ঢাকা ০৯:৫৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

মাঠের অতন্দ্র প্রহরী থেকে ক্রীড়াঙ্গনের অভিভাবক: আমিনুল হকের নতুন ইনিংস

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:১১:৫০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৪ বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশের ক্রীড়া ইতিহাসে এক অনন্য মাইলফলক স্পর্শ করলেন জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক কিংবদন্তি গোলরক্ষক ও অধিনায়ক আমিনুল হক। মাঠের লড়াইয়ে দেশকে অসংখ্যবার গর্বিত করা এই ফুটবলার এবার রাষ্ট্র পরিচালনার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে অভিষিক্ত হয়েছেন। দেশের তৃতীয় ফুটবলার হিসেবে মন্ত্রিসভায় ঠাঁই করে নিয়ে তিনি যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন। গতকাল জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এই পদের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন।

আমিনুল হকের এই অর্জন কেবল ব্যক্তিগত নয়, বরং দেশের ক্রীড়াঙ্গনের জন্যও একটি বিশেষ ঘটনা। এর আগে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন এবং আরিফ খান জয়ের পর তৃতীয় কোনো ফুটবলার হিসেবে তিনি মন্ত্রিসভায় স্থান পেলেন। ১৯৯২ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ দুই দশকের ফুটবল ক্যারিয়ারে আমিনুল ছিলেন দেশের ফুটবলের আস্থার প্রতীক। বিশেষ করে ২০০৩ সালে বাংলাদেশের সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ জয়ের পেছনে অধিনায়ক ও গোলরক্ষক হিসেবে তার অবদান স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।

মাঠের ক্যারিয়ারে দেশের শীর্ষস্থানীয় ক্লাব মোহামেডান স্পোর্টিং, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, ফরাশগঞ্জ ও শেখ জামালের হয়ে দাপটের সঙ্গে খেলেছেন আমিনুল। ১৯৯৯ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত জাতীয় দলের হয়ে ৫০টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে গোলপোস্ট আগলে রেখেছেন তিনি। তার প্রতিভা এতটাই উজ্জ্বল ছিল যে, তৎকালীন কোচ জর্জ কোটান তাকে ইউরোপের লিগে খেলার যোগ্য মনে করতেন। এমনকি সৌদি আরবের বিখ্যাত ক্লাব আল হিলাল থেকেও তিনি প্রস্তাব পেয়েছিলেন। তবে বিদেশের মাটিতে না খেললেও দেশের ফুটবলে তিনি হয়ে উঠেছিলেন এক অবিসংবাদিত নায়ক।

খেলোয়াড়ি জীবন শেষে যখন অনেকেই আরামদায়ক জীবন বেছে নেন, আমিনুল হক তখন বেছে নিয়েছিলেন রাজনীতির বন্ধুর পথ। ২০১৪ সালে তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলে (বিএনপি) যোগ দেন। তৎকালীন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিরোধী শিবিরে যোগ দিয়ে তাকে নানা প্রতিকূলতার মোকাবিলা করতে হয়েছে। একাধিকবার কারাবরণ এবং অসংখ্য মামলার শিকার হলেও তিনি মাঠের মতোই রাজনীতির ময়দানেও আপসহীন থেকেছেন। দলের প্রতি তার এই একনিষ্ঠতার প্রতিদান হিসেবে তিনি বিএনপির কেন্দ্রীয় ক্রীড়া সম্পাদক এবং ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়কের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন।

২০২৬ সালের ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৬ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন আমিনুল। নির্বাচনে জয়ী হতে না পারলেও তার দক্ষতা ও ক্রীড়াঙ্গন নিয়ে সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার ওপর আস্থা রেখেছেন দলের শীর্ষ নেতৃত্ব। বিএনপি চেয়ারপারসন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বিশেষ বিবেচনায় তাকে টেকনোক্র্যাট কোটায় প্রতিমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, নির্বাচনের আগেই দেশের ক্রীড়াঙ্গনের আমূল পরিবর্তনের লক্ষ্যে একটি মহাপরিকল্পনা তৈরি করেছিলেন আমিনুল হক, যা দলের নির্বাচনী ইশতেহারেও প্রতিফলিত হয়েছে। ক্রীড়াঙ্গনের নাড়িনক্ষত্র জানা এই সাবেক অধিনায়কের হাত ধরে দেশের ঝিমিয়ে পড়া ক্রীড়া খাত নতুন প্রাণ ফিরে পাবে—এমনটাই প্রত্যাশা সাধারণ মানুষ ও ক্রীড়াপ্রেমীদের। মাঠের সেই ‘অতন্দ্র প্রহরী’ এখন পুরো দেশের ক্রীড়াঙ্গনের অভিভাবক হিসেবে সফল হবেন, এটাই এখন সময়ের দাবি।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে আরাকান আর্মির প্রধানের অভিনন্দন, নতুন বন্ধুত্বের বার্তা

