গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলায় রসুন চাষের প্রতি কৃষকদের আগ্রহ ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিগত বছরের তুলনায় চলতি মৌসুমে রসুনের আবাদ উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে, যার মূল কারণ হলো পতিত জমিতে ‘বারি রসুন-৪’ জাতের চাষে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ হওয়া। এই নতুন জাতটি কৃষকদের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে এবং তাদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার নতুন পথ খুলে দিয়েছে।
উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, কৃষকরা এখন পতিত জমিকে কাজে লাগিয়ে রসুন চাষ করছেন। পদুমশহর ইউনিয়নের কৃষক লিমন সরকার ১০ শতাংশ জমিতে ‘বারি রসুন-৪’ চাষ করে আশার আলো দেখছেন। তিনি জানান, পূর্বে রসুন চাষ নিয়ে তেমন আগ্রহ না থাকলেও, অন্যান্য কৃষকদের সফলতা দেখে তিনি নিজেও এই চাষে উদ্বুদ্ধ হয়েছেন। তার মতো আরও অনেক কৃষক এবার রসুন চাষের প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠেছেন।
চকদাতেয়া গ্রামের কৃষক এমদাদ হোসেন সরকার বলেন, কৃষি বিভাগের সঠিক দিকনির্দেশনা এবং মানসম্মত বীজ প্রাপ্তির ফলে তিনি পরীক্ষামূলকভাবে অল্প জমিতে ‘বারি রসুন-৪’ আবাদ করেছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, যদি ফলন ভালো হয়, তবে আগামী মৌসুমে তিনি তার আবাদের পরিমাণ আরও বাড়াবেন।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, ‘মসলার উন্নত জাত ও প্রযুক্তি সম্প্রসারণ’ প্রকল্পের আওতায় কৃষকদের ২০ কেজি করে বীজ এবং প্রয়োজনীয় সার সরবরাহ করা হয়েছে। আধুনিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ ও নিয়মিত পরিচর্যার ফলে বর্তমানে রসুন গাছগুলো সবল ও সতেজ দেখাচ্ছে। ক্ষেতজুড়ে সবুজ পাতার সমারোহ দেখে কৃষকরাও বেশ আশাবাদী।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিস সূত্রে আরও জানা যায়, এ বছর উপজেলায় প্রায় ৩২ হেক্টর জমিতে রসুন চাষ হয়েছে। এর পাশাপাশি ‘বারি রসুন-৪’ এর পাঁচটি প্রদর্শনী প্লটও স্থাপন করা হয়েছে, যা অন্যান্য কৃষকদের জন্য অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করছে।
কৃষকদের মতে, বাজারে সারা বছরই রসুনের চাহিদা থাকায় এই আবাদে লোকসানের ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে কম। তারা যদি ন্যায্যমূল্য পান, তবে তারা লাভবান হবেন। পাশাপাশি, দেশীয় উৎপাদন বৃদ্ধি পেলে রসুনের আমদানি নির্ভরতাও কমবে বলে তারা মতামত দিয়েছেন।
সাঘাটা উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ আসাদুজ্জামান বলেন, কৃষি অফিসের সার্বিক তদারকি ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে বিভিন্ন এলাকায় কৃষকদের রসুন চাষে উদ্বুদ্ধ করা হয়েছে। এ কারণেই এ বছর চাষে আগ্রহ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
গাইবান্ধা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ আতিকুল ইসলাম উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় রসুনের প্রদর্শনী মাঠ পরিদর্শনকালে জানান, রোগবালাইয়ের প্রকোপ কম থাকায় রসুন গাছগুলো ভালোভাবে বেড়ে উঠছে এবং আশানুরূপ ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে। এই ইতিবাচক ধারা অব্যাহত থাকলে সাঘাটার কৃষকরা রসুন চাষে আরও বেশি লাভবান হবেন বলে আশা করা যায়।
রিপোর্টারের নাম 























