ঢাকা ০৫:৪৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

গাড়ি প্রবেশে বাধা: মিঠামইনে বেরিবাঁধের গাছ কেটে দিলেন বিএনপি নেতা, মামলা দায়ের

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৫:১৯:৪৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ১ বার পড়া হয়েছে

কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলায় নদীভাঙন রোধে রোপণ করা প্রায় ২০টি মেহগনি গাছ কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিএনপি সভাপতি জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে। ব্যক্তিগত গাড়ি চলাচলে বিঘ্ন ঘটায় তিনি তার বাড়ির পাশের কামালপুর এলাকার বেরিবাঁধে লাগানো গাছগুলো ধাপে ধাপে কেটে ফেলেছেন বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। এ ঘটনায় এলাকায় ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে এবং মিঠামইন উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) অভিযুক্তের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, কামালপুর এলাকায় জাহাঙ্গীর আলমের বাড়িতে প্রবেশ করতে হলে বেরিবাঁধের ওপর দিয়ে যেতে হয়। ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ে চলাচলে কিছুটা সমস্যা হওয়ায় গত ৫ আগস্টের পর থেকে একে একে গাছ কাটা শুরু করেন তিনি। সর্বশেষ গত ২১ ফেব্রুয়ারি একসঙ্গে ১০ থেকে ১২টি গাছ কেটে ফেলা হয়। প্রতিটি গাছের আনুমানিক বাজারমূল্য ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা। বৈদ্যুতিক করাত ব্যবহার করে গাছের গোড়া কেটে ফেলা হয় এবং পরে সেগুলো সরিয়ে অন্যত্র নিয়ে যাওয়া হয়। ঘটনার পর এলাকায় ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়লেও অভিযুক্ত ব্যক্তি প্রভাবশালী হওয়ায় প্রকাশ্যে কেউ মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীর বলেন, “আমি কাটবো কেন? আমার দরকার আছে কাটার? জায়গা ও গাছগুলো সরকারি না। প্রত্যেকে নিজের জায়গা থেকে গাছ কেটে নিয়ে গেছে। বেরিবাঁধ সরকারি না, অধিগ্রহণকৃতও না।”

মিঠামইন উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপজেলা প্রকৌশলী ফয়জুর রাজ্জাক জানান, স্থানীয় সরকার বিভাগের পক্ষ থেকে ১৯৯৫-১৯৯৬ সালে বাঁধটি তৈরি করা হয়েছিল এবং সে সময় গাছগুলো রোপণ করা হয়। গাছ কেটে ফেলার বিষয়টি জানার পর স’মিলে গিয়ে গাছগুলো জব্দ করা হয়েছে। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
মিঠামইন উপজেলার দায়িত্বে থাকা বন বিভাগের কর্মকর্তা জুলফিকার জয় জানান, বেরিবাঁধে কেটে ফেলা গাছগুলো স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সহায়তায় ‘খোয়াব’ নামে একটি এনজিও সংস্থা রোপণ করেছিল। তবে এটি তাদের সরাসরি দায়িত্বের মধ্যে পড়ে না।

মিঠামইন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম আব্দুল্লাহ বিন শফিক বলেন, “বিষয়টি আমার জানা নেই। সরেজমিন পরিদর্শন করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
গাছ জব্দ করার সত্যতা নিশ্চিত করে মিঠামইন থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ শফিউল আলম জানান, ইতোমধ্যে গাছগুলো স’মিলে নিয়ে যাওয়া শ্রমিক আঙ্গুর মিয়াকে শনাক্ত করা হয়েছে। তাকে ধরতে পারলে মূল হোতাকে ধরা সহজ হবে। আঙ্গুর মিয়াকে ধরতে পুলিশ কাজ করছে।

কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম বলেন, “বিষয়টি আমার জানা নেই। ঘটনা সত্য হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক। আর অভিযোগ পাওয়া গেলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বারবার নেতাকর্মীদের সতর্ক করেছেন। দলের সম্মানে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।”

