গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার ৬ নম্বর দরবস্ত ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে অতর্কিত সন্ত্রাসী হামলায় ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে সংঘটিত এই হামলায় কার্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ সরকারি নথি তছনছ, কম্পিউটার ভাঙচুর এবং নগদ অর্থ চুরির অভিযোগ উঠেছে। এই ন্যক্কারজনক ঘটনার মূল হোতা হিসেবে মোখছেদ রহমান ও তার সহযোগীদের দায়ী করা হচ্ছে।
ঘটনার পরপরই ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোজদার রহমান বাদী হয়ে গোবিন্দগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে অভিযুক্ত মোখছেদ রহমান তার বেশ কয়েকজন সহযোগীকে নিয়ে দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে প্রবেশ করে। এরপর তারা কার্যালয়ের ভেতরে ব্যাপক তাণ্ডব চালিয়ে দাপ্তরিক কাজে ব্যবহৃত কম্পিউটার ও আসবাবপত্র ভাঙচুর করে।
হামলাকারীরা কার্যালয়ের আলমারি ও ড্রয়ার ভেঙে গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ফাইল ও নথি তছনছ করে। অভিযোগ পত্রে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, তারা ড্রয়ারে রক্ষিত নগদ অর্থ এবং বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথি লুট করে নিয়ে গেছে।
অভিযোগপত্রে প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোজদার রহমান হামলাকারী মোখছেদ রহমানকে জামায়াতে ইসলামীর কর্মী বলে দাবি করেছেন। তবে দরবস্ত ইউনিয়ন জামায়াত ইসলামীর সভাপতি আব্দুর রউফ এই দাবি সম্পূর্ণ অস্বীকার করে জানান, মোখছেদের সঙ্গে জামায়াতের কোনো সম্পর্ক নেই এবং সে তাদের কোনো সদস্যও নয়। বরং তার ভাই ডাবলু ও মোছলেম বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত।
ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. মোজদার রহমান জানান, এই হামলার কারণে পরিষদের দাপ্তরিক কাজে চরম অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ নথি ও কম্পিউটার হারিয়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষকে সেবা প্রদান ব্যাহত হচ্ছে। তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে গোবিন্দগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মোজাম্মেল হক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ইউনিয়ন পরিষদে হামলা ও লুটপাটের ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। পুলিশ বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করছে এবং তদন্ত শেষে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
রিপোর্টারের নাম 



















