ঢাকা ০৯:২৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

স্বজন হারানোর বেদনা, ছোট্ট ফাইজার অজানা ভবিষ্যৎ: মর্গে অপেক্ষায় বাবা-মা-বোনদের নিথর দেহ

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:৫৫:৩৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ১ বার পড়া হয়েছে

সৌদি আরবের মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় বাবা, মা এবং দুই বোনকে হারিয়ে দেশে ফিরেছে ১১ বছর বয়সী ফাইজা আক্তার। সে জানে না, তার প্রিয়জনদের নিথর দেহগুলো এখন মর্গে অপেক্ষায়। তার সরল মনে এখনো রয়েছে ঈদ করার স্বপ্ন, বাবা-মা আর বোনদের সাথে দেশে ফেরার আনন্দ। কিন্তু এই আনন্দ ফিকে হয়ে গেছে এক ভয়াবহ সত্যের আড়ালে।

গত ৩ ফেব্রুয়ারি, ওমরা পালনের জন্য সৌদি আরবে গিয়েছিলেন মিজানুর রহমান (৪০), তার স্ত্রী মেহের আফরোজ সুমী (৩০) এবং তাদের তিন কন্যা – ১৩ বছর বয়সী মোহনা, ১১ বছর বয়সী ফাইজা এবং দেড় বছর বয়সী সুবাহ। ওমরা শেষে ফেরার পথে, গত ১৬ ফেব্রুয়ারি, সৌদি আরবের আবহা এলাকায় এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান মিজানুর রহমান, মেহের আফরোজ সুমী, বড় মেয়ে মোহনা এবং সবচেয়ে ছোট মেয়ে সুবাহ। এই দুর্ঘটনায় গাড়ি চালক মোহাম্মদ জিলানী বাবরও নিহত হন।

দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত ফাইজা দীর্ঘ এক সপ্তাহ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছে। সে শুধু এটুকুই জানে যে সে অসুস্থ এবং মামার সাথে দেশে ফিরে এসেছে। সে এখনও জানে না যে তার বাবা-মা এবং দুই বোন আর কখনো ফিরে আসবে না। সে এখনো বিশ্বাস করে, তারা সবাই ঈদের আগেই দেশে ফিরবে এবং একসাথে ঈদ করবে।

সোমবার রাতে, ফাইজার মামা আজহারুল ইসলাম সুমনের তত্ত্বাবধানে এবং মামা তানভীর আহম্মেদের সহায়তায় ফাইজা বাংলাদেশে ফিরে আসে। গত দুইদিন ধরে ফাইজার নানা বাড়িতে শত শত মানুষ ভিড় করছেন তাকে দেখতে এবং সান্ত্বনা দিতে। কিন্তু এই ভিড়ের মাঝেও ফাইজার মনে রয়ে গেছে তার প্রিয়জনদের ফিরে আসার আকুতি।

এদিকে, নিহতদের লাশ দেশে ফিরিয়ে আনা নিয়ে পরিবারে চলছে চরম উদ্বেগ। লাশ দেশে আনতে প্রায় ১৫-১৬ লাখ টাকার প্রয়োজন, যা এই পরিবারের পক্ষে জোগাড় করা কঠিন। ফাইজার চাচা বাহারুল আলম জানিয়েছেন, এত টাকা জোগাড় করা সম্ভব না হলে হয়তো তাদের লাশ সৌদি আরবেই দাফন করতে হবে। এই চিন্তা তাদের আরও বেশি কষ্ট দিচ্ছে।

ফাইজার আরেক মামা, কাতার প্রবাসী মামুন হোসেন, লাশ দেশে আনার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করছেন। তিনি বাংলাদেশ ও সৌদি সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে বিনীত অনুরোধ জানিয়েছেন যেন তারা এই অসহায় পরিবারকে সাহায্য করে এবং নিহতদের লাশ দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করে। তিনি আরও জানান যে, নিহত মিজানুর রহমানের ব্যবসায়িক অংশীদারদের আচরণও তাদের কাছে পছন্দ হচ্ছে না, কারণ তারা দায়িত্ববোধ দেখাচ্ছেন না।

এই মর্মান্তিক ঘটনাটি একটি পরিবারের স্বপ্ন ভেঙে দিয়েছে এবং একটি শিশুর ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত করে তুলেছে। ছোট্ট ফাইজার জন্য এখন প্রয়োজন শুধু ভালোবাসা, সান্ত্বনা এবং তার প্রিয়জনদের শেষ বিদায় জানানোর সুযোগ।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বঙ্গোপসাগরে আমাদের কৌশলগত ভবিষ্যৎ

