চলতি মাসে যেন থামছেই না ভূমিকম্পের আতঙ্ক। মাত্র এক মাসের ব্যবধানে ৯ বার কেঁপে উঠেছে বাংলাদেশ, যা জনমনে তীব্র উদ্বেগ ও শঙ্কা তৈরি করেছে। ভূকম্পনের এই অস্বাভাবিক ধারাবাহিকতা দেশের ভূমিকম্পপ্রবণতা এবং সম্ভাব্য বড় ধরনের ঝুঁকির বিষয়টি আবারও সামনে এনেছে। ঘন ঘন মৃদু থেকে মাঝারি মাত্রার এসব কম্পন দেশের ভূতাত্ত্বিক অবস্থান নিয়ে নতুন করে ভাবিয়ে তুলছে বিশেষজ্ঞ মহলকে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশ ভারতীয়, ইউরেশীয় এবং বার্মা প্লেটের সংযোগস্থলে অবস্থিত হওয়ায় এটি অত্যন্ত ভূমিকম্পপ্রবণ একটি অঞ্চল। ছোট ছোট কম্পনগুলো বড় ভূমিকম্পের ইঙ্গিত হতে পারে, আবার কখনও কখনও এটি প্লেটের অভ্যন্তরীন চাপ মুক্তির একটি প্রক্রিয়াও হতে পারে। তবে, এক মাসে এতগুলো কম্পন নিঃসন্দেহে অস্বাভাবিক এবং এটি ভবিষ্যতের জন্য সতর্কবার্তা বহন করছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এসব ভূমিকম্প অনুভূত হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ছে। বিশেষ করে রাজধানী ঢাকাসহ ঘনবসতিপূর্ণ শহরগুলোর বাসিন্দারা বহুতল ভবনের নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তিত।
ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞরা বারবার সতর্ক করে আসছেন যে, অপরিকল্পিত নগরায়ন এবং ভবন নির্মাণে ত্রুটিপূর্ণ নীতিমালা অনুসরণ করার কারণে বাংলাদেশ, বিশেষ করে ঢাকা, একটি বড় ভূমিকম্পের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে। বর্তমান কম্পনগুলোর মাত্রা তেমন তীব্র না হলেও, এর ধারাবাহিকতা একটি বড় বিপদ ডেকে আনতে পারে এমন আশঙ্কা উড়িয়ে দিচ্ছেন না তারা। ভূতাত্ত্বিকরা বলছেন, ছোট ছোট কম্পনগুলো মাটির নিচের চাপকে নির্দেশ করে, যা ভবিষ্যতে বড় ধরনের শক্তি নির্গমনের কারণ হতে পারে।
এই পরিস্থিতিতে ভূমিকম্প মোকাবিলায় জাতীয় প্রস্তুতি আরও জোরদার করার তাগিদ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। ভবন নির্মাণে ভূমিকম্প সহনশীলতার নীতিমালা কঠোরভাবে অনুসরণ করা, পুরনো ঝুঁকিপূর্ণ ভবন চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া, এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে ব্যাপক প্রচারণার ওপর গুরুত্বারোপ করা হচ্ছে। এছাড়া, জরুরি সেবা সংস্থাগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধি, উদ্ধারকর্মীদের প্রশিক্ষণ এবং আধুনিক যন্ত্রপাতি নিশ্চিত করাও অপরিহার্য। ঘন ঘন এই ভূকম্পনগুলো হয়তো প্রকৃতির এক নীরব বার্তা, যা আমাদের প্রস্তুতির ঘাটতিগুলো দ্রুত পূরণ করার আহ্বান জানাচ্ছে।
রিপোর্টারের নাম 





















