ঢাকা ০৭:৪৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

জ্ঞান ও মেধা ভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার বিকল্প নেই: প্রধানমন্ত্রী

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৫:৪৪:৫৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

## জ্ঞানভিত্তিক রাষ্ট্রই সমৃদ্ধির চাবিকাঠি: প্রধানমন্ত্রী

ঢাকা: প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে নিজেদের সমৃদ্ধি ও সম্মানের সঙ্গে টিকিয়ে রাখতে হলে জ্ঞান ও মেধাভিত্তিক রাষ্ট্র ও সমাজ প্রতিষ্ঠার কোনো বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, বর্তমান বিশ্বায়নের যুগে মাতৃভাষার পাশাপাশি একাধিক ভাষা শেখা জরুরি এবং এর মাধ্যমে নিজেদের জ্ঞানে-বিজ্ঞানে ও প্রযুক্তিতে সমৃদ্ধ করতে হবে।

বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর ‘বাংলা একাডেমি’ প্রাঙ্গণে ‘বহুমাত্রিক বাংলাদেশ’ স্লোগানে আয়োজিত ‘অমর একুশে বইমেলা ২০২৬’ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ৫২’র ভাষা শহীদদের আত্মত্যাগের চেতনা ধারণ করে আজকের এই বাংলা একাডেমি। এই একাডেমির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আয়োজক অমর একুশে বইমেলাকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উন্নীত করার সুযোগ রয়েছে। আগামী বছরগুলোতে ‘অমর একুশে আন্তর্জাতিক বইমেলা’ আয়োজনের বিষয়টি বিবেচনা করার অনুরোধ জানান তিনি। এতে বিশ্ব সাহিত্যের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার পাশাপাশি বহু ভাষা ও সংস্কৃতি শেখা-জানার প্রতি নাগরিকরা আগ্রহী হবে।

বইমেলাকে শুধু নির্দিষ্ট সময়ে ও স্থানে সীমাবদ্ধ না রেখে সারা বছর দেশের সব বিভাগ, জেলা ও উপজেলায় আয়োজনের আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, বইমেলা আয়োজনে প্রকাশকগণ উদ্যোগী হলে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেবে।

তরুণ প্রজন্মকে বই পড়ায় আগ্রহী করে তোলার ওপর জোর দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তথ্যপ্রযুক্তির এই যুগে ইন্টারনেট আসক্তি তরুণদের বই বিমুখ করে তুলছে। যদিও অনলাইনেও বই পড়া যায়, তবে গবেষকদের মতে, বইয়ের পাতায় মুদ্রিত অক্ষরের গভীরতা মস্তিষ্কে যেভাবে প্রভাব ফেলে, কম্পিউটার মনিটরে তা ততটা সম্ভব নয়। উন্নত দেশগুলোর গবেষকরাও ইন্টারনেট আসক্তির ফলে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ হারানোর ঝুঁকির বিষয়ে সতর্ক করেছেন। তাই, ইন্টারনেট জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হলেও এর নেতিবাচক দিক সম্পর্কে সচেতন থাকতে হবে এবং বইয়ের প্রতি তরুণদের আগ্রহ বাড়াতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশে জনগণের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকার দেশটিকে জ্ঞানের আলোয় আলোকিত করতে চায়। অমর একুশে বইমেলা কেবল বই বেচাকেনার মেলা নয়, এটি শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক বিকাশের সূতিকাগার হিসেবে গড়ে উঠুক। মাসব্যাপী আলোচনা, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা এবং শিশু-কিশোরদের বিভিন্ন প্রতিযোগিতার আয়োজন নতুন প্রজন্মের সুপ্ত প্রতিভার বিকাশে সহায়ক হবে।

তিনি প্রত্যাশা ব্যক্ত করে বলেন, অমর একুশে বইমেলা বাংলাদেশের মানুষকে আরও বইপ্রেমী করে তুলবে এবং নিয়মিত বই পড়ায় আগ্রহী করে তুলবে। জার্মান দার্শনিক মারকুইস সিসেরোর উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, ‘বই ছাড়া ঘর আত্মা ছাড়া দেহের মতো’।

