যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর জাতীয় দলের সাবেক ফুটবলার ও অধিনায়ক আমিনুল হক এক নতুন স্বপ্ন নিয়ে দেশবাসীর সামনে উপস্থিত হয়েছেন। সংসদ ভবনে শপথ গ্রহণ শেষে নিজ বাসভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, তাঁর মূল লক্ষ্য হলো একটি “ক্রীড়াবান্ধব বাংলাদেশ” গড়ে তোলা। এই লক্ষ্য অর্জনে তিনি দেশের সকল স্তরের মানুষকে, বিশেষ করে ক্রীড়াসাংবাদিক, ক্রীড়াবিদ এবং ক্রীড়া সংগঠকদের সাথে নিয়ে কাজ করতে চান।
মিরপুরে অনুষ্ঠিত এই সংবাদ সম্মেলনে আমিনুল হক বলেন, “আমরা চাই ক্রীড়াসাংবাদিক, ক্রীড়াবিদ, ক্রীড়াসংগঠক এবং সাধারণ মানুষ যারা রয়েছেন, খেলাধুলাকে যারা পছন্দ করেন, সবাইকে নিয়ে ক্রীড়াবান্ধব দেশ হিসেবে আমরা আমাদের আগামীর বাংলাদেশ গড়ব।” তাঁর এই বক্তব্যে ক্রীড়া উন্নয়নে অন্তর্ভুক্তিমূলক পদ্ধতির উপর জোর দেওয়া হয়েছে।
ক্রিকেট ও ফুটবলের মতো জনপ্রিয় খেলার পাশাপাশি অলিম্পিক ও এশিয়ান গেমসের মতো আন্তর্জাতিক মঞ্চে বাংলাদেশের পদক জয়ের সম্ভাবনা বাড়াতেও তিনি বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেছেন। এই লক্ষ্যে, তিনি চতুর্থ শ্রেণি থেকে খেলাধুলাকে বাধ্যতামূলক করার একটি প্রস্তাবনা তুলে ধরেছেন। এই কার্যক্রমে পাঁচটি ভিন্ন ধরনের খেলা অন্তর্ভুক্ত থাকবে, যার মধ্যে ক্রিকেট ও ফুটবল অবশ্যই থাকবে। তবে, এশিয়ান গেমস বা অলিম্পিকে পদক জয়ের সম্ভাবনা রয়েছে এমন আরও তিনটি খেলাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। আমিনুল হকের মতে, তৃণমূল পর্যায় থেকে এই চর্চা শুরু করলে দীর্ঘমেয়াদে এর ইতিবাচক ফলাফল পাওয়া যাবে।
দেশের দুই কিংবদন্তী ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান ও মাশরাফি বিন মুর্তজার ভবিষ্যৎ নিয়েও প্রতিমন্ত্রী তাঁর ভাবনা ব্যক্ত করেন। তিনি তাঁদের বাংলাদেশের “লিজেন্ডারি ক্রিকেটার” হিসেবে অভিহিত করে সাধুবাদ জানান। তবে, তাঁদের বিরুদ্ধে আনিত মামলা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “যে মামলাগুলো হয়েছে, সেটা রাষ্ট্রীয়ভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণের মাধ্যমে আমরা চাই তারা যাতে দেশে দ্রুত ফিরে আসতে পারে।” তিনি আরও যোগ করেন, “সাকিব আর মাশরাফির বিষয়টি রাষ্ট্রীয় একটি সিদ্ধান্ত। আমি মনে করি এটা আমরা রাষ্ট্রীয়ভাবেই অত্যন্ত নমনীয়ভাবে দেখব।”
নিজের কর্মপরিকল্পনা সম্পর্কে আমিনুল হক জানান যে, আগামী দুদিনের মধ্যেই তিনি বিভিন্ন ফেডারেশনের প্রতিনিধিদের সাথে বৈঠক করবেন। সর্বোপরি, তিনি ক্রীড়াসাংবাদিকদের সাথে আলোচনার মাধ্যমে তাঁদের পরামর্শ নিতে আগ্রহী। তিনি বলেন, “আপনারা যারা ক্রীড়াসাংবাদিক রয়েছেন, তাদের সঙ্গে বসে পরামর্শ করে এবং কাউকে কাউকে দায়িত্ব দেব আমার সঙ্গে কাজ করার জন্য। স্পোর্টস নিয়ে যে পরিকল্পনা রয়েছে, সেই স্পোর্টসে আপনারা যাতে আমার সহকর্মী হিসেবে কাজ করতে পারেন, সেই চেষ্টা থাকবে।” এই কথাগুলো থেকে স্পষ্ট যে, তিনি খেলাধুলাকে এগিয়ে নিতে সকলের সহযোগিতা ও সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রত্যাশা করেন।
রিপোর্টারের নাম 























