চলতি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আসর যেন ছক্কার এক নতুন ইতিহাস রচনা করছে। মাত্র ৩২টি ম্যাচ শেষেই ব্যাটারদের ব্যাট থেকে উড়ে গেছে ৪৩১টি ছক্কা, যা টুর্নামেন্টের পূর্বের যেকোনো আসরের রেকর্ড ভাঙার পথে এক শক্তিশালী ইঙ্গিত। যেভাবে ঝড়ো ব্যাটিং প্রদর্শিত হচ্ছে, তাতে এবারের আসরেই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ ছক্কার রেকর্ডটি ভেঙে যাওয়ার প্রবল সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।
গত আইসিসি পুরুষ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে মোট ৫২টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছিল এবং সেখানে মোট ৫১৭টি ছক্কা হাঁকানো হয়েছিল, যা ছিল এক আসরে সর্বোচ্চ ছক্কার রেকর্ড। কিন্তু এবারের আসরে এখনো ফাইনালসহ ২৩টি ম্যাচ বাকি থাকলেও, ৩২তম ম্যাচেই ছক্কার সংখ্যা ৪৩১-এ পৌঁছে গেছে। এই পরিসংখ্যানই বলে দিচ্ছে, নতুন রেকর্ড গড়ার অপেক্ষা আর বেশি দিন নয়।
২০২৪ সালের বিশ্বকাপে ম্যাচপ্রতি ছক্কার গড় ছিল ৯.৯৪। তবে এবারের আসরে সেই গড় চমকপ্রদভাবে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩.৪৭-এ। অর্থাৎ, প্রতিটি ম্যাচেই আগের আসরের তুলনায় গড়ে প্রায় সাড়ে তিনটি করে বেশি ছক্কা দেখা যাচ্ছে। এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে, টুর্নামেন্ট শেষে মোট ছক্কার সংখ্যা ৬০০-এর কাছাকাছি পৌঁছে গেলেও অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।
তবে শুধু ছক্কার সংখ্যাই নয়, বদলে গেছে ব্যাটারদের সামগ্রিক ব্যাটিং মানসিকতাও। গত বিশ্বকাপে ব্যাটারদের সম্মিলিত রান তোলার গড় ছিল ১০৯.৯৬। এবার সেই গড় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩৬.৪২-এ, যা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে এক আসরে সর্বোচ্চ। প্রথম ছয় ওভারের পাওয়ার প্লে থেকে শুরু করে ইনিংসের শেষ ওভার পর্যন্ত, ব্যাটারদের আগ্রাসী মনোভাব যেন নিরবচ্ছিন্নভাবে দেখা যাচ্ছে।
সবচেয়ে বড় প্রশ্ন এখন একটাই – এই রেকর্ড কি ভাঙবে? টুর্নামেন্টের ধারাবাহিক পারফরম্যান্স এবং ব্যাটারদের আত্মবিশ্বাস বিবেচনা করলে, উত্তরটি প্রায় নিশ্চিতভাবেই ‘হ্যাঁ’। এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা, কবে এই ঐতিহাসিক মুহূর্তটি অর্জিত হবে, সেটাই দেখার বিষয়।
রিপোর্টারের নাম 
























