ঢাকা ০৪:৫৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

কুয়াকাটায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড: পুড়ে ছাই ৮ দোকান, ২৫ লাখ টাকার বেশি ক্ষতির আশঙ্কা

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:২৫:১৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকত সংলগ্ন এলাকায় এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৮টি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়েছে। শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে সংঘটিত এই অগ্নিকাণ্ডে খাবারের হোটেল, কাপড়ের দোকানসহ বিভিন্ন ধরনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পুড়ে ছাই হয়ে যায়। এতে আরও তিনটি দোকান আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ব্যবসায়ীদের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, এই ঘটনায় প্রায় ২৫ থেকে ৩০ লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।

জানা যায়, এদিন সকাল সাড়ে ৬টার দিকে বেড়িবাঁধের বাইরে সমুদ্রসৈকত এলাকার সিকুইন হোটেল ও শ্রী শ্রী রাধাকৃষ্ণ মন্দিরের কাছে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যেই আগুনের লেলিহান শিখা ছড়িয়ে পড়ে এবং দুটি খাবারের হোটেল, দুটি কাপড়ের দোকান, একটি মুদি-মনোহরি দোকান, একটি ঝিনুকের দোকান, একটি জেনারেটরের দোকান এবং একটি চায়ের দোকান পুড়ে যায়। খবর পেয়ে বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের মধ্যে রয়েছেন সালমা বেগম (হোটেল তিন কন্যা), নাসির হাওলাদার (বিসমিল্লাহ হোটেল), শহীদ সিকদার (ঝিনুকের দোকান), বেল্লাল হোসেন (কাপড়ের দোকান), মিলন (মুদি-মনোহরি দোকান) এবং মিলন (জেনারেটরের দোকান)।

আগুনের সূত্রপাত নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ভিন্ন ভিন্ন মত রয়েছে। কেউ কেউ দাবি করছেন, রাধাকৃষ্ণ মন্দিরের একটি কক্ষ থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে, যেখানে লেপ-তোশক ও বালিশ রাখা ছিল এবং কয়েল জ্বালানো হয়েছিল। আবার অনেকে বলছেন, কোনো খাবার হোটেল থেকে আগুন লেগে থাকতে পারে। তবে প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকালে অধিকাংশ দোকান তালাবদ্ধ ছিল। একটি কক্ষে কয়েকজন লোক থাকলেও তারা নিরাপদে বের হয়ে আসতে সক্ষম হন। আগুন লাগার সঙ্গে সঙ্গেই কুয়াকাটা পৌরসভার পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও স্থানীয় বাসিন্দারা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন এবং আশপাশের দোকানগুলোর মালামাল সরিয়ে নিতে সহায়তা করেন।

ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেন, ফায়ার সার্ভিসে খবর দেওয়ার প্রায় এক থেকে দেড় ঘণ্টা পর তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছায়, যার ফলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ অনেক বেড়েছে। স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের দাবি, কুয়াকাটা দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যটনকেন্দ্র হওয়া সত্ত্বেও এখানে কোনো ফায়ার সার্ভিস স্টেশন নেই। নিকটবর্তী কলাপাড়া থেকে প্রায় ২২ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে ফায়ার সার্ভিসকে আসতে হয়, যা জরুরি পরিস্থিতিতে বড় ধরনের বিলম্বের কারণ হয়। তাই দ্রুত কুয়াকাটায় একটি ফায়ার সার্ভিস স্টেশন স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন তারা।

রমজান মাসের শুরুতেই এমন ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো চরম বিপাকে পড়েছে। তাদের সহায়-সম্বল প্রায় সবই পুড়ে যাওয়ায় কীভাবে এই আর্থিক ক্ষতি পুষিয়ে উঠবেন, তা নিয়ে তারা গভীর দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।

এদিকে, অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে কুয়াকাটা ট্যুরিস্ট পুলিশ, থানা পুলিশ এবং স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। ক্ষয়ক্ষতির তালিকা প্রস্তুতের কাজ চলছে।

কলাপাড়া ফায়ার সার্ভিসের ইনচার্জ আবুল হোসেন এ বিষয়ে বলেন, “খবর পাওয়ার পর আমরা সকাল ৮টার দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছাই এবং প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনি। আগুনের সূত্রপাত ও ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ তদন্ত সাপেক্ষে জানানো হবে।”