বাংলা একাডেমি মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম তার স্বাগত বক্তব্যে বলেন, রোজা ও ঈদের উৎসবমুখরতার সাথে বইমেলার ঐতিহ্য ও উৎসব প্রবণতা একাকার হয়ে এক নতুন অভিজ্ঞতার সৃষ্টি করবে। তিনি সবাইকে বইমেলা উদযাপনের আমন্ত্রণ জানান এবং আশা করেন, এবার ঈদের উপহার হিসেবে বই একটি বিশেষ স্থান দখল করবে।

সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বলেন, এই মেলা কেবল বই বিতরণের নয়, এটি আমাদের আত্মপরিচয়ের উৎস। বই জ্ঞানের আলোকবর্তিকা। তথ্যপ্রযুক্তির যুগে বই বিমুখ না হয়ে সাহিত্য ও সংস্কৃতি চর্চায় দৃঢ় অঙ্গীকারবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। তিনি বলেন, একটি বই একটি জীবন বদলে দিতে পারে, একটি চিন্তা সমাজ বদলে দিতে পারে। আসুন বই পাঠের মাধ্যমে একটি আলোকিত সমাজ ও রাষ্ট্র গড়ে তুলি।

বাংলা একাডেমির সভাপতি অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক ঈদ উপলক্ষে স্বজনদের অন্তত একটি বই উপহার দেওয়ার অনুরোধ জানান এবং জ্ঞানভিত্তিক ও মেধাভিত্তিক সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলার জন্য সকলকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মফিদুর রহমান এবং বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা বক্তব্য রাখেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সহধর্মিণী ডা. জোবায়দা রহমান ও কন্যা জাইমা রহমান উপস্থিত ছিলেন। উদ্বোধনের পর প্রধানমন্ত্রী পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বইমেলা ঘুরে দেখেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সংস্কার সংসদে না হলে ফয়সালা হবে রাজপথে: এনসিপি আহ্বায়ক নাহিদ

জ্ঞান ও মেধা ভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার বিকল্প নেই: প্রধানমন্ত্রী

আপডেট সময় : ০৫:৪৪:৫৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

## জ্ঞানভিত্তিক রাষ্ট্রই সমৃদ্ধির চাবিকাঠি: প্রধানমন্ত্রী

ঢাকা: প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে নিজেদের সমৃদ্ধি ও সম্মানের সঙ্গে টিকিয়ে রাখতে হলে জ্ঞান ও মেধাভিত্তিক রাষ্ট্র ও সমাজ প্রতিষ্ঠার কোনো বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, বর্তমান বিশ্বায়নের যুগে মাতৃভাষার পাশাপাশি একাধিক ভাষা শেখা জরুরি এবং এর মাধ্যমে নিজেদের জ্ঞানে-বিজ্ঞানে ও প্রযুক্তিতে সমৃদ্ধ করতে হবে।

বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর ‘বাংলা একাডেমি’ প্রাঙ্গণে ‘বহুমাত্রিক বাংলাদেশ’ স্লোগানে আয়োজিত ‘অমর একুশে বইমেলা ২০২৬’ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ৫২’র ভাষা শহীদদের আত্মত্যাগের চেতনা ধারণ করে আজকের এই বাংলা একাডেমি। এই একাডেমির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আয়োজক অমর একুশে বইমেলাকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উন্নীত করার সুযোগ রয়েছে। আগামী বছরগুলোতে ‘অমর একুশে আন্তর্জাতিক বইমেলা’ আয়োজনের বিষয়টি বিবেচনা করার অনুরোধ জানান তিনি। এতে বিশ্ব সাহিত্যের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার পাশাপাশি বহু ভাষা ও সংস্কৃতি শেখা-জানার প্রতি নাগরিকরা আগ্রহী হবে।

