জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সংশোধনে চরম ভোগান্তি এবং দালালের দৌরাত্ম্যে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে সাধারণ মানুষ। জেলা-উপজেলা নির্বাচন অফিস থেকে শুরু করে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়—সবখানেই এনআইডি সংশোধনের ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রতার চিত্র প্রকট। গুরুত্বপূর্ণ এই নাগরিক দলিল সংশোধন করতে গিয়ে অনেককে মাসের পর মাস, এমনকি বছরের পর বছর অপেক্ষা করতে হচ্ছে। এই সুযোগে সক্রিয় হয়ে উঠেছে শক্তিশালী দালাল সিন্ডিকেট, যারা মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে দ্রুত কাজ করে দেওয়ার প্রলোভন দিচ্ছে।
বর্তমানে ব্যাংকিং সেবা ও পাসপোর্টসহ অন্তত ৩০টির বেশি জরুরি কাজে এনআইডি অপরিহার্য। কিন্তু সামান্য নামের বানান বা বয়স সংশোধনের জন্য আবেদন করে ভুক্তভোগীরা পোহাচ্ছেন সীমাহীন কষ্ট। অনেক ক্ষেত্রে সব ধরনের প্রমাণপত্র জমা দেওয়ার পরও সমাধান মিলছে না। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, এক টেবিল থেকে অন্য টেবিলে ঘুরতে ঘুরতে তাদের নাভিশ্বাস উঠছে, অথচ কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। বিশেষ করে বয়স্ক নাগরিকদের জন্য এই ভোগান্তি অবর্ণনীয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
দালালদের দৌরাত্ম্য এতটাই বেড়েছে যে, কেউ কেউ ছয় মাস বা তার বেশি সময় অপেক্ষা করে ব্যর্থ হওয়ার পর দালালের শরণাপন্ন হচ্ছেন। অভিযোগ রয়েছে, দালালদের মাধ্যমে ৬০ হাজার টাকা বা তারও বেশি খরচ করলে মাত্র এক দিনেই সংশোধন হয়ে যাচ্ছে এনআইডি। বয়সের পার্থক্যের ওপর ভিত্তি করে এই ফি নির্ধারণ করা হয়। অফিসের ভেতর ও বাইরে এই সিন্ডিকেট এতটাই প্রভাবশালী যে, তারা প্রকাশ্যেই লেনদেনের চুক্তি করছে বলে জানা গেছে।
এনআইডি অনুবিভাগের নবনিযুক্ত মহাপরিচালক এ এইচ এম আনোয়ার পাশা এই সমস্যার কথা স্বীকার করেছেন। তিনি জানান, ভোগান্তি এবং দালালের হস্তক্ষেপ কমাতে ডিজিটাল অটোমেশনের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) নির্ভর প্রযুক্তির ব্যবহার এবং হিউম্যান ইন্টারঅ্যাকশন কমানোর মাধ্যমে এই সেবাটিকে আরও স্বচ্ছ করার পরিকল্পনা করছে কমিশন। মাঠপর্যায়েও সংশোধনী কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে যাতে নাগরিকরা ঘরে বসেই সেবা পেতে পারেন।
একটি নির্ভুল জাতীয় পরিচয়পত্র পাওয়া নাগরিকের মৌলিক অধিকার হলেও বর্তমান ব্যবস্থাপনায় তা পেতে গিয়ে মানুষকে চরম আর্থিক ও মানসিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হচ্ছে। নির্বাচন কমিশন আশা প্রকাশ করছে যে, চলমান ডিজিটালাইজেশন প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন হলে মানুষের এই দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান ঘটবে।
রিপোর্টারের নাম 






















