ছোট পর্দার জনপ্রিয় মুখ মারিয়া শান্ত এবার বড় পর্দায় অভিষেক ঘটাচ্ছেন। আসন্ন ঈদুল ফিতরে মুক্তি পেতে যাচ্ছে তার অভিনীত প্রথম সিনেমা ‘প্রেশার কুকার’। জনপ্রিয় নির্মাতা রায়হান রাফী পরিচালিত এই সিনেমা নিয়ে দারুণ উচ্ছ্বসিত এই অভিনেত্রী। প্রথম সিনেমার অভিজ্ঞতা, চরিত্র ও প্রত্যাশা নিয়ে সম্প্রতি কথা বলেছেন তিনি, যেখানে তার কণ্ঠে বারবার উঠে এসেছে ‘প্রেশার কুকার’ আন্তর্জাতিক মানের সিনেমা হওয়ার প্রত্যয়।
দীর্ঘদিন ধরে ছোট পর্দায় অভিনয় করে দর্শকের মন জয় করেছেন মারিয়া শান্ত। ‘নাম রেখেছি প্রেমিক’, ‘ফুলবাহার’, ‘পরাণের আধখান’, ‘আলাদিনের প্রদীপে যেভাবে দৈত্য এলো’, ‘বুক পকেটের গল্প’, ‘সানগ্লাস’, ‘ভাইভাম্যান’, ‘হৃদয় গভীরে’সহ তার অভিনীত বেশ কিছু নাটক তুমুল জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। সেই ধারাবাহিকতায় এবার তার বড় পর্দায় যাত্রা।
প্রথম সিনেমার মুক্তির আগে কিছুটা চাপ অনুভব করছেন জানিয়ে মারিয়া শান্ত বলেন, “হ্যাঁ, কিছুটা প্রেশারে আছি। ‘প্রেশার কুকার’ আমার স্বপ্নের সিনেমা। এতে শবনম বুবলী, নাজিফা তুষি ও স্নিগ্ধা চৌধুরীসহ বেশ কিছু মেধাবী শিল্পীর সঙ্গে কাজ করেছি। প্রথম সিনেমার চাপ তো আছেই, পাশাপাশি অন্যান্য চাপও কাজ করছে।”
সিনেমা নির্মাণের অভিজ্ঞতা নাটকের চেয়ে ভিন্ন বলে জানান তিনি। তার ভাষায়, “সিনেমা না করলে বোঝা যায় না যে এর পেছনে কত সুন্দর অভিজ্ঞতা থাকে। সিনেমা মানে অনেক দিনের জার্নি। একটা নির্দিষ্ট চরিত্র অনেক দিন ধরে রাখা, একটা কাজ নিয়ে বেশ কয়েকদিন পড়ে থাকাটা তো নাটকে হয় না। সব মিলিয়ে সিনেমা দারুণ এক অভিজ্ঞতা।”
‘প্রেশার কুকার’-এ মারিয়া শান্ত একটি চ্যালেঞ্জিং টিনএজ চরিত্রে অভিনয় করেছেন, যার দীর্ঘ একটি জার্নি রয়েছে। চরিত্রটি সম্পর্কে এর বেশি কিছু বলতে রাজি হননি তিনি, বরং দর্শকদের হলে গিয়ে দেখার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।
দেশের অন্যতম সফল নির্মাতা রায়হান রাফীর সিনেমায় অভিষেক হওয়াটা মারিয়া শান্তর জন্য এক বিশেষ প্রাপ্তি। তিনি জানান, অডিশন দিয়ে এই সিনেমায় যুক্ত হয়েছেন। রাফীর সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “খুবই ভালো। রাফী অনেক মেধাবী নির্মাতা। সব সময়ই চাইতাম আমার যেন রায়হান রাফীর সিনেমা দিয়ে বড় পর্দায় অভিষেক হয়। এত তাড়াতাড়ি হয়তো সিনেমা করতাম না। রাফীর সিনেমায় সুযোগ পাওয়ায় আর সাত-পাঁচ ভাবিনি।”
সাধারণত ঢাকাই সিনেমায় নায়ক-নায়িকা, নাচ-গান ও অ্যাকশনের একটি নির্দিষ্ট প্যাটার্ন দেখা যায়। তবে ‘প্রেশার কুকার’-এ চার নায়িকা থাকলেও কোনো নায়ক নেই। এটি কি একটি ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্ত? এমন প্রশ্নের জবাবে মারিয়া শান্ত বলেন, “আমার কাছে একদমই মনে হয় না। সিনেমায় নায়কদের প্রাধান্য দেওয়া হয়, নায়কদের ঘিরে গল্প তৈরি হয়। এই বিষয়গুলো বদলানো উচিত। আমাদের দেশে নারী বেশি, তাই নারীকেন্দ্রিক গল্পও ভাবা উচিত। সেই জায়গা থেকে ‘প্রেশার কুকার’-এর গল্পটা নারীদের নিয়ে এগিয়েছে। গল্পটা এত সুন্দর যে, দর্শকদের জন্য এটি একটি মাস্টওয়াচ সিনেমা হবে।”
দর্শকদের সিনেমাটি দেখার আহ্বান জানিয়ে এই অভিনেত্রী বলেন, “এখন দর্শক প্রচুর বাইরের সিনেমা দেখে। প্রায় সবাই নেটফ্লিক্স দেখে, গল্পনির্ভর সিনেমা দেখে। ‘প্রেশার কুকার’ একটি গল্পনির্ভর এবং আন্তর্জাতিক মানের সিনেমা। এরকম কাজ বাংলাদেশে আগে কখনো হয়নি। আমি খুবই সৌভাগ্যবতী যে এত সুন্দর সিনেমা দিয়ে আমার অভিষেক হলো। আমার বিশ্বাস, দর্শক সিনেমাটা শুধু দেখবেই না, হইচই ফেলে দেবে।”
ভবিষ্যতে কোন প্ল্যাটফর্মে কাজ করবেন, সে বিষয়ে মারিয়া শান্ত কোনো নির্দিষ্ট পরিকল্পনা করেননি। তিনি বলেন, “আমি এভাবে ভাবছি না। কোন প্ল্যাটফর্মে কাজ করলাম সেটা আমার দেখার বিষয় না। আমি সব সময় ভালো কাজ করতে চাই। সেটা নাটক হোক, ওটিটি হোক কিংবা সিনেমা। ভালো কাজ পেলে আর সময় সুযোগ মিললে অবশ্যই করব।”
শিল্পনির্ভর নাকি বাণিজ্যনির্ভর—কোন ধারার সিনেমায় কাজ করতে চান, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, সব ধরনের ভালো কাজ করতে চান। “নাচ, গান, অ্যাকশনের সিনেমা যেমন করতে চাই, আবার শিল্পনির্ভর, গল্পনির্ভর সিনেমায়ও কাজ করতে চাই। নির্দিষ্ট কোনো ধারায় আটকে রাখতে চাই না। আমি যদি টানা রোমান্টিক ধারায়ই কাজ করি, আমিই আমাকে দেখে বিরক্ত হয়ে যাব।”
সহশিল্পী শবনম বুবলী, নাজিফা তুষি ও স্নিগ্ধা চৌধুরীর সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা প্রসঙ্গে মারিয়া শান্ত বলেন, “গল্পের কারণে বাকিদের সঙ্গে আমার খুব একটা দেখা-সাক্ষাৎ হয়নি। তুষি আপুর সঙ্গে কিছুটা দেখা হয়েছে। তবে যেটুকু সময় কাটিয়েছি সবার সাথে, সবাই খুবই হেল্পফুল ছিলেন। ফলে অভিজ্ঞতাটাও দারুণ ছিল।”
সবশেষে দর্শকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, “আমি আবারও বলছি, এটা মাস্টওয়াচ একটি সিনেমা। মেয়েদের জন্য দেখাটা যেমন জরুরি, তেমনি ছেলেরাও এই সিনেমা থেকে অনেক শিক্ষণীয় বিষয় পাবেন। নারী-পুরুষ নির্বিশেষে আপনারা সবাই হলে আসুন, সিনেমাটা দেখুন। আশা করি কেউ হতাশ হবেন না।”
রিপোর্টারের নাম 
























