ঢাকা ০৭:০৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

রাজশাহীতে অভ্যন্তরীণ কোন্দলে বিএনপি নেতা খুন: মূল অভিযুক্ত সাবেক সহ-সভাপতিসহ ৯ জন

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৪:৫৯:১৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

রাজশাহীর চারঘাট উপজেলায় অভ্যন্তরীণ দলীয় কোন্দলের জেরে এক প্রবীণ বিএনপি নেতাকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার রাতে উপজেলার ইউসুফপুর সিপাইপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত এরশাদ আলী (৬৫) স্থানীয় সংসদ সদস্য আবু সাঈদ চাঁদ গ্রুপের সমর্থক ছিলেন। এ ঘটনায় শনিবার সকালে নিহতের ছেলে রিমন আলী বাদী হয়ে জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি আনোয়ার হোসেন উজ্জ্বলসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে চারঘাট থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় স্থানীয় বিএনপিতে উত্তেজনা বিরাজ করছে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, আগামী ৯ এপ্রিল ইউসুফপুর এলাকায় একটি জলসার প্রধান অতিথি হওয়া নিয়ে শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ইউসুফপুর সিপাইপাড়া জামে মসজিদে স্থানীয়দের মধ্যে মতবিনিময় হয়। সেখানে এরশাদ আলী ও তার ছেলেও উপস্থিত ছিলেন। এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে, জলসার প্রধান অতিথি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আনোয়ার হোসেন উজ্জ্বল এবং স্থানীয় সংসদ সদস্য আবু সাঈদ চাঁদ গ্রুপের সমর্থকদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে উজ্জ্বল গ্রুপের সমর্থকরা চাঁদকে সমর্থন করলে খুন-জখমের হুমকি দেয়। এরশাদ আলী এর প্রতিবাদ করলে আসামিরা উত্তেজিত হয়ে পড়েন এবং তিনি মসজিদ থেকে চলে আসেন।

পরে রাতে এরশাদ আলী তারাবির নামাজ আদায় করতে ইউসুফপুর দিপাইপাড়া মসজিদে যান। নামাজ শেষে রাত সাড়ে ৯টার দিকে বাড়িতে ফেরার পথে ইউসুফপুর সিপাইপাড়া গ্রামে আসামিরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে তার পথরোধ করে। এ সময় বাঁশের লাঠি, লোহার রড, আমের ডাল ও পেয়ারা গাছের ডাল দিয়ে তাকে বেধড়ক পিটিয়ে হত্যা করা হয়।

মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে রাজশাহী-৬ (বাঘা-চারঘাট) আসনে বিএনপির মনোনয়নবঞ্চিত নেতা ও জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি আনোয়ার হোসেন উজ্জ্বলকে (৫৫)। এছাড়া চারঘাট উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক জহুরুল ইসলাম জীবনকেও (৪৮) আসামি করা হয়েছে। মামলার অন্য আসামিরা হলেন- ইউসুফপুর নিখাইপাড়া গ্রামের মো. আমরাউল (৫৫), মো. জোয়াভ (৪৫), আতিকুল ইসলাম ওরফে সাইমুল (৪৫), মো. আসাদুল (৩০), মো. সুমন (৩২), মো. দাব্বির (২০) এবং মো. হালিম (৫০)। আতিকুল ইসলাম সাইমুল প্রধান আসামি আনোয়ার হোসেন উজ্জ্বলের চাচাতো ভাই।

ঘটনার বিষয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবু সাঈদ চাঁদ বলেন, ‘আনোয়ার হোসেন উজ্জ্বল জনবিচ্ছিন্ন। জনগণের সমর্থন তার নেই। তারা এখন মানুষ খুন করে রাজনীতি করতে চাইছে। আমি এই ঘটনার কঠোর বিচার চাই এবং পুলিশ-প্রশাসনকে বিষয়টি জানিয়েছি।’

তবে অভিযুক্ত বিএনপি নেতা আনোয়ার হোসেন উজ্জ্বল বলেন, ‘যে গ্রামে ঘটনা, সে গ্রামেই আমার বাড়ি। যিনি মারা গেছেন তিনিও সম্পর্কে আমার দাদা। আসামিরাও সবাই আত্মীয়। মসজিদের কমিটি নিয়ে সমস্যার জের ধরে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি ঘটেছে।’

রাজশাহীর চারঘাট থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সিরাজুল ইসলাম জানান, মামলা রেকর্ড হলেও এখনও কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। তিনি আরও জানান, শনিবার সকালে নিহত এরশাদ আলীর মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

