দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ শীর্ষ পদে (গভর্নর) একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ীর নিয়োগকে কেন্দ্র করে উত্তাল হয়ে উঠেছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম। পেশাদার আমলা বা সংশ্লিষ্ট খাতের বিশেষজ্ঞের পরিবর্তে একজন ব্যবসায়ীকে এই গুরুদায়িত্ব প্রদান করায় সচেতন নাগরিক ও নেটিজেনদের মধ্যে দেখা দিয়েছে তীব্র মিশ্র প্রতিক্রিয়া। বিষয়টি নিয়ে ফেসবুক, এক্স (সাবেক টুইটার) সহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।
নিয়োগের খবরটি প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার ঝড় ওঠে। নেটিজেনদের বড় একটি অংশ এই সিদ্ধান্তকে ‘স্বার্থের সংঘাত’ (Conflict of Interest) হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, একজন ব্যবসায়ী যখন নীতি-নির্ধারণী বা নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থার প্রধান হন, তখন তার ব্যবসায়িক স্বার্থ ও রাষ্ট্রীয় দায়িত্বের মধ্যে সমন্বয় বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। অনেক ব্যবহারকারী মন্তব্য করেছেন যে, এটি সংশ্লিষ্ট খাতের নিরপেক্ষতা ও স্বচ্ছতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে।
অন্যদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিশেষজ্ঞ ও সাধারণ ব্যবহারকারীদের একাংশ এই নিয়োগের বিপক্ষে শক্ত অবস্থান নিয়েছেন। তাদের দাবি, বিশেষায়িত এই পদের জন্য দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা বা সংশ্লিষ্ট বিষয়ে গভীর তাত্ত্বিক জ্ঞান অপরিহার্য। একজন ব্যবসায়ীর হাতে এই নিয়ন্ত্রণভার তুলে দেওয়াকে তারা হঠকারী সিদ্ধান্ত হিসেবে অভিহিত করেছেন। বিশেষ করে দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে এমন নিয়োগ কতটা ফলপ্রসূ হবে, তা নিয়ে অনেকেই সংশয় প্রকাশ করেছেন।
তবে এই সমালোচনার বিপরীতে কিছু ইতিবাচক মন্তব্যও দেখা গেছে। কেউ কেউ মনে করছেন, প্রথাগত আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কাটাতে একজন সফল ব্যবসায়ীর বাস্তব অভিজ্ঞতা কাজে আসতে পারে। তবে এমন মতামতের সংখ্যা সমালোচনার তুলনায় বেশ নগণ্য।
ভাইরাল হওয়া বিভিন্ন পোস্টে দেখা যাচ্ছে, সাধারণ মানুষ এই নিয়োগের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে এই সিদ্ধান্তের যৌক্তিক ব্যাখ্যা দাবি করছেন। সব মিলিয়ে, একজন ব্যবসায়ীর গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় পদে আসীন হওয়াকে কেন্দ্র করে ভার্চুয়াল জগতে যে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে, তা এখন টক অব দ্য কান্ট্রিতে পরিণত হয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 



