স্বজন হারানোর বেদনা, ছোট্ট ফাইজার অজানা ভবিষ্যৎ: মর্গে অপেক্ষায় বাবা-মা-বোনদের নিথর দেহ

আপডেট সময় : ০৯:৫৫:৩৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

সৌদি আরবের মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় বাবা, মা এবং দুই বোনকে হারিয়ে দেশে ফিরেছে ১১ বছর বয়সী ফাইজা আক্তার। সে জানে না, তার প্রিয়জনদের নিথর দেহগুলো এখন মর্গে অপেক্ষায়। তার সরল মনে এখনো রয়েছে ঈদ করার স্বপ্ন, বাবা-মা আর বোনদের সাথে দেশে ফেরার আনন্দ। কিন্তু এই আনন্দ ফিকে হয়ে গেছে এক ভয়াবহ সত্যের আড়ালে।

গত ৩ ফেব্রুয়ারি, ওমরা পালনের জন্য সৌদি আরবে গিয়েছিলেন মিজানুর রহমান (৪০), তার স্ত্রী মেহের আফরোজ সুমী (৩০) এবং তাদের তিন কন্যা – ১৩ বছর বয়সী মোহনা, ১১ বছর বয়সী ফাইজা এবং দেড় বছর বয়সী সুবাহ। ওমরা শেষে ফেরার পথে, গত ১৬ ফেব্রুয়ারি, সৌদি আরবের আবহা এলাকায় এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান মিজানুর রহমান, মেহের আফরোজ সুমী, বড় মেয়ে মোহনা এবং সবচেয়ে ছোট মেয়ে সুবাহ। এই দুর্ঘটনায় গাড়ি চালক মোহাম্মদ জিলানী বাবরও নিহত হন।

দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত ফাইজা দীর্ঘ এক সপ্তাহ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছে। সে শুধু এটুকুই জানে যে সে অসুস্থ এবং মামার সাথে দেশে ফিরে এসেছে। সে এখনও জানে না যে তার বাবা-মা এবং দুই বোন আর কখনো ফিরে আসবে না। সে এখনো বিশ্বাস করে, তারা সবাই ঈদের আগেই দেশে ফিরবে এবং একসাথে ঈদ করবে।

সোমবার রাতে, ফাইজার মামা আজহারুল ইসলাম সুমনের তত্ত্বাবধানে এবং মামা তানভীর আহম্মেদের সহায়তায় ফাইজা বাংলাদেশে ফিরে আসে। গত দুইদিন ধরে ফাইজার নানা বাড়িতে শত শত মানুষ ভিড় করছেন তাকে দেখতে এবং সান্ত্বনা দিতে। কিন্তু এই ভিড়ের মাঝেও ফাইজার মনে রয়ে গেছে তার প্রিয়জনদের ফিরে আসার আকুতি।

এদিকে, নিহতদের লাশ দেশে ফিরিয়ে আনা নিয়ে পরিবারে চলছে চরম উদ্বেগ। লাশ দেশে আনতে প্রায় ১৫-১৬ লাখ টাকার প্রয়োজন, যা এই পরিবারের পক্ষে জোগাড় করা কঠিন। ফাইজার চাচা বাহারুল আলম জানিয়েছেন, এত টাকা জোগাড় করা সম্ভব না হলে হয়তো তাদের লাশ সৌদি আরবেই দাফন করতে হবে। এই চিন্তা তাদের আরও বেশি কষ্ট দিচ্ছে।

ফাইজার আরেক মামা, কাতার প্রবাসী মামুন হোসেন, লাশ দেশে আনার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করছেন। তিনি বাংলাদেশ ও সৌদি সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে বিনীত অনুরোধ জানিয়েছেন যেন তারা এই অসহায় পরিবারকে সাহায্য করে এবং নিহতদের লাশ দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করে। তিনি আরও জানান যে, নিহত মিজানুর রহমানের ব্যবসায়িক অংশীদারদের আচরণও তাদের কাছে পছন্দ হচ্ছে না, কারণ তারা দায়িত্ববোধ দেখাচ্ছেন না।

এই মর্মান্তিক ঘটনাটি একটি পরিবারের স্বপ্ন ভেঙে দিয়েছে এবং একটি শিশুর ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত করে তুলেছে। ছোট্ট ফাইজার জন্য এখন প্রয়োজন শুধু ভালোবাসা, সান্ত্বনা এবং তার প্রিয়জনদের শেষ বিদায় জানানোর সুযোগ।