মাঠের অতন্দ্র প্রহরী থেকে ক্রীড়াঙ্গনের অভিভাবক: আমিনুল হকের নতুন ইনিংস

আপডেট সময় : ০৮:১১:৫০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বাংলাদেশের ক্রীড়া ইতিহাসে এক অনন্য মাইলফলক স্পর্শ করলেন জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক কিংবদন্তি গোলরক্ষক ও অধিনায়ক আমিনুল হক। মাঠের লড়াইয়ে দেশকে অসংখ্যবার গর্বিত করা এই ফুটবলার এবার রাষ্ট্র পরিচালনার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে অভিষিক্ত হয়েছেন। দেশের তৃতীয় ফুটবলার হিসেবে মন্ত্রিসভায় ঠাঁই করে নিয়ে তিনি যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন। গতকাল জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এই পদের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন।

আমিনুল হকের এই অর্জন কেবল ব্যক্তিগত নয়, বরং দেশের ক্রীড়াঙ্গনের জন্যও একটি বিশেষ ঘটনা। এর আগে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন এবং আরিফ খান জয়ের পর তৃতীয় কোনো ফুটবলার হিসেবে তিনি মন্ত্রিসভায় স্থান পেলেন। ১৯৯২ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ দুই দশকের ফুটবল ক্যারিয়ারে আমিনুল ছিলেন দেশের ফুটবলের আস্থার প্রতীক। বিশেষ করে ২০০৩ সালে বাংলাদেশের সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ জয়ের পেছনে অধিনায়ক ও গোলরক্ষক হিসেবে তার অবদান স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।

মাঠের ক্যারিয়ারে দেশের শীর্ষস্থানীয় ক্লাব মোহামেডান স্পোর্টিং, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, ফরাশগঞ্জ ও শেখ জামালের হয়ে দাপটের সঙ্গে খেলেছেন আমিনুল। ১৯৯৯ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত জাতীয় দলের হয়ে ৫০টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে গোলপোস্ট আগলে রেখেছেন তিনি। তার প্রতিভা এতটাই উজ্জ্বল ছিল যে, তৎকালীন কোচ জর্জ কোটান তাকে ইউরোপের লিগে খেলার যোগ্য মনে করতেন। এমনকি সৌদি আরবের বিখ্যাত ক্লাব আল হিলাল থেকেও তিনি প্রস্তাব পেয়েছিলেন। তবে বিদেশের মাটিতে না খেললেও দেশের ফুটবলে তিনি হয়ে উঠেছিলেন এক অবিসংবাদিত নায়ক।

খেলোয়াড়ি জীবন শেষে যখন অনেকেই আরামদায়ক জীবন বেছে নেন, আমিনুল হক তখন বেছে নিয়েছিলেন রাজনীতির বন্ধুর পথ। ২০১৪ সালে তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলে (বিএনপি) যোগ দেন। তৎকালীন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিরোধী শিবিরে যোগ দিয়ে তাকে নানা প্রতিকূলতার মোকাবিলা করতে হয়েছে। একাধিকবার কারাবরণ এবং অসংখ্য মামলার শিকার হলেও তিনি মাঠের মতোই রাজনীতির ময়দানেও আপসহীন থেকেছেন। দলের প্রতি তার এই একনিষ্ঠতার প্রতিদান হিসেবে তিনি বিএনপির কেন্দ্রীয় ক্রীড়া সম্পাদক এবং ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়কের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন।

২০২৬ সালের ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৬ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন আমিনুল। নির্বাচনে জয়ী হতে না পারলেও তার দক্ষতা ও ক্রীড়াঙ্গন নিয়ে সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার ওপর আস্থা রেখেছেন দলের শীর্ষ নেতৃত্ব। বিএনপি চেয়ারপারসন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বিশেষ বিবেচনায় তাকে টেকনোক্র্যাট কোটায় প্রতিমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, নির্বাচনের আগেই দেশের ক্রীড়াঙ্গনের আমূল পরিবর্তনের লক্ষ্যে একটি মহাপরিকল্পনা তৈরি করেছিলেন আমিনুল হক, যা দলের নির্বাচনী ইশতেহারেও প্রতিফলিত হয়েছে। ক্রীড়াঙ্গনের নাড়িনক্ষত্র জানা এই সাবেক অধিনায়কের হাত ধরে দেশের ঝিমিয়ে পড়া ক্রীড়া খাত নতুন প্রাণ ফিরে পাবে—এমনটাই প্রত্যাশা সাধারণ মানুষ ও ক্রীড়াপ্রেমীদের। মাঠের সেই ‘অতন্দ্র প্রহরী’ এখন পুরো দেশের ক্রীড়াঙ্গনের অভিভাবক হিসেবে সফল হবেন, এটাই এখন সময়ের দাবি।