাই রাজধানী তেহরানে রাষ্ট্রীয় বিদায় অনুষ্ঠান ও শোকসভা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর ৬ জুলাই তেহরানে এবং ৭ জুলাই ধর্মীয় নগরী কোমে পৃথক জানাজার আয়োজন করা হবে।

পরবর্তীতে ৯ জুলাই উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ঐতিহাসিক শহর মাশহাদে ইমাম রেজার মাজার প্রাঙ্গণে আরেকটি জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। ওই দিনই সেখানে তাকে দাফন করা হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

ইরানের রাজনৈতিক ও ধর্মীয় ইতিহাসে অন্যতম প্রভাবশালী নেতা হিসেবে পরিচিত আলী খামেনি গত ২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানে নিজের সরকারি বাসভবনে নিহত হন। ইরানের দাবি অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার প্রথম দিকেই এই ঘটনা ঘটে।

তার মৃত্যুর পর দেশজুড়ে শোকের ছায়া নেমে আসে এবং নেতৃত্বের প্রশ্নে নতুন আলোচনা শুরু হয়। পরে সর্বোচ্চ নেতার পদে দায়িত্ব গ্রহণ করেন তার ছেলে আয়াতুল্লাহ মোজতবা আলী খামেনি।

তবে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে মোজতবা আলী খামেনিকে জনসমক্ষে দেখা যায়নি। ইরানি বিভিন্ন সূত্রের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, হামলার সময় তিনিও আহত হয়ে থাকতে পারেন। যদিও এ বিষয়ে ইরান সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বক্তব্য দেয়নি।

বিশ্লেষকদের মতে, আলী খামেনির মৃত্যু ইরানের রাজনৈতিক কাঠামো, আঞ্চলিক কৌশল এবং মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে। তার দাফনকে ঘিরে দেশজুড়ে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি লাখো মানুষের অংশগ্রহণে শোকানুষ্ঠান আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, দেশের বিভিন্ন প্রদেশ থেকে শোকযাত্রীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে বিশেষ পরিবহন ও নিরাপত্তা পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাজনৈতিক ও ধর্মীয় নেতাদের অনুষ্ঠানগুলোতে অংশ নেওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।

রাষ্ট্রীয়ভাবে আয়োজিত এই দীর্ঘ শোকানুষ্ঠানের মাধ্যমে ইরান তার প্রয়াত নেতাকে শেষ শ্রদ্ধা জানাবে এবং নতুন নেতৃত্বের অধীনে ভবিষ্যৎ পথচলার বার্তা তুলে ধরবে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।