ঢাকা ১১:২১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন ‘যমুনা’ চূড়ান্ত, দ্রুত চলছে সংস্কার কাজ

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:৫২:৪৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ১ বার পড়া হয়েছে

রাজধানী ঢাকার হেয়ার রোডে অবস্থিত রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন ‘যমুনা’কে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকারি বাসভবন হিসেবে চূড়ান্ত করা হয়েছে। সরকারপ্রধানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সচিবালয়ে যাতায়াতের সুবিধা বিবেচনা করে এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে নবগঠিত মন্ত্রিসভার সদস্য, অর্থাৎ মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের জন্য সরকারি বাসা বরাদ্দের কাজও সম্পন্ন করেছে সরকারি আবাসন পরিদপ্তর।

বর্তমানে যমুনায় অবস্থান করছেন সদ্য বিলুপ্ত অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সরকারি আবাসন পরিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, আগামী শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) তিনি যমুনা ছেড়ে দেবেন। এরপরই প্রধানমন্ত্রী সেখানে উঠবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

জানা যায়, প্রধানমন্ত্রী বর্তমানে গুলশানে তাঁর নিজস্ব বাসভবনে অবস্থান করছেন। সেখান থেকেই তিনি আবদুল গণি রোডের সচিবালয় এবং তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে যাতায়াত করছেন। চলতি রমজানে ইফতার মাহফিল এবং আসন্ন ঈদুল ফিতরে শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠান ‘যমুনা’তেই করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর ইচ্ছানুযায়ী, বাসভবনটি দ্রুত সংস্কার ও প্রস্তুত করার কাজ চলছে।

উল্লেখ্য, ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে গণভবন ছিল প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন। তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার সরকারের পতনের দিন বিক্ষুব্ধ জনতা গণভবনে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। পরবর্তীকালে অন্তর্বর্তী সরকার গণভবনকে ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’ হিসেবে সংরক্ষণের সিদ্ধান্ত নেয়। বর্তমানে সেখানে জাদুঘরের নির্মাণকাজ চলছে, ফলে প্রধানমন্ত্রীর জন্য গণভবনে থাকার কোনো সুযোগ নেই।

নির্বাচিত সরকারের প্রধানমন্ত্রী কোথায় থাকবেন, তা নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ সময়ে বেশ কয়েক মাস ধরে আলোচনা চলছিল। এ বিষয়ে সুপারিশ প্রদানের জন্য গত বছরের ৭ জুলাই গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় ছয় সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করে। কমিটি বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন শেষে ২০ জুলাই তাদের প্রতিবেদন জমা দেয়। প্রতিবেদনে ‘যমুনা’ এবং হেয়ার রোডের ২৪ ও ২৫ নম্বর বাংলোকে সমন্বিত পরিকল্পনায় প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন হিসেবে বিবেচনার সুপারিশ করা হয়েছিল। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় নতুন প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের জন্য জাতীয় সংসদ ভবন ও শেরেবাংলা নগর এলাকাও পরিদর্শন করা হয়েছিল, তবে সময়স্বল্পতাসহ কয়েকটি কারণে সেগুলো আর বিবেচনায় রাখা হয়নি বলে গণপূর্ত মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সংসদে সংস্কার না হলে রাজপথে তীব্র আন্দোলনের হুঁশিয়ারি বিরোধী দলের

প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন ‘যমুনা’ চূড়ান্ত, দ্রুত চলছে সংস্কার কাজ

আপডেট সময় : ০৮:৫২:৪৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

রাজধানী ঢাকার হেয়ার রোডে অবস্থিত রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন ‘যমুনা’কে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকারি বাসভবন হিসেবে চূড়ান্ত করা হয়েছে। সরকারপ্রধানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সচিবালয়ে যাতায়াতের সুবিধা বিবেচনা করে এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে নবগঠিত মন্ত্রিসভার সদস্য, অর্থাৎ মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের জন্য সরকারি বাসা বরাদ্দের কাজও সম্পন্ন করেছে সরকারি আবাসন পরিদপ্তর।

বর্তমানে যমুনায় অবস্থান করছেন সদ্য বিলুপ্ত অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সরকারি আবাসন পরিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, আগামী শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) তিনি যমুনা ছেড়ে দেবেন। এরপরই প্রধানমন্ত্রী সেখানে উঠবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

জানা যায়, প্রধানমন্ত্রী বর্তমানে গুলশানে তাঁর নিজস্ব বাসভবনে অবস্থান করছেন। সেখান থেকেই তিনি আবদুল গণি রোডের সচিবালয় এবং তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে যাতায়াত করছেন। চলতি রমজানে ইফতার মাহফিল এবং আসন্ন ঈদুল ফিতরে শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠান ‘যমুনা’তেই করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর ইচ্ছানুযায়ী, বাসভবনটি দ্রুত সংস্কার ও প্রস্তুত করার কাজ চলছে।

উল্লেখ্য, ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে গণভবন ছিল প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন। তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার সরকারের পতনের দিন বিক্ষুব্ধ জনতা গণভবনে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। পরবর্তীকালে অন্তর্বর্তী সরকার গণভবনকে ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’ হিসেবে সংরক্ষণের সিদ্ধান্ত নেয়। বর্তমানে সেখানে জাদুঘরের নির্মাণকাজ চলছে, ফলে প্রধানমন্ত্রীর জন্য গণভবনে থাকার কোনো সুযোগ নেই।

নির্বাচিত সরকারের প্রধানমন্ত্রী কোথায় থাকবেন, তা নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ সময়ে বেশ কয়েক মাস ধরে আলোচনা চলছিল। এ বিষয়ে সুপারিশ প্রদানের জন্য গত বছরের ৭ জুলাই গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় ছয় সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করে। কমিটি বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন শেষে ২০ জুলাই তাদের প্রতিবেদন জমা দেয়। প্রতিবেদনে ‘যমুনা’ এবং হেয়ার রোডের ২৪ ও ২৫ নম্বর বাংলোকে সমন্বিত পরিকল্পনায় প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন হিসেবে বিবেচনার সুপারিশ করা হয়েছিল। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় নতুন প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের জন্য জাতীয় সংসদ ভবন ও শেরেবাংলা নগর এলাকাও পরিদর্শন করা হয়েছিল, তবে সময়স্বল্পতাসহ কয়েকটি কারণে সেগুলো আর বিবেচনায় রাখা হয়নি বলে গণপূর্ত মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়।