বইমেলাকে শুধু নির্দিষ্ট সময়ে ও স্থানে সীমাবদ্ধ না রেখে সারা বছর দেশের সব বিভাগ, জেলা ও উপজেলায় আয়োজনের আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, বইমেলা আয়োজনে প্রকাশকগণ উদ্যোগী হলে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেবে।

তরুণ প্রজন্মকে বই পড়ায় আগ্রহী করে তোলার ওপর জোর দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তথ্যপ্রযুক্তির এই যুগে ইন্টারনেট আসক্তি তরুণদের বই বিমুখ করে তুলছে। যদিও অনলাইনেও বই পড়া যায়, তবে গবেষকদের মতে, বইয়ের পাতায় মুদ্রিত অক্ষরের গভীরতা মস্তিষ্কে যেভাবে প্রভাব ফেলে, কম্পিউটার মনিটরে তা ততটা সম্ভব নয়। উন্নত দেশগুলোর গবেষকরাও ইন্টারনেট আসক্তির ফলে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ হারানোর ঝুঁকির বিষয়ে সতর্ক করেছেন। তাই, ইন্টারনেট জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হলেও এর নেতিবাচক দিক সম্পর্কে সচেতন থাকতে হবে এবং বইয়ের প্রতি তরুণদের আগ্রহ বাড়াতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশে জনগণের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকার দেশটিকে জ্ঞানের আলোয় আলোকিত করতে চায়। অমর একুশে বইমেলা কেবল বই বেচাকেনার মেলা নয়, এটি শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক বিকাশের সূতিকাগার হিসেবে গড়ে উঠুক। মাসব্যাপী আলোচনা, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা এবং শিশু-কিশোরদের বিভিন্ন প্রতিযোগিতার আয়োজন নতুন প্রজন্মের সুপ্ত প্রতিভার বিকাশে সহায়ক হবে।

তিনি প্রত্যাশা ব্যক্ত করে বলেন, অমর একুশে বইমেলা বাংলাদেশের মানুষকে আরও বইপ্রেমী করে তুলবে এবং নিয়মিত বই পড়ায় আগ্রহী করে তুলবে। জার্মান দার্শনিক মারকুইস সিসেরোর উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, ‘বই ছাড়া ঘর আত্মা ছাড়া দেহের মতো’।

বাংলা একাডেমি মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম তার স্বাগত বক্তব্যে বলেন, রোজা ও ঈদের উৎসবমুখরতার সাথে বইমেলার ঐতিহ্য ও উৎসব প্রবণতা একাকার হয়ে এক নতুন অভিজ্ঞতার সৃষ্টি করবে। তিনি সবাইকে বইমেলা উদযাপনের আমন্ত্রণ জানান এবং আশা করেন, এবার ঈদের উপহার হিসেবে বই একটি বিশেষ স্থান দখল করবে।

সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বলেন, এই মেলা কেবল বই বিতরণের নয়, এটি আমাদের আত্মপরিচয়ের উৎস। বই জ্ঞানের আলোকবর্তিকা। তথ্যপ্রযুক্তির যুগে বই বিমুখ না হয়ে সাহিত্য ও সংস্কৃতি চর্চায় দৃঢ় অঙ্গীকারবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। তিনি বলেন, একটি বই একটি জীবন বদলে দিতে পারে, একটি চিন্তা সমাজ বদলে দিতে পারে। আসুন বই পাঠের মাধ্যমে একটি আলোকিত সমাজ ও রাষ্ট্র গড়ে তুলি।

বাংলা একাডেমির সভাপতি অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক ঈদ উপলক্ষে স্বজনদের অন্তত একটি বই উপহার দেওয়ার অনুরোধ জানান এবং জ্ঞানভিত্তিক ও মেধাভিত্তিক সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলার জন্য সকলকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মফিদুর রহমান এবং বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা বক্তব্য রাখেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সহধর্মিণী ডা. জোবায়দা রহমান ও কন্যা জাইমা রহমান উপস্থিত ছিলেন। উদ্বোধনের পর প্রধানমন্ত্রী পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বইমেলা ঘুরে দেখেন।