ঢাকা ০৫:০০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

দিনাজপুরের বিরামপুরে ট্রাকচালকের কাছে জোরপূর্বক চাঁদা দাবি, ভাইরাল ভিডিওতে তোলপাড়

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:২৪:৩৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৩ বার পড়া হয়েছে

দিনাজপুরের বিরামপুরে এক ট্রাকচালকের কাছে প্রকাশ্য দিবালোকে জোরপূর্বক চাঁদা দাবির একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, কয়েকজন ব্যক্তি এক পণ্যবাহী ট্রাক আটকে চালককে ঘিরে ধরে টাকা দাবি করছে এবং একপর্যায়ে তাকে হেনস্তা করছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় জনমনে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় উঠেছে।

সম্প্রতি ভাইরাল হওয়া প্রায় দুই মিনিটের ওই ভিডিও ক্লিপে স্পষ্ট দেখা যায়, বিরামপুর উপজেলার একটি ব্যস্ত সড়কে কয়েকজন যুবক একটি পণ্যবাহী ট্রাককে থামিয়ে দেয়। এরপর তারা চালকের কাছে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করে। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তারা চালককে গালিগালাজ শুরু করে এবং একপর্যায়ে তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার হুমকি দেয়। ভিডিওতে চালককে বারবার নিজেকে নির্দোষ দাবি করে আকুতি জানাতে শোনা গেলেও, চাঁদাবাজরা তার কথায় কর্ণপাত করেনি। শেষ পর্যন্ত চালক বাধ্য হয়ে কিছু টাকা তাদের হাতে তুলে দেন।

এই ভিডিওটি দ্রুত বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা দেশজুড়ে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়। সাধারণ মানুষ, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন পরিবহন সংগঠন এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে চাঁদাবাজদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানিয়েছে। তাদের মতে, সড়কে এমন চাঁদাবাজি পরিবহন খাতের শৃঙ্খলা নষ্ট করছে এবং চালকদের নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলছে। এটি যাত্রী ও পণ্য পরিবহনেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিরামপুরের কিছু এলাকায় সড়কপথে যানবাহনের চালকদের কাছ থেকে জোরপূর্বক চাঁদা আদায়ের ঘটনা নতুন নয়। তবে এবার ভিডিও প্রমাণ থাকায় বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে এবং জনমনে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। অনেকেই বলছেন, প্রশাসনের দুর্বল নজরদারির কারণেই এমন ঘটনা বারবার ঘটছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিরামপুর থানা পুলিশের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, ভিডিওটি তাদের নজরে এসেছে এবং তারা এটি যাচাই-বাছাই করছেন। জড়িতদের পরিচয় শনাক্ত করে দ্রুততম সময়ে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

আফগান-পাক সীমান্তে উত্তেজনা: আঞ্চলিক শান্তি ফেরাতে তুরস্কের কূটনৈতিক দৌড়ঝাঁপ

দিনাজপুরের বিরামপুরে ট্রাকচালকের কাছে জোরপূর্বক চাঁদা দাবি, ভাইরাল ভিডিওতে তোলপাড়

আপডেট সময় : ০৩:২৪:৩৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

দিনাজপুরের বিরামপুরে এক ট্রাকচালকের কাছে প্রকাশ্য দিবালোকে জোরপূর্বক চাঁদা দাবির একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, কয়েকজন ব্যক্তি এক পণ্যবাহী ট্রাক আটকে চালককে ঘিরে ধরে টাকা দাবি করছে এবং একপর্যায়ে তাকে হেনস্তা করছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় জনমনে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় উঠেছে।

সম্প্রতি ভাইরাল হওয়া প্রায় দুই মিনিটের ওই ভিডিও ক্লিপে স্পষ্ট দেখা যায়, বিরামপুর উপজেলার একটি ব্যস্ত সড়কে কয়েকজন যুবক একটি পণ্যবাহী ট্রাককে থামিয়ে দেয়। এরপর তারা চালকের কাছে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করে। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তারা চালককে গালিগালাজ শুরু করে এবং একপর্যায়ে তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার হুমকি দেয়। ভিডিওতে চালককে বারবার নিজেকে নির্দোষ দাবি করে আকুতি জানাতে শোনা গেলেও, চাঁদাবাজরা তার কথায় কর্ণপাত করেনি। শেষ পর্যন্ত চালক বাধ্য হয়ে কিছু টাকা তাদের হাতে তুলে দেন।

এই ভিডিওটি দ্রুত বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা দেশজুড়ে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়। সাধারণ মানুষ, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন পরিবহন সংগঠন এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে চাঁদাবাজদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানিয়েছে। তাদের মতে, সড়কে এমন চাঁদাবাজি পরিবহন খাতের শৃঙ্খলা নষ্ট করছে এবং চালকদের নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলছে। এটি যাত্রী ও পণ্য পরিবহনেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিরামপুরের কিছু এলাকায় সড়কপথে যানবাহনের চালকদের কাছ থেকে জোরপূর্বক চাঁদা আদায়ের ঘটনা নতুন নয়। তবে এবার ভিডিও প্রমাণ থাকায় বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে এবং জনমনে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। অনেকেই বলছেন, প্রশাসনের দুর্বল নজরদারির কারণেই এমন ঘটনা বারবার ঘটছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিরামপুর থানা পুলিশের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, ভিডিওটি তাদের নজরে এসেছে এবং তারা এটি যাচাই-বাছাই করছেন। জড়িতদের পরিচয় শনাক্ত করে দ্রুততম সময়ে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন।