ঢাকা ০৬:১০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ডিএনসিসি প্রশাসক: টেন্ডার প্রক্রিয়া স্বচ্ছ হবে, অনিয়ম হলে তদন্ত নিশ্চিত

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৪:০৪:২৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ০ বার পড়া হয়েছে

ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) নবনিযুক্ত প্রশাসক মোঃ শফিকুল ইসলাম খান স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, কর্পোরেশনের অধীনে চলমান সকল উন্নয়ন প্রকল্পের টেন্ডার প্রক্রিয়া নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করতে হবে। তিনি আরও বলেন, অতীতের টেন্ডার কার্যক্রমে কোনো ধরনের অনিয়ম বা দুর্নীতির অভিযোগ থাকলে তা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই-বাছাই করা হবে এবং প্রাপ্ত সকল অভিযোগের যথাযথ তদন্ত নিশ্চিত করা হবে।

বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর উত্তরার ৬ নম্বর সেক্টর কমিউনিটি সেন্টারে ডিএনসিসি-এর অঞ্চল–১, ৬, ৭ ও ৮-এর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে আয়োজিত এক পরিচিতি ও মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রশাসক মোঃ শফিকুল ইসলাম খান নগরীর মশা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমের কার্যকারিতা নিয়েও আলোচনা করেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, কেবল মশার ওষুধ প্রয়োগ করে মশা নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। কার্যকর মশা নির্মূলের জন্য জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং নিরবচ্ছিন্ন তদারকি অত্যন্ত জরুরি। তিনি মশক কর্মীদের নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সাথে তাদের দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা দেন।

প্রশাসক আরও বলেন, “সিটি কর্পোরেশনে আর কোনো অবৈধ কাজ বরদাস্ত করা হবে না। আমার লক্ষ্য হলো জনগণের জন্য কাজ করা এবং শহরকে উন্নত করা, যা নাগরিকরা স্পষ্টভাবে দেখতে পাবে।” তিনি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিজ নিজ কাজে মনোযোগী হওয়ার এবং সময়মতো কর্মস্থলে উপস্থিত থাকার আহ্বান জানান। প্রশাসক আশ্বাস দেন যে, তিনি সর্বদা সকলের জন্য উপলব্ধ থাকবেন এবং সম্মিলিত প্রচেষ্টায় জনগণের প্রত্যাশা পূরণে কাজ করবেন।

এই সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা-১৮ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন। সংসদ সদস্য তার বক্তব্যে বলেন, “আমরা জনগণের সেবার জন্য এখানে এসেছি এবং আমাদের সাধ্যমতো এলাকার উন্নয়নে কাজ করব। নতুন ওয়ার্ডগুলোতে বিগত সময়ে দৃশ্যমান কোনো উন্নয়ন হয়নি।” তিনি দক্ষিণখানে জলাবদ্ধতা নিরসনে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের অনুরোধ জানান এবং উত্তরখানের বাসিন্দাদের সিটি কর্পোরেশনের সেবা পেতে উত্তরা আসতে যে কষ্ট হয়, তা লাঘব করার লক্ষ্যে উত্তরখানে কর্পোরেশনের একটি অফিস স্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান।

সভায় আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তাগণ নাগরিক সেবা প্রদান সংক্রান্ত বিভিন্ন সমস্যা ও চ্যালেঞ্জ তুলে ধরেন। এছাড়াও, হকার ব্যবস্থাপনা এবং অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণ নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়। ডিএনসিসি-এর অঞ্চল–১, ৬, ৭ ও ৮-এর আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তাবৃন্দ এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীগণ সভায় উপস্থিত ছিলেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মহাসড়কে চাঁদাবাজি: বিএনপির নেতা হুমায়ুন শাহীনের বিরুদ্ধে অভিযোগ, ৯ জন আটক

ডিএনসিসি প্রশাসক: টেন্ডার প্রক্রিয়া স্বচ্ছ হবে, অনিয়ম হলে তদন্ত নিশ্চিত

আপডেট সময় : ০৪:০৪:২৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) নবনিযুক্ত প্রশাসক মোঃ শফিকুল ইসলাম খান স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, কর্পোরেশনের অধীনে চলমান সকল উন্নয়ন প্রকল্পের টেন্ডার প্রক্রিয়া নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করতে হবে। তিনি আরও বলেন, অতীতের টেন্ডার কার্যক্রমে কোনো ধরনের অনিয়ম বা দুর্নীতির অভিযোগ থাকলে তা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই-বাছাই করা হবে এবং প্রাপ্ত সকল অভিযোগের যথাযথ তদন্ত নিশ্চিত করা হবে।

বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর উত্তরার ৬ নম্বর সেক্টর কমিউনিটি সেন্টারে ডিএনসিসি-এর অঞ্চল–১, ৬, ৭ ও ৮-এর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে আয়োজিত এক পরিচিতি ও মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রশাসক মোঃ শফিকুল ইসলাম খান নগরীর মশা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমের কার্যকারিতা নিয়েও আলোচনা করেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, কেবল মশার ওষুধ প্রয়োগ করে মশা নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। কার্যকর মশা নির্মূলের জন্য জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং নিরবচ্ছিন্ন তদারকি অত্যন্ত জরুরি। তিনি মশক কর্মীদের নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সাথে তাদের দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা দেন।

প্রশাসক আরও বলেন, “সিটি কর্পোরেশনে আর কোনো অবৈধ কাজ বরদাস্ত করা হবে না। আমার লক্ষ্য হলো জনগণের জন্য কাজ করা এবং শহরকে উন্নত করা, যা নাগরিকরা স্পষ্টভাবে দেখতে পাবে।” তিনি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিজ নিজ কাজে মনোযোগী হওয়ার এবং সময়মতো কর্মস্থলে উপস্থিত থাকার আহ্বান জানান। প্রশাসক আশ্বাস দেন যে, তিনি সর্বদা সকলের জন্য উপলব্ধ থাকবেন এবং সম্মিলিত প্রচেষ্টায় জনগণের প্রত্যাশা পূরণে কাজ করবেন।

এই সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা-১৮ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন। সংসদ সদস্য তার বক্তব্যে বলেন, “আমরা জনগণের সেবার জন্য এখানে এসেছি এবং আমাদের সাধ্যমতো এলাকার উন্নয়নে কাজ করব। নতুন ওয়ার্ডগুলোতে বিগত সময়ে দৃশ্যমান কোনো উন্নয়ন হয়নি।” তিনি দক্ষিণখানে জলাবদ্ধতা নিরসনে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের অনুরোধ জানান এবং উত্তরখানের বাসিন্দাদের সিটি কর্পোরেশনের সেবা পেতে উত্তরা আসতে যে কষ্ট হয়, তা লাঘব করার লক্ষ্যে উত্তরখানে কর্পোরেশনের একটি অফিস স্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান।

সভায় আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তাগণ নাগরিক সেবা প্রদান সংক্রান্ত বিভিন্ন সমস্যা ও চ্যালেঞ্জ তুলে ধরেন। এছাড়াও, হকার ব্যবস্থাপনা এবং অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণ নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়। ডিএনসিসি-এর অঞ্চল–১, ৬, ৭ ও ৮-এর আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তাবৃন্দ এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীগণ সভায় উপস্থিত ছিলেন।