ঢাকা ০৬:৫২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বইমেলাকে শিক্ষা-সংস্কৃতির প্রাণকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৪:৫৩:৫৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

অমর একুশে বইমেলাকে কেবল বই কেনাবেচার গতানুগতিক উৎসব হিসেবে না দেখে, এটিকে শিক্ষা ও সংস্কৃতির বিকাশের এক প্রধান কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার ওপর জোর দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) অমর একুশে বইমেলা ও অনুষ্ঠানমালা ২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।

প্রধানমন্ত্রী বই পড়ার গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, বই কেবল জ্ঞান অর্জনের মাধ্যম বা অবসরের সঙ্গী নয়, এটি মস্তিষ্কের জন্য এক অমূল্য ভান্ডার। নিয়মিত বই পড়ার অভ্যাস মানুষের স্মৃতিশক্তি ও বিশ্লেষণ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। পাশাপাশি, আলঝেইমার বা ডিমেনশিয়ার মতো রোগের ঝুঁকি কমাতেও এটি সহায়ক ভূমিকা পালন করে।

তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ইন্টারনেট আসক্তি এবং বইবিমুখতা নিয়ে তিনি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, যদিও ইন্টারনেটের মাধ্যমে বই পড়া সম্ভব, তবুও কাগজের পাতায় মুদ্রিত অক্ষরের গভীরতা অন্য কোনো মাধ্যমে পাওয়া যায় না। গবেষকদের মতে, অতিরিক্ত ইন্টারনেট ব্যবহার শিক্ষার্থীদের পঠন-পাঠনের আগ্রহ কমিয়ে দেয়। তাই, তরুণ প্রজন্মকে বইয়ের প্রতি আগ্রহী করে তোলার কার্যকর উপায় খুঁজে বের করা জরুরি।

আন্তর্জাতিক জরিপের তথ্য উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী জানান, ১০২টি দেশের মধ্যে বই পড়ার অভ্যাসের দিক থেকে বাংলাদেশের অবস্থান ৯৭তম, যা অত্যন্ত হতাশাজনক। বাংলাদেশে একজন ব্যক্তি বছরে গড়ে মাত্র তিনটি বই পড়ে থাকেন। এই নাজুক পরিস্থিতি পরিবর্তনে অমর একুশে বইমেলাকে আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনের তাগিদ দেন তিনি।

ভবিষ্যতে অমর একুশে বইমেলাকে ‘অমর একুশে আন্তর্জাতিক বইমেলা’ হিসেবে আয়োজনের প্রস্তাব করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বিশ্বাস করেন, এর মাধ্যমে আমাদের নাগরিকরা বিশ্ব সাহিত্যের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পাবেন এবং বিভিন্ন ভাষা ও সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিতি লাভ করবেন। একই সঙ্গে, বাংলা ভাষাকে জাতিসংঘের দাপ্তরিক ভাষা হিসেবে স্বীকৃতি আদায়ের লক্ষ্যে কাজ শুরু করার প্রয়োজনীয়তার কথাও তিনি উল্লেখ করেন।

দেশের গণতান্ত্রিক পরিবেশের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশে জনগণের ভোটে নির্বাচিত একটি জবাবদিহিমূলক সরকার দেশকে জ্ঞানের আলোয় আলোকিত করতে চায়।’ তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, বইমেলা কেবল বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণ বা সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সীমাবদ্ধ না থেকে, সারা বছর দেশের প্রতিটি বিভাগ, জেলা ও উপজেলায় ছড়িয়ে পড়বে। এই লক্ষ্যে সরকার ও প্রকাশকদের সম্মিলিতভাবে উদ্যোগী হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী আরও জানান যে, বাংলা একাডেমি তরুণ লেখকদের প্রশিক্ষণ, গবেষণাবৃত্তি প্রদান এবং বিশ্ব সাহিত্যের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের জন্য অনুবাদ কার্যক্রমকে জোরদার করছে। একটি নিরাপদ, মানবিক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে তিনি দল-মত নির্বিশেষে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।

সবশেষে, ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগানকে ধারণ করে সকল প্রকার অন্ধকার ও পশ্চাৎপদতা মুক্ত সমাজ গড়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে তিনি ২০২৬ সালের বইমেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

