ঢাকা ০৭:৪৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

তৃণমূল পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা শক্তিশালীকরণ: এক লাখ নতুন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের উদ্যোগ

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৫:৪৩:৪২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

দেশের তৃণমূল পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়নে সরকার এক লাখ নতুন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের একটি বৃহৎ পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। বৃহস্পতিবার সিরাজগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল পরিদর্শনকালে উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত এই তথ্য জানান।

প্রতিমন্ত্রী স্বীকার করেন যে, দেশব্যাপী হাসপাতালগুলোতে জনবলের তীব্র সংকট বিদ্যমান। তিনি বলেন, “লোকবলের সংকট একটি সর্বব্যাপী সমস্যা। কেবল নতুন নিয়োগই নয়, বর্তমানে যে জনবল রয়েছে তাদের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করার জন্যও আমরা কাজ করছি।” তিনি আরও জানান যে, কর্মরত স্বাস্থ্যকর্মীদের নির্দিষ্ট স্থানে উপস্থিত নিশ্চিত করার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে, যাতে রোগীরা তাদের প্রয়োজনীয় সময়ে চিকিৎসাসেবা পেতে পারেন।

রোগীদের কাছ থেকে প্রাপ্ত অভিযোগের ভিত্তিতে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “অনেক সময় রোগীরা সঠিক সময়ে সঠিক চিকিৎসা পান না, কারণ যাদের থাকার কথা তারা অনুপস্থিত থাকেন।” তিনি উল্লেখ করেন যে, সরকারের নির্বাচনি ইশতেহারে স্বাস্থ্যখাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। এই প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে, স্বাস্থ্যখাতে বাজেট বৃদ্ধি এবং একেবারে তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত মানসম্মত চিকিৎসা সেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। পাশাপাশি, এই নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মীদের যথাযথ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাদের দক্ষতা বৃদ্ধি করা হবে, যা প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

ডা. এম এ মুহিত হাসপাতালের পরিবেশ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “হাসপাতালের সামনে অবৈধ স্থাপনা এবং দালালদের দৌরাত্ম্যের মতো সমস্যাগুলো কেবল কেন্দ্রীয় সরকারের নির্দেশনা দিয়ে রাতারাতি সমাধান করা সম্ভব নয়।” তিনি আরও বলেন, “গত ১৭ বছরে আমরা জাতি হিসেবে দুর্নীতির একটি গভীর সমুদ্রে নিমজ্জিত হয়ে গেছি, যার ফলে লক্ষ কোটি টাকার সম্পদ বিদেশে পাচার হয়েছে।” এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য তিনি একটি সামাজিক আন্দোলনের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন, যেখানে প্রত্যেক নাগরিকের অধিকার নিশ্চিত করার জন্য সরকার এবং রাজনৈতিক দলগুলো সম্মিলিতভাবে কাজ করবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সংস্কার সংসদে না হলে ফয়সালা হবে রাজপথে: এনসিপি আহ্বায়ক নাহিদ

তৃণমূল পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা শক্তিশালীকরণ: এক লাখ নতুন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের উদ্যোগ

আপডেট সময় : ০৫:৪৩:৪২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

দেশের তৃণমূল পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়নে সরকার এক লাখ নতুন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের একটি বৃহৎ পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। বৃহস্পতিবার সিরাজগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল পরিদর্শনকালে উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত এই তথ্য জানান।

প্রতিমন্ত্রী স্বীকার করেন যে, দেশব্যাপী হাসপাতালগুলোতে জনবলের তীব্র সংকট বিদ্যমান। তিনি বলেন, “লোকবলের সংকট একটি সর্বব্যাপী সমস্যা। কেবল নতুন নিয়োগই নয়, বর্তমানে যে জনবল রয়েছে তাদের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করার জন্যও আমরা কাজ করছি।” তিনি আরও জানান যে, কর্মরত স্বাস্থ্যকর্মীদের নির্দিষ্ট স্থানে উপস্থিত নিশ্চিত করার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে, যাতে রোগীরা তাদের প্রয়োজনীয় সময়ে চিকিৎসাসেবা পেতে পারেন।

রোগীদের কাছ থেকে প্রাপ্ত অভিযোগের ভিত্তিতে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “অনেক সময় রোগীরা সঠিক সময়ে সঠিক চিকিৎসা পান না, কারণ যাদের থাকার কথা তারা অনুপস্থিত থাকেন।” তিনি উল্লেখ করেন যে, সরকারের নির্বাচনি ইশতেহারে স্বাস্থ্যখাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। এই প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে, স্বাস্থ্যখাতে বাজেট বৃদ্ধি এবং একেবারে তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত মানসম্মত চিকিৎসা সেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। পাশাপাশি, এই নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মীদের যথাযথ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাদের দক্ষতা বৃদ্ধি করা হবে, যা প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

ডা. এম এ মুহিত হাসপাতালের পরিবেশ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “হাসপাতালের সামনে অবৈধ স্থাপনা এবং দালালদের দৌরাত্ম্যের মতো সমস্যাগুলো কেবল কেন্দ্রীয় সরকারের নির্দেশনা দিয়ে রাতারাতি সমাধান করা সম্ভব নয়।” তিনি আরও বলেন, “গত ১৭ বছরে আমরা জাতি হিসেবে দুর্নীতির একটি গভীর সমুদ্রে নিমজ্জিত হয়ে গেছি, যার ফলে লক্ষ কোটি টাকার সম্পদ বিদেশে পাচার হয়েছে।” এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য তিনি একটি সামাজিক আন্দোলনের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন, যেখানে প্রত্যেক নাগরিকের অধিকার নিশ্চিত করার জন্য সরকার এবং রাজনৈতিক দলগুলো সম্মিলিতভাবে কাজ করবে।