সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদার এবং চোরাচালান প্রতিরোধের নামে আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের ‘প্রকাশ্য যুদ্ধ’ ঘোষণার অভিযোগ তুলেছে কাবুল। আফগান সরকারের পক্ষ থেকে এই অভিযোগ ওঠার পর দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। আফগানিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বুধবার পাকিস্তানি সেনাবাহিনী আফগানিস্তানের কান্দাহার প্রদেশের স্পিন বোলডাক জেলায় হামলা চালিয়েছে। এই হামলার ফলে বেসামরিক নাগরিক হতাহতের ঘটনা ঘটেছে বলে তারা দাবি করেছে।
আফগান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এনামুল্লাহ সামাঙ্গানি জানান, পাকিস্তানি সেনারা সীমান্ত এলাকায় তাদের অবস্থান শক্তিশালী করার চেষ্টা করছিল এবং এই সময় আফগান সীমান্তরক্ষীদের সাথে তাদের সংঘর্ষ হয়। তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, পাকিস্তানি বাহিনী বেসামরিক এলাকায় আর্টিলারি হামলা চালিয়েছে, যার ফলে নিরপরাধ মানুষ প্রাণ হারিয়েছে এবং আহত হয়েছে। এই ঘটনাকে তারা পাকিস্তানের ‘প্রকাশ্য আগ্রাসন’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে।
অন্যদিকে, পাকিস্তান তাদের এই কর্মকাণ্ডকে সীমান্ত সুরক্ষা এবং অবৈধ অনুপ্রবেশ প্রতিরোধের যৌক্তিক পদক্ষেপ হিসেবে দাবি করছে। তাদের ভাষ্যমতে, আফগানিস্তানের দিক থেকে আসা সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর তৎপরতা এবং চোরাচালান প্রতিরোধের জন্যই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তবে, আফগানিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে বলেছে যে, পাকিস্তানের এই হামলা তাদের সার্বভৌমত্বের উপর সরাসরি আঘাত এবং এর পরিণতি ভয়াবহ হতে পারে।
এই সীমান্ত উত্তেজনার ফলে দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের অবিশ্বাসের সম্পর্ক আরও তিক্ত হয়েছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এই পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং উত্তেজনা প্রশমনের জন্য কূটনৈতিক সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে। তবে, উভয় পক্ষের কঠোর অবস্থান এবং পারস্পরিক অভিযোগের ফলে অদূর ভবিষ্যতে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এই ঘটনা আফগানিস্তানের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তার উপরও গভীর প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
রিপোর্টারের নাম 






















