মহান ভাষা আন্দোলন এবং আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে দেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ বেসামরিক সম্মাননা ‘একুশে পদক’ প্রদান করা হয়েছে। এবার নয়জন বিশিষ্ট ব্যক্তি ও ব্যান্ডদল ‘ওয়ারফেজ’ এই মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। গতকাল সকালে ঢাকার ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদকপ্রাপ্তদের হাতে এই সম্মাননা তুলে দেন।
এবারের একুশে পদকপ্রাপ্তদের মধ্যে প্রয়াত কিংবদন্তী সঙ্গীতশিল্পী আইয়ুব বাচ্চুও রয়েছেন। তাঁর অসামান্য সঙ্গীত অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এই সম্মাননা মরণোত্তরভাবে প্রদান করা হয়। আইয়ুব বাচ্চুর পক্ষে তাঁর স্ত্রী ফেরদৌস আক্তার চন্দনা পদক গ্রহণ করেন। আবেগঘন এক মুহূর্তে তিনি এই সম্মাননা গ্রহণ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ‘আলহামদুলিল্লাহ’ লিখে তাঁর অনুভূতি প্রকাশ করেন।
একুশে পদক গ্রহণের পর আইয়ুব বাচ্চুর ব্যান্ড ‘এলআরবি’-এর ফেসবুক পেজে একটি আবেগঘন বার্তা প্রকাশ করা হয়। সেখানে বলা হয়, “আইয়ুব বাচ্চুর প্রতি এই রাষ্ট্রীয় সম্মান কেবল একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং এটি তাঁর আজীবন সঙ্গীত সাধনার প্রতি জাতির গভীর শ্রদ্ধা নিবেদনেরই বহিঃপ্রকাশ। বাংলা রকের পথচলায় তিনি যে সাহস, সততা এবং নতুনত্বের পরিচয় রেখে গেছেন, তা আমাদের সংস্কৃতিকে সমৃদ্ধ করেছে এবং বিশ্বমঞ্চে এক বিশেষ পরিচিতি এনে দিয়েছে।” এই সম্মাননা প্রদানের জন্য বাংলাদেশ সরকারের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করে ব্যান্ডটি। তারা আরও উল্লেখ করে যে, “রাষ্ট্র যখন একজন শিল্পীর অবদানকে স্বীকৃতি দেয়, তখন তা কেবল ব্যক্তিকে নয়, পুরো সঙ্গীতাঙ্গনকেই সম্মানিত করে। এটি নতুন প্রজন্মের শিল্পীদের জন্যও এক বিরাট অনুপ্রেরণা।”
এলআরবি-এর পক্ষ থেকে প্রকাশিত বার্তায় আরও ব্যক্ত করা হয়, “আমরা বিশ্বাস করি, আইয়ুব বাচ্চুর অবদান আরও বৃহত্তর স্বীকৃতির দাবিদার। তাঁর সৃষ্টিশীলতা, দেশপ্রেম এবং সাংস্কৃতিক প্রভাব বিবেচনায় স্বাধীনতা পদকের মতো সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মান একদিন তাঁর নামের পাশেও যুক্ত হবে—এই প্রত্যাশা আমাদের হৃদয়ে চিরকাল রয়ে যাবে।”
প্রয়াত এই কিংবদন্তী শিল্পীর স্মরণে বার্তাটি শেষ হয় এই বলে, “আইয়ুব বাচ্চু আজ আমাদের মাঝে নেই, কিন্তু তাঁর সুর আছে। তাঁর সাহস আছে। তাঁর স্বপ্ন আছে। আর সেই স্বপ্নই আমাদের সামনে এগিয়ে যেতে শক্তি জোগায়। ধন্যবাদ সাংস্কৃতিক বিষয়ক মন্ত্রণালয়। ধন্যবাদ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।”
রিপোর্টারের নাম 
























