কক্সবাজার-৪ (উখিয়া-টেকনাফ) আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সভাপতি শাহজাহান চৌধুরী মাদক কারবারিদের প্রতি কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। তিনি বলেছেন, যারা ইয়াবা ব্যবসার সঙ্গে জড়িত, তাদের বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে সরে যেতে হবে। একটি মাদকমুক্ত ও নিখুঁত উখিয়া-টেকনাফ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি মাদক ব্যবসায়ীদের আল্লাহর দোহাই দিয়ে দল ত্যাগের আহ্বান জানান।
শুক্রবার সন্ধ্যায় টেকনাফে উপজেলা বিএনপি আয়োজিত এক ইফতার মাহফিল ও শুকরানা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই বার্তা দেন।
বিএনপির এই প্রবীণ নেতা নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, “যারা মাদক কারবার করেন, তারা আমার দলে (বিএনপি) থাকলে সরে যান। ইয়াবা ব্যবসায়ীরা আল্লাহর ওয়াস্তে দল থেকে সরে যান। আমি একটি নিখুঁত উখিয়া-টেকনাফ গড়তে চাই, দয়া করে আপনারা শুদ্ধ হয়ে যান।” তার এই কঠোর বার্তা দলের ভেতরে এবং বাইরে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
নতুন নেতৃত্ব বিকাশের ওপর জোর দিয়ে শাহজাহান চৌধুরী বলেন, নতুন নতুন নেতৃত্ব আসবে, তারাই এ দল চালাবে। “আমি না থাকলে মনে হয় দল চলবে না- এটা মনে করবেন না কেউ। অনেক নতুন নতুন নেতা আছে যারা নেতৃত্ব দিলে আমাদের চেয়েও যোগ্য নেতৃত্ব দিতে পারবে।” তিনি দলের বর্তমান সমস্যাগুলো নিরসনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহ্বান জানান।
টেকনাফ স্থলবন্দর প্রসঙ্গে অভিজ্ঞ এই সংসদ সদস্য বলেন, সীমান্তের কালোবাজারি রোধ করার জন্য এই বন্দর প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। যারা অতিরঞ্জিত তথ্য দিয়ে বন্দরটিকে বন্ধ করার চেষ্টা করছেন, তাদের সেই অপচেষ্টা থেকে বিরত থাকতে হবে। তিনি আরও বলেন, অচিরেই এই বন্দর ঘিরে বাণিজ্য স্বাভাবিক হবে এবং নতুন নতুন ব্যবসার সুযোগ সৃষ্টি হবে।
টেকনাফ উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট হাসান সিদ্দিকীর সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক শাহাদাত হোসেনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এই সভায় আরও বক্তব্য রাখেন কক্সবাজার জেলা বিএনপির অর্থ সম্পাদক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ, উখিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি সরওয়ার জাহান চৌধুরীসহ বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের স্থানীয় নেতারা।
উখিয়া উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক (দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত) সেলিম সিরাজী শাহজাহান চৌধুরীর এই বার্তাকে ‘স্পষ্ট’ উল্লেখ করে বলেন, বিএনপিতে মাদক কারবারিদের কোনো জায়গা নেই। তিনি আরও যোগ করেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সময় ১৯৭৯ সালের জাতীয় সংসদে প্রতিনিধিত্ব করা একমাত্র ব্যক্তি শাহজাহান চৌধুরী, যিনি এবারের সংসদেও রয়েছেন। এটি তার দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতারই বহিঃপ্রকাশ।
রিপোর্টারের নাম 



