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

শিক্ষকদের অন্য পেশায় যুক্ত হতে কর্তৃপক্ষের অনুমতি আবশ্যক: শিক্ষামন্ত্রী

গাড়ি প্রবেশে বাধা: মিঠামইনে বেরিবাঁধের গাছ কেটে দিলেন বিএনপি নেতা, মামলা দায়ের

আপডেট সময় : ০৫:১৯:৪৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলায় নদীভাঙন রোধে রোপণ করা প্রায় ২০টি মেহগনি গাছ কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিএনপি সভাপতি জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে। ব্যক্তিগত গাড়ি চলাচলে বিঘ্ন ঘটায় তিনি তার বাড়ির পাশের কামালপুর এলাকার বেরিবাঁধে লাগানো গাছগুলো ধাপে ধাপে কেটে ফেলেছেন বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। এ ঘটনায় এলাকায় ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে এবং মিঠামইন উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) অভিযুক্তের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, কামালপুর এলাকায় জাহাঙ্গীর আলমের বাড়িতে প্রবেশ করতে হলে বেরিবাঁধের ওপর দিয়ে যেতে হয়। ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ে চলাচলে কিছুটা সমস্যা হওয়ায় গত ৫ আগস্টের পর থেকে একে একে গাছ কাটা শুরু করেন তিনি। সর্বশেষ গত ২১ ফেব্রুয়ারি একসঙ্গে ১০ থেকে ১২টি গাছ কেটে ফেলা হয়। প্রতিটি গাছের আনুমানিক বাজারমূল্য ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা। বৈদ্যুতিক করাত ব্যবহার করে গাছের গোড়া কেটে ফেলা হয় এবং পরে সেগুলো সরিয়ে অন্যত্র নিয়ে যাওয়া হয়। ঘটনার পর এলাকায় ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়লেও অভিযুক্ত ব্যক্তি প্রভাবশালী হওয়ায় প্রকাশ্যে কেউ মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীর বলেন, “আমি কাটবো কেন? আমার দরকার আছে কাটার? জায়গা ও গাছগুলো সরকারি না। প্রত্যেকে নিজের জায়গা থেকে গাছ কেটে নিয়ে গেছে। বেরিবাঁধ সরকারি না, অধিগ্রহণকৃতও না।”

মিঠামইন উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপজেলা প্রকৌশলী ফয়জুর রাজ্জাক জানান, স্থানীয় সরকার বিভাগের পক্ষ থেকে ১৯৯৫-১৯৯৬ সালে বাঁধটি তৈরি করা হয়েছিল এবং সে সময় গাছগুলো রোপণ করা হয়। গাছ কেটে ফেলার বিষয়টি জানার পর স’মিলে গিয়ে গাছগুলো জব্দ করা হয়েছে। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
মিঠামইন উপজেলার দায়িত্বে থাকা বন বিভাগের কর্মকর্তা জুলফিকার জয় জানান, বেরিবাঁধে কেটে ফেলা গাছগুলো স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সহায়তায় ‘খোয়াব’ নামে একটি এনজিও সংস্থা রোপণ করেছিল। তবে এটি তাদের সরাসরি দায়িত্বের মধ্যে পড়ে না।

মিঠামইন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম আব্দুল্লাহ বিন শফিক বলেন, “বিষয়টি আমার জানা নেই। সরেজমিন পরিদর্শন করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
গাছ জব্দ করার সত্যতা নিশ্চিত করে মিঠামইন থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ শফিউল আলম জানান, ইতোমধ্যে গাছগুলো স’মিলে নিয়ে যাওয়া শ্রমিক আঙ্গুর মিয়াকে শনাক্ত করা হয়েছে। তাকে ধরতে পারলে মূল হোতাকে ধরা সহজ হবে। আঙ্গুর মিয়াকে ধরতে পুলিশ কাজ করছে।

কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম বলেন, “বিষয়টি আমার জানা নেই। ঘটনা সত্য হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক। আর অভিযোগ পাওয়া গেলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বারবার নেতাকর্মীদের সতর্ক করেছেন। দলের সম্মানে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।”