উজিরপুরে অগ্নিকাণ্ডে ৫ পরিবারের স্বপ্ন ভস্ম, লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি

বইমেলাকে শিক্ষা-সংস্কৃতির প্রাণকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

আপডেট সময় : ০৪:৫৩:৫৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

অমর একুশে বইমেলাকে কেবল বই কেনাবেচার গতানুগতিক উৎসব হিসেবে না দেখে, এটিকে শিক্ষা ও সংস্কৃতির বিকাশের এক প্রধান কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার ওপর জোর দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) অমর একুশে বইমেলা ও অনুষ্ঠানমালা ২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।

প্রধানমন্ত্রী বই পড়ার গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, বই কেবল জ্ঞান অর্জনের মাধ্যম বা অবসরের সঙ্গী নয়, এটি মস্তিষ্কের জন্য এক অমূল্য ভান্ডার। নিয়মিত বই পড়ার অভ্যাস মানুষের স্মৃতিশক্তি ও বিশ্লেষণ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। পাশাপাশি, আলঝেইমার বা ডিমেনশিয়ার মতো রোগের ঝুঁকি কমাতেও এটি সহায়ক ভূমিকা পালন করে।

তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ইন্টারনেট আসক্তি এবং বইবিমুখতা নিয়ে তিনি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, যদিও ইন্টারনেটের মাধ্যমে বই পড়া সম্ভব, তবুও কাগজের পাতায় মুদ্রিত অক্ষরের গভীরতা অন্য কোনো মাধ্যমে পাওয়া যায় না। গবেষকদের মতে, অতিরিক্ত ইন্টারনেট ব্যবহার শিক্ষার্থীদের পঠন-পাঠনের আগ্রহ কমিয়ে দেয়। তাই, তরুণ প্রজন্মকে বইয়ের প্রতি আগ্রহী করে তোলার কার্যকর উপায় খুঁজে বের করা জরুরি।

আন্তর্জাতিক জরিপের তথ্য উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী জানান, ১০২টি দেশের মধ্যে বই পড়ার অভ্যাসের দিক থেকে বাংলাদেশের অবস্থান ৯৭তম, যা অত্যন্ত হতাশাজনক। বাংলাদেশে একজন ব্যক্তি বছরে গড়ে মাত্র তিনটি বই পড়ে থাকেন। এই নাজুক পরিস্থিতি পরিবর্তনে অমর একুশে বইমেলাকে আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনের তাগিদ দেন তিনি।

ভবিষ্যতে অমর একুশে বইমেলাকে ‘অমর একুশে আন্তর্জাতিক বইমেলা’ হিসেবে আয়োজনের প্রস্তাব করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বিশ্বাস করেন, এর মাধ্যমে আমাদের নাগরিকরা বিশ্ব সাহিত্যের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পাবেন এবং বিভিন্ন ভাষা ও সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিতি লাভ করবেন। একই সঙ্গে, বাংলা ভাষাকে জাতিসংঘের দাপ্তরিক ভাষা হিসেবে স্বীকৃতি আদায়ের লক্ষ্যে কাজ শুরু করার প্রয়োজনীয়তার কথাও তিনি উল্লেখ করেন।

দেশের গণতান্ত্রিক পরিবেশের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশে জনগণের ভোটে নির্বাচিত একটি জবাবদিহিমূলক সরকার দেশকে জ্ঞানের আলোয় আলোকিত করতে চায়।’ তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, বইমেলা কেবল বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণ বা সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সীমাবদ্ধ না থেকে, সারা বছর দেশের প্রতিটি বিভাগ, জেলা ও উপজেলায় ছড়িয়ে পড়বে। এই লক্ষ্যে সরকার ও প্রকাশকদের সম্মিলিতভাবে উদ্যোগী হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী আরও জানান যে, বাংলা একাডেমি তরুণ লেখকদের প্রশিক্ষণ, গবেষণাবৃত্তি প্রদান এবং বিশ্ব সাহিত্যের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের জন্য অনুবাদ কার্যক্রমকে জোরদার করছে। একটি নিরাপদ, মানবিক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে তিনি দল-মত নির্বিশেষে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।

সবশেষে, ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগানকে ধারণ করে সকল প্রকার অন্ধকার ও পশ্চাৎপদতা মুক্ত সমাজ গড়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে তিনি ২০২৬ সালের বইমেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করেন।