উপসাগরীয় দেশগুলোকে ইরানের কড়া বার্তা: আত্মরক্ষায় তেহরান প্রস্তুত, ভূখণ্ড ব্যবহারের সুযোগ না দেওয়ার হুঁশিয়ারি

রাজশাহীতে অভ্যন্তরীণ কোন্দলে বিএনপি নেতা খুন: মূল অভিযুক্ত সাবেক সহ-সভাপতিসহ ৯ জন

আপডেট সময় : ০৪:৫৯:১৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

রাজশাহীর চারঘাট উপজেলায় অভ্যন্তরীণ দলীয় কোন্দলের জেরে এক প্রবীণ বিএনপি নেতাকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার রাতে উপজেলার ইউসুফপুর সিপাইপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত এরশাদ আলী (৬৫) স্থানীয় সংসদ সদস্য আবু সাঈদ চাঁদ গ্রুপের সমর্থক ছিলেন। এ ঘটনায় শনিবার সকালে নিহতের ছেলে রিমন আলী বাদী হয়ে জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি আনোয়ার হোসেন উজ্জ্বলসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে চারঘাট থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় স্থানীয় বিএনপিতে উত্তেজনা বিরাজ করছে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, আগামী ৯ এপ্রিল ইউসুফপুর এলাকায় একটি জলসার প্রধান অতিথি হওয়া নিয়ে শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ইউসুফপুর সিপাইপাড়া জামে মসজিদে স্থানীয়দের মধ্যে মতবিনিময় হয়। সেখানে এরশাদ আলী ও তার ছেলেও উপস্থিত ছিলেন। এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে, জলসার প্রধান অতিথি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আনোয়ার হোসেন উজ্জ্বল এবং স্থানীয় সংসদ সদস্য আবু সাঈদ চাঁদ গ্রুপের সমর্থকদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে উজ্জ্বল গ্রুপের সমর্থকরা চাঁদকে সমর্থন করলে খুন-জখমের হুমকি দেয়। এরশাদ আলী এর প্রতিবাদ করলে আসামিরা উত্তেজিত হয়ে পড়েন এবং তিনি মসজিদ থেকে চলে আসেন।

পরে রাতে এরশাদ আলী তারাবির নামাজ আদায় করতে ইউসুফপুর দিপাইপাড়া মসজিদে যান। নামাজ শেষে রাত সাড়ে ৯টার দিকে বাড়িতে ফেরার পথে ইউসুফপুর সিপাইপাড়া গ্রামে আসামিরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে তার পথরোধ করে। এ সময় বাঁশের লাঠি, লোহার রড, আমের ডাল ও পেয়ারা গাছের ডাল দিয়ে তাকে বেধড়ক পিটিয়ে হত্যা করা হয়।

মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে রাজশাহী-৬ (বাঘা-চারঘাট) আসনে বিএনপির মনোনয়নবঞ্চিত নেতা ও জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি আনোয়ার হোসেন উজ্জ্বলকে (৫৫)। এছাড়া চারঘাট উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক জহুরুল ইসলাম জীবনকেও (৪৮) আসামি করা হয়েছে। মামলার অন্য আসামিরা হলেন- ইউসুফপুর নিখাইপাড়া গ্রামের মো. আমরাউল (৫৫), মো. জোয়াভ (৪৫), আতিকুল ইসলাম ওরফে সাইমুল (৪৫), মো. আসাদুল (৩০), মো. সুমন (৩২), মো. দাব্বির (২০) এবং মো. হালিম (৫০)। আতিকুল ইসলাম সাইমুল প্রধান আসামি আনোয়ার হোসেন উজ্জ্বলের চাচাতো ভাই।

ঘটনার বিষয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবু সাঈদ চাঁদ বলেন, ‘আনোয়ার হোসেন উজ্জ্বল জনবিচ্ছিন্ন। জনগণের সমর্থন তার নেই। তারা এখন মানুষ খুন করে রাজনীতি করতে চাইছে। আমি এই ঘটনার কঠোর বিচার চাই এবং পুলিশ-প্রশাসনকে বিষয়টি জানিয়েছি।’

তবে অভিযুক্ত বিএনপি নেতা আনোয়ার হোসেন উজ্জ্বল বলেন, ‘যে গ্রামে ঘটনা, সে গ্রামেই আমার বাড়ি। যিনি মারা গেছেন তিনিও সম্পর্কে আমার দাদা। আসামিরাও সবাই আত্মীয়। মসজিদের কমিটি নিয়ে সমস্যার জের ধরে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি ঘটেছে।’

রাজশাহীর চারঘাট থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সিরাজুল ইসলাম জানান, মামলা রেকর্ড হলেও এখনও কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। তিনি আরও জানান, শনিবার সকালে নিহত এরশাদ আলীর মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।