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

নরসিংদীর মাধবদীতে কিশোরী ধর্ষণ-হত্যা: দ্রুত ও প্রকাশ্যে বিচার চাইলেন মাওলানা জালালুদ্দীন

কুয়াকাটায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড: পুড়ে ছাই ৮ দোকান, ২৫ লাখ টাকার বেশি ক্ষতির আশঙ্কা

আপডেট সময় : ০৩:২৫:১৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকত সংলগ্ন এলাকায় এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৮টি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়েছে। শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে সংঘটিত এই অগ্নিকাণ্ডে খাবারের হোটেল, কাপড়ের দোকানসহ বিভিন্ন ধরনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পুড়ে ছাই হয়ে যায়। এতে আরও তিনটি দোকান আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ব্যবসায়ীদের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, এই ঘটনায় প্রায় ২৫ থেকে ৩০ লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।

জানা যায়, এদিন সকাল সাড়ে ৬টার দিকে বেড়িবাঁধের বাইরে সমুদ্রসৈকত এলাকার সিকুইন হোটেল ও শ্রী শ্রী রাধাকৃষ্ণ মন্দিরের কাছে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যেই আগুনের লেলিহান শিখা ছড়িয়ে পড়ে এবং দুটি খাবারের হোটেল, দুটি কাপড়ের দোকান, একটি মুদি-মনোহরি দোকান, একটি ঝিনুকের দোকান, একটি জেনারেটরের দোকান এবং একটি চায়ের দোকান পুড়ে যায়। খবর পেয়ে বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের মধ্যে রয়েছেন সালমা বেগম (হোটেল তিন কন্যা), নাসির হাওলাদার (বিসমিল্লাহ হোটেল), শহীদ সিকদার (ঝিনুকের দোকান), বেল্লাল হোসেন (কাপড়ের দোকান), মিলন (মুদি-মনোহরি দোকান) এবং মিলন (জেনারেটরের দোকান)।

আগুনের সূত্রপাত নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ভিন্ন ভিন্ন মত রয়েছে। কেউ কেউ দাবি করছেন, রাধাকৃষ্ণ মন্দিরের একটি কক্ষ থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে, যেখানে লেপ-তোশক ও বালিশ রাখা ছিল এবং কয়েল জ্বালানো হয়েছিল। আবার অনেকে বলছেন, কোনো খাবার হোটেল থেকে আগুন লেগে থাকতে পারে। তবে প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকালে অধিকাংশ দোকান তালাবদ্ধ ছিল। একটি কক্ষে কয়েকজন লোক থাকলেও তারা নিরাপদে বের হয়ে আসতে সক্ষম হন। আগুন লাগার সঙ্গে সঙ্গেই কুয়াকাটা পৌরসভার পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও স্থানীয় বাসিন্দারা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন এবং আশপাশের দোকানগুলোর মালামাল সরিয়ে নিতে সহায়তা করেন।

ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেন, ফায়ার সার্ভিসে খবর দেওয়ার প্রায় এক থেকে দেড় ঘণ্টা পর তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছায়, যার ফলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ অনেক বেড়েছে। স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের দাবি, কুয়াকাটা দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যটনকেন্দ্র হওয়া সত্ত্বেও এখানে কোনো ফায়ার সার্ভিস স্টেশন নেই। নিকটবর্তী কলাপাড়া থেকে প্রায় ২২ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে ফায়ার সার্ভিসকে আসতে হয়, যা জরুরি পরিস্থিতিতে বড় ধরনের বিলম্বের কারণ হয়। তাই দ্রুত কুয়াকাটায় একটি ফায়ার সার্ভিস স্টেশন স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন তারা।

রমজান মাসের শুরুতেই এমন ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো চরম বিপাকে পড়েছে। তাদের সহায়-সম্বল প্রায় সবই পুড়ে যাওয়ায় কীভাবে এই আর্থিক ক্ষতি পুষিয়ে উঠবেন, তা নিয়ে তারা গভীর দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।

এদিকে, অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে কুয়াকাটা ট্যুরিস্ট পুলিশ, থানা পুলিশ এবং স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। ক্ষয়ক্ষতির তালিকা প্রস্তুতের কাজ চলছে।

কলাপাড়া ফায়ার সার্ভিসের ইনচার্জ আবুল হোসেন এ বিষয়ে বলেন, “খবর পাওয়ার পর আমরা সকাল ৮টার দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছাই এবং প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনি। আগুনের সূত্রপাত ও ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ তদন্ত সাপেক্ষে জানানো হবে।”