রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলার ইকরচালী ইউনিয়নের এক ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ইকরচালী উচ্চ বিদ্যালয়, গত পাঁচ বছরেরও বেশি সময় ধরে একটি স্থায়ী শহীদ মিনার নির্মাণের অভাবে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দিবসগুলোতে এক অসম্পূর্ণ শ্রদ্ধা নিবেদনের সাক্ষী হচ্ছে। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস, মহান শহীদ দিবসসহ অন্যান্য জাতীয় দিবসগুলোতে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে শিক্ষার্থীরা ভরসা রাখছে বিদ্যালয়ের পতাকা স্ট্যান্ডের উপর।
গত শনিবার আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষেও ইকরচালী উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং কর্মচারীগণ বিদ্যালয়ের প্রাঙ্গণে স্থাপিত পতাকা স্ট্যান্ডে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে ভাষা শহীদদের আত্মত্যাগকে স্মরণ করেছেন। শহীদ মিনারের অনুপস্থিতিতে এটিই হয়ে দাঁড়িয়েছে প্রতি বছর দিবসটি পালনের প্রধান বিকল্প ব্যবস্থা।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, শাহ মো. মোনওয়ারুল ইসলাম সাবু, এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির কারণ ব্যাখ্যা করে বলেন, “২০২০ সালে আমাদের বিদ্যালয়ের শহীদ মিনারটি ভেঙে যায়। এরপর নতুন শহীদ মিনার নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হলেও প্রয়োজনীয় অর্থের অভাবে তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। বিদ্যালয়ের তহবিলে পর্যাপ্ত অর্থের সংস্থান না থাকায় বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরে অমীমাংসিত অবস্থায় রয়েছে।” তিনি আরও যোগ করেন, “আমরা শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভাষা আন্দোলনের চেতনা জাগ্রত রাখতে নিয়মিত নানা কর্মসূচি পালন করে থাকি। তবে একটি স্থায়ী শহীদ মিনার থাকলে এই দিবসগুলোর মর্যাদা নিঃসন্দেহে আরও বৃদ্ধি পেত।”
এ প্রসঙ্গে তারাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), মো. মোনাব্বর হোসেন, যিনি সম্প্রতি দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন, জানান যে তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হয়েছেন। তিনি আশ্বাস দিয়ে বলেন, “বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে দেখা হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আমরা চেষ্টা করব।”
স্থানীয় অভিভাবক এবং সচেতন মহল এই পরিস্থিতিতে দ্রুত বিদ্যালয়ে একটি স্থায়ী শহীদ মিনার নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। ভাষা আন্দোলনের চেতনার ধারক এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য একটি dignified স্মৃতিসৌধের অভাব দীর্ঘদিনের।
—
রিপোর্টারের